জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়। স্থায়ী বসবাসের আবেদনগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সাধারণত একটি পয়েন্ট পদ্ধতির আশ্রয় নেয় এই মন্ত্রণালয়। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জাপান। কারণ জাপানিরা যেমন ভদ্র জাতি তেমনি কর্তব্যপরায়ণও। সেই জানানে মাত্র এক বছরেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন! কীভাবে? দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া জাপানকে পৃথিবীর এক নম্বর সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে চেনেন অনেকেই। প্রযুক্তিতেও জাপানিদের জুড়ি নেই। জাপানকে অনুসরণ করেই আজ চীন প্রযুক্তিতে উন্নত। স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বা পড়াশুনার জন্য তাই অনেকেই জাপানকে বেঁছে নেন। তবে বিদেশী দক্ষ পেশাজীবীদের জাপানে বসবাস উৎসাহিত করতে অভিবাসনের পূর্বের নিয়ম সংস্কার করে পরিবর্তন এনেছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম হলো, পর্যাপ্ত পয়েন্ট অর্জন করতে পারলে যে কেও মাত্র এক বছরেই দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ পাবেন। এ বছরের মার্চ হতে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে সম্প্রতি জাপানের অভিবাসন ব্যুরো জানিয়েছে। ইতিপূর্বে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে দেশটিতে ন্যূনতম ১০ বছর থাকতে হতো। মূলত ২০১২ সালে জাপান সরকার ওই নিয়মটি বদলে ‘পয়েন্ট সিস্টেম’ চালু করেছে। তখন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম থাকার সময় কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। সম্প্রতি দেশটির বিচার বিভাগ তিন বছর পূর্বের ওই নিয়মটি সংস্কারের ঘোষণা দেয়। এতে ডক্টরেট পাওয়া বিদেশীদের জন্য ৩০ ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের জন্য ২০ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষক, গবেষক বা অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে পেশাজীবীরা জাপানে ৩ থেকে ৭ বছর কাজ করলে ৫ হতে ১৫ পয়েন্ট অর্জন করবেন। শুধু তাই নয়, অন্তত ৪টি বিশেষ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনকারী বিদেশীরা পাবেন ২০ বোনাস পয়েন্ট। সেইসঙ্গে জাপানি ভাষায় দক্ষতা থাকলে পাওয়া যাবে আরও ১৫ পয়েন্ট। সবগুলো পয়েন্ট যোগ করে ৭০ পয়েন্ট হলে ৩ বছর জাপানে বসবাস করছেন এমন বিদেশীরা স্থায়ী হওয়ার আবেদন করতে পারবেন। ৮০ পয়েন্টধারীদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ পাবেন এক বছরেই। বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে পেশাগত অর্জন এবং বার্ষিক বেতনের পরিমাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে, অন্তত ৭০ পয়েন্ট পেতে হবে এবং আবেদনকারীকে অবশ্যই জাপানে পাঁচ বছর ধরে বসবাস করতে হবে। মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাগণ বাধ্যতামূলক বসবাসের এই সীমাটিকে তিন বছরে নামিয়ে আনতে চান। আর যে আবেদনকারীর ৮০ বা তার বেশি পয়েন্ট রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও এক বছর কমে যাবে। অন্যদিকে, শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারীরা বেশি পয়েন্ট পাবেন। এছাড়া, আই.টি. কিংবা অন্যান্য বর্ধনশীল ক্ষেত্রের সর্বাধুনিক প্রকল্পে যুক্ত ব্যক্তিরাও বেশি পয়েন্ট পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।প্রায় মাসখানেক নতুন এই প্রস্তাবের ওপর নাগরিক মতামত নেয়ার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। দ্রুত হলে আগামী মার্চ মাসের শেষে এই পদ্ধতি চালু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, জাপানে ১০ হাজারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন যাদের মধ্যে দীর্ঘদিন বসবাস করে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন অনেকেই। এই নীতি বাংলাদেশীদের জন্যও সুযোগ বয়ে আনবে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

পাতাটি ৫৯৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…