দশদিক মহাদেশ

হোম প্রযুক্তিটোকিও সুসিন কগিয়ে থেকে সনি করপোরেশন

টোকিও সুসিন কগিয়ে থেকে সনি করপোরেশন

আকিও মরিতা এবং মাসারু ইবুকা, জাপানী দুই উদ্যোক্তা। সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে জাপান তখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আজ থেকে ৬৬ বছর আগে আজ অর্থাত্ ৭ মে, ১৯৪৮ সালে এ দুজন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন টোকিও সুসিন কগিয়ো বা টোকিও টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। ঘরে ঘরে রেডিও বা এ জাতীয় ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতেই মনোযোগী হন তারা। স্বপ্ন ছিল এমন এক ডিভাইস উদ্ভাবনের, যেটা রেডিও থেকে সম্প্রচারিত তথ্য সংগ্রহ করে ছাপিয়ে ফেলবে গোটা একটা সংবাদপত্র।
তো উত্পাদিত পণ্য বাজারজাতে জুতসই একটা নাম খুঁজছিলেন এ দুই উদ্যোক্তা। প্রথমে ভাবলেন কোম্পানির আদ্যাক্ষর ব্যবহার করে নাম রাখবেন, অর্থাত্ টিটিকে হবে তাদের ব্র্যান্ড নেম। কিন্তু দেখা গেল, দেশটির এক রেলওয়ে কোম্পানি এ নামেই চলছে। তারপর সিদ্ধান্ত নিলেন কোম্পানির নাম হবে ততসুকো। কিন্তু দেখা গেল, আমেরিকানদের এ নাম উচ্চারণ করতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। এরপর নাম সাব্যস্ত করলেন টোকিও টেলিটেক। সেটাও টিকল না, কারণ এ নামে যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছে এক কোম্পানি।
সবশেষে চূড়ান্ত নাম মনোনীত হলো ‘সনি’। দুটো শব্দের মিশ্রিত রূপ এই সনি। ল্যাটিন শব্দ ‘সোনাস’ হচ্ছে শব্দ বা কম্পনের মূল রূপ। আর ‘সনি’ শব্দটি পঞ্চাশের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহার করা হত শিশু বা কিশোরদের ডাকতে।
হ্যাঁ, আকিও মরিতা এবং মাসারু ইবুকার যে কোম্পানির কথা এতক্ষণ বলছিলাম আমরা, সেটাই আজকের সনি করপোরেশন। বিশ্বের অন্যতম এক ইলেক্ট্রনিক কোম্পানি। পোর্টেবল অডিও প্লেয়ার উদ্ভাবনের মাধ্যমে যারা বদলে দিয়েছিল সঙ্গীত উপভোগের ধরণ।
যে পণ্যটি সনি প্রথম ব্যাপক আকারে বাজারে ছাড়ে তা ছিল কাঠের একটি রাইস কুকার। কিন্তু পণ্যটি ছিল ফ্লপ। কারণ, এতে রান্না করা ভাত কখনো হয়তো শক্ত থাকত, না হয় নরম হয়ে যেত।


পাতাটি ৩৮৩৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।