কেউ জানে কেউ জানে না (৩২তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম

১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক সচিত্র স্বদেশে একটি তথ্য এবং ইতিহাস ভিত্তিক প্রতিবেদন লিখেছিলাম। শিরোনাম ছিলো ‘বিজয়ের প্রথম উচ্চারণ, মহান বিজয় দিবস উপলে স্বদেশ বিশেষ সংখ্যাতে প্রকাশিত আমার এই লেখাটি খুব সমাদৃত হয়েছিলো। যদিও আমি তখন নগন্যদের চাইতেও এক ধাপ নীচের লেখক। কিন্তু লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ ক’জন বিশেষ ব্যক্তি আমাকে বিশেষভাবে বাহবা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে চরমপত্র খ্যাত এম আর আখতার মুকুল চলচ্চিত্র এশার খান আতাউর রহমান কবি বেগম সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগঠক বেলাল মোহাম্মদ অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান শহীদুল ইসলাম, টি এইচ শিকদার এবং নাসির উদ্দিন ইফসুফ বাচ্চু।
সচিত্র স্বদেশ তখন একটি ঝলমলে আলোচিত আলোকিত সাপ্তাহিক ইতিহাসের বহুমাত্রিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রচ্ছদ কাহিনী হিসেবেও স্থান পেতো। আমার শিক সহ সাংবাদিক খন্দকার হাসনাত করিম ছিলেন এ কাগজের একজন অন্যতম সিপাহসালার। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বিদেশী সাংবাদিকের দৃষ্টিতে শেখ মুজিবের বাংলাদেশ তখন বেশ আলোচিত। আমার সাংবাদিকতা জীবনের শিক, গুরু কিংবা কমান্ডার হিসেবে দু’জনের নাম স্পষ্টারে বড় বড় হরফে লিখতে হবে। তাদের একজন মাহবুবুর রহমান রুশো অন্যজন খন্দকার হাসনাত করিম। এ ছাড়া সানাউল্লাহ নূরী, সিরাজুল হক, সৈয়দ সিরাজুল কবীর সহ স্বনামখ্যাত একজন প্রবীন সাংবাদিকের নিয়মিত উপদেশ পরামর্শ এবং নির্দেশনায় তাঁদের একজন অবুজ হিসেবে উত্তরনের পথ প্রসস্থ করেছে।

সচিত্র স্বদেশে ‘বিজয়ের প্রথম উচ্চরণ নিয়ে আলাপ কালে পিন্টু ভাই লুফে নেন বিষয়টি। মুহূর্তে শিরোনামে বেরিয়ে আসে তার মুখ থেকে। আর আমার স্বপ্ন জাগে এই প্রতিবেদন থেকে এক সময় একটি বই প্রকাশ করবো। পরবর্তীতে বিজয়ের প্রথম উচ্চরণ, গ্রন্থের কাজটি সম্পাদনা করেছি। কিন্তু কোন প্রকাশকের কাছে দেওয়ার সুযোগ পাইনি প্রবাসী হওয়ার কারনে। নি:সন্দেহে বইটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নির্ভেজাল দলিলের মর্যাদা পাবে এবং পেতেই হবে। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে প্রখ্যাত কন্ঠ শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদীর সহযোগিতা পেয়েছিলাম। তিনি তখন কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীতে চাকরী করতেন। তিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা গুলো ইচ্ছেমতো ব্যবহারের সুযোগ দেন। ফটোকপি করার মতো সাহায্যও করেছেন তিনি। তাই একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পীর মর্যাদার তিনি যেমন শ্রদ্ধাম্পদেষু তেমনই মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কর্ম নিয়ে তার প্রসারিত সহযোগিতা কৃতজ্ঞতায় বেঁধে রাখার মতো।

বিজয়ের প্রথম উচ্চরণ শিরোনামের প্রতিবেদন এবং পরবর্তীতে গ্রন্থ প্রকাশের গরেষণাকালে আরও যাদের বিশেষ সহযোগিতা পেয়েছি, তারা হলেন নাসির উদ্দিন, ইউসুফ বাচ্চু, শফিকুল ইসলাম স্বপন, এ কিউ এম আবদুর রউফ, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, সজেয় শ্যাম, শহীদুল ইসলাম, মোবারক হোসেন খান।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। তাই দিনটি আমাদের বিজয় দিবস। এই বিজয়ের প্রথম দিনে অর্থাৎ বাংলাদেশ নামক নতুন স্বাধীন দেশের ১ দিন বয়সে সারা দেশে কি কি ঘটেছিলো। সংবাদ পত্র প্রকাশ রেডিওর অনুষ্ঠান শুরু, বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম পর্দা, প্রথম ঘোষণা, প্রথম গান, প্রথম নাটক অর্থাৎ প্রথম উচ্চারণ এই সব নিয়ে দুর্লভ ছবি সহ একটি ঐতিহাসিক প্রামাণ্য কাজ ছিলো এটা।
জাতীয় সম্প্রাচার কেন্দ্রে মোবারক হোসেন খান তখন রেডিওতে চাকরী করতেন। কুমিল্লার প্রখ্যাত খাঁ পরিবারের একজন সফল পুরুষ। তার বাবা ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ, চাচা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ভাই ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান, শেখ সাদী খান, চাচাতো ভাই ওস্তাদ আলী আকবর খান। মোবারক হোসেন খান ও একজন ওস্তাদ। তিনি সুর বাহারের সুবিখ্যাত ওস্তাদ। কিন্তু সরকারী আমলা হিসেবে তার সাফল্যও কম যায়নি। সর্বশেষে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দুই দফা দায়িত্ব পালন করেন। দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক সহ অসংখ্য পুরস্কার। আমি যথন শাহবাগে তার অফিসে যাই, তখন একজন কন্ঠ শিল্পী বসে ছিলেন তার ক।ে এসেছেন চট্ট্রগ্রাম থেকে। নাম কৈতরুন্নেসা।

(চলবে) 


কেউ জানে কেউ জানেনা (২৯তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম (গত সংখ্যার পর) টিনার অপমৃত্যু একজন নিষ্ঠাবার শিল্পীকে ছিনিয়ে নেয়। দৌলদিয়া ফেরীতে গাড়ী…


কেউ জানে কেউ জানেনা (৩১তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম (গত সংখ্যার পর) ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই কবি সাহিত্যিকদের পরিচিতিমূলক গ্রন্থ সংকলন করেছেন। বাংলা…


কেউ জানে কেউ জানে না (৩২তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম ১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক সচিত্র স্বদেশে একটি তথ্য এবং ইতিহাস ভিত্তিক প্রতিবেদন লিখেছিলাম। শিরোনাম…


Then in time and history (38 issue)

Recapping the story told so far: A young man still in his teens arrives in…


[জাপান কাহিনী ] -প্রথম জাপানী বন্ধু

আশির আহমেদ:: {গত পর্বের কন্টিনিউনিটি দিচ্ছি। আমার পিতৃতুল্য যেই ব্যাক্তির কথা বলছি, উনার নাম আওয়ানো…