নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩। দিনটি ছিল সোমবার। সময় ছিল সকাল ৮টা ৪৩ মিনিট।

৮১ বছর পর ২৫ এপ্রিল ২০১৫ মধ্যদুপুরে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৯। দিনটি ছিল শনিবার। এই ভূমিকম্পে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৬০ জন। ভূমিকম্পে উনিশ শতকে (১৮৩২ সাল) নির্মিত একটি প্রাচীন টাওয়ার ভেঙে গেছে যা গত ১০ বছর ধরে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা ছিল।

ভূমিকম্পের পর পরই বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিক শোক জানানোসহ সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকার ঘোষণা দেয়, যা সত্যিই প্রশংসনীয় ছিল। বসে নেই প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজনও। বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেরণ করে নেপালিদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
মানুষ মানুষের জন্য সেøাগানকে সামনে রেখে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপালি জনগণের পাশে থাকার জন্য এক চ্যারিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। সংগৃহীত অর্থ নেপাল দূতাবাসের মাধ্যমে নেপালি জনগণের জন্য প্রেরণ করে।

৩১ মে রোববার টোকিওর কিতা সিটি ওজি হোকু তোপিয়া প্যাগাসাস হলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের প্রবাসী অংশগ্রহণ করেন। দূতাবাস এবং জাপান সফররত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী সস্ত্রীক উপস্থিত থেকে প্রবাসীদের আয়োজনে অংশ নিলে আয়োজনের মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
জাপান প্রবাসীদের প্রিয় দুটি সাংস্কৃতিক দল ‘উত্তরণ’ ও ‘স্বরলিপি’ এবং প্রবাসী শিল্পীরা অংশ নিয়ে সংীত পরিবেশনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেন। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং উপস্থিত দর্শক শ্রোতা ও অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সম্মিলিত অনুদানের পরিমাণ হয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৫০০ ইয়েন।
সংগৃহীত অর্থের পুরোটাই নেপাল দূতাবাসে হস্তান্তর করা হয়।

২ জুন মঙ্গলবার কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ টোকিওস্থ নেপাল দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করেন। নেপাল দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মদন কুমার ভাট্টারাই প্রবাসী নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ গ্রহণ করেন। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সংগৃহীত অর্থের অঙ্কটা বড় কথা নয়, সবচেয়ে বড় হলো মানবতা। নেপালি জনগণের জন্য বাংলাদেশিদের সহৃদয়তা, সদিচ্ছা এবং স্পিরিট নেপালি জনগণ চির কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষে সুখেন ব্রহ্ম, বাদল চাকলাদার, কাজী এনামুল হক এবং জুয়েল আহসান কামরুল রাষ্ট্রদূতের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। এই সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব দ্য চ্যান্সারি বা দূতালয় প্রধান নূর এ আলম, ইকোনমিক মিনিস্টার জীবন রঞ্জন মজুমদার এবং ‘সাপ্তাহিক’ জাপান প্রতিনিধি রাহমান মনি উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ হস্তান্তর উত্তর এক আলাপচারিতায় রাষ্ট্রদূত মদন কুমার বলেন, ৮১ বছর পর বড় ভূমিকম্প নেপাল পুনর্গঠনে এক বার্তা এনে দিয়েছে। যদিও এমনটি কারোরই কাম্য নয়। তারপরও বেশ কয়েকটি সতর্কবার্তা আমাদের জন্য রয়েছে এই ভূমিকম্পে। আমাদের সেগুলো মাথায় রেখে নেপাল পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।
৩ মে ২০১৫ প্রবাস প্রজন্ম অনুষ্ঠানেও নেপালের জন্য শোক ও সহমর্মিতা জানানো হয়। -রাহমান মনি


জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা…


নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের…


মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫

রাহমান মনি: ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট…


টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ

-মোহাম্মাদ নাহিদ: জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের…