দশদিক মহাদেশ

হোম প্রবাসী কমিউনিটিমুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান-এর ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৬

মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান-এর ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৬

ঈদ মানে আনন্দ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কিংবা জাতিগতভাবে এই আনন্দ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উৎসব আকারে পালিত হয়ে থাকে ঈদ। এই উৎসব পালনে পারিপার্শ্বিকতা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা সবই অনুকূলে থাকে। ঈদ উপলক্ষে চারিদিক সাজ সাজ রব, কেনাকাটার ধুম, রাষ্ট্রীয় ছুটি এই ধর্মীয় আচার পালনকে উৎসবমুখর করে তোলে সব বয়সীদের একাকার করে।
কিন্তু প্রবাস জীবনে? মুসলিমপ্রধান দেশ না হলে প্রবাসে পারিপার্শ্বিকতায় কোনো প্রভাব পড়ে না। রাষ্ট্রীয় ছুটি তো প্রশ্নই ওঠে না। তাই বলে উৎসবপ্রিয় বাঙালি জাতি এই ধর্মীয় আচার পালন থেকে বিরত থাকতে পারে না। যতই বিদেশ বিভূঁই হোক না কেন, ধর্মীয় আচার তো পালন করতেই হবে।
প্রবাসে সাধারণত কর্মদিবসে সমষ্টিগত উৎসব পালন করা যায় না বিভিন্ন কারণেই। তাই নিকটবর্তী ছুটির দিনটিকেই বেছে নেয় উৎসব পালনে। আর জাপান প্রবাসীদের ঐতিহ্য অনুযায়ী যে কোনো আয়োজনেই সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকে ধর্ম-বর্ণ, আঞ্চলিকতা নির্বিশেষে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ও মাহাত্ম্য সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য জাপানস্থ মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ টোকিওর অদূরে সাইতামা প্রিফেকচার এর মিসাতো সিটির মিসাতো পার্কে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। এ ছাড়াও দূতাবাসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, দল-মত নির্বিশেষে জাপানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এবং স্থানীয় জাপানিদের অংশগ্রহণে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ রোববারের মিসাতো পার্কটি ছিল জাপানের বুকে এক চিলতে বাংলাদেশ। উৎসবমুখর বাংলাদেশ। প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পার্কটি।
আর হবেই না বা কেন, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান নামক সংগঠনটিকে দেখা হয় জাপানে বাংলাদেশ সোসাইটির বিকল্প হিসেবে। আর বিক্রমপুরবাসীদের আতিথেয়তা সর্বজনবিদিত। বিক্রমপুরবাসীরা যেমন খেতে জানে, তেমনি খাওয়াতেও জানে। তাই তো বিক্রমপুরবাসীদের যে কোনো আয়োজনেই সর্বস্তরের প্রবাসীদের ঢল নামে। সাথে যোগ হয় স্থানীয় জাপানিদের। ডা. মাসুদ এসেছিলেন শিজুওকা প্রিফেকচার থেকে, তার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। ছাত্রজীবনে তার কিছু বন্ধু ছিলেন বিক্রমপুরের। তাই তিনি ভুলতে পারেননি বিক্রমপুরবাসীদের আতিথেয়তার কথা। বেশ কয়েকবার তিনি বিক্রমপুর গিয়েছিলেনও। তাই কেবল মাত্র নেট ও পোস্টার দেখেই চলে এসেছেন পরিচিতদের পেলে বাড়তি পাওয়ার আশায়।
কোরবানির মাংসে আপ্যায়ন ছিল ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজনের মূল আকর্ষণ। প্রতিবছরের মতো এবারও বিক্রমপুরবাসীরা আগত অতিথিদের কোরবানির মাংসে আপ্যায়িত করে। সাথে বিক্রমপুরের ঐতিহ্যে বিভিন্ন মুখরোচক খাবারও। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে খাবার মেন্যুতে ভিন্নতা রেখে তাদের প্রতি সম্মান দেখানোর কাজটি মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান জন্মলগ্ন থেকেই করে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সবশেষে ডেজার্ট এবং বিভিন্ন ফলাদিও স্থান পায় বিক্রমপুরের ঐতিহ্য অনুসারে। অতিথিরা তা উপভোগ করেন।
আপ্যায়ন শেষে অতিথিদের সামনে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান-এর লোগো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা ও প্রদর্শন করেন সভাপতি বাদল চাকলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নু। একই সঙ্গে সংগঠনের বিভিন্ন ব্যানারও প্রদর্শন করা হয়।
লোগোটি করে দেন উন্নয়ন সমাজকর্মী ও লেখিকা শেগুফতা শারমিন এবং ব্যানারগুলো ‘সাপ্তাহিক’ সম্পাদক গোলাম মোর্তোজার নির্দেশনায় ‘সাপ্তাহিক’-এর সিনিয়র গ্রাফিক্স ডিজাইনার মনসুর আলম। উপস্থিত সবাই লোগো এবং ব্যানারগুলোর প্রশংসা করে ‘সাপ্তাহিক’ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, জাপান প্রবাসীদের বিশেষ করে প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি বিকাশে ‘সাপ্তাহিক’ সর্বদা পাশে থাকতে চেষ্টা করে।
পরিচিতি পর্ব শেষে শুরু হয় বিনোদনমূলক বিভিন্ন আয়োজন। শিশুদের বিস্কিট দৌড়, মহিলাদের সাঙ্গীতিক বালিশ (মিউজিক্যাল পিলো), পুরুষদের প্রীতি ফুটবল এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত বিংগো গেম ছিল বিনোদনমূলক আয়োজনগুলোর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ।
ছোটদের বিস্কিট দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ইয়ুসরা ইসলাম, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে কাজী ইহাম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে আইরি হারুন। সভাপতি বাদল চাকলাদার, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুর আলী এবং সাধারণ সম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নু যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
প্রীতি ফুটবল খেলায় লাল ও সবুজ দল অংশ নেয়। খেলায় সবুজ দল লাল দলকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে। খেলার প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে লাল দল ১-৩ গোলে পিছিয়ে পড়ে। পরে পেনাল্টির মাধ্যমে ১টি গোল করার সুযোগ পেলেও শেষ রক্ষা আর হয়নি।
খেলায় লাল দলের সহ-অধিনায়ক মীর রেজাউল করিম রেজাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। খেলা পরিচালনা করেন খন্দকার আসলাম হিরা। তাকে সহযোগিতা করেন এমডি এস ইসলাম এবং দেলোয়ার হোসেন।
উল্লেখ্য, লাল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাপান আওয়ামী লীগ সভাপতি সালেহ্ মো. আরিফ এবং সহ-অধিনায়ক ছিলেন জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা। অপরদিকে সবুজ দলের অধিনায়ক ছিলেন বিএনপি উপদেষ্টা কাজী এনামুল হক এবং সহ-অধিনায়ক ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা রাসেল মাঝি। পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরা।
কথাগুলো অপ্রাসঙ্গিক হলেও লেখার উদ্দেশ্য হলো, জাপানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ আদর্শজনিত কারণে পৃথক পৃথক দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকলেও জাতীয় স্বার্থে এবং সামাজিক কাজে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো পালনে কর্মসূচি, টোকিও বৈশাখী মেলা উদযাপন, টোকিও শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত তারা এক টেবিলে বসেই নিয়ে থাকেন। বাংলাদেশে যেটা সম্ভব নয়। যদিও তাই-ই হওয়া উচিত। তাই জাপান প্রবাসীরা মনে করে জাতীয় স্বার্থে জাপান আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনীতি উদাহরণ হতে পারে। দেশ এগিয়ে যাবে বহুদূর।
আকর্ষণীয় বিংগো গেম-এ নাফাস ইসলাম বিংগো সেট জয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ ছাড়াও সারোয়ার কাকা, আলিফ হোসাইন রিও এবং আলমগীর হোসেন বিংগো লাইন জয়ী হন।
সভাপতি বাদল চাকলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নু বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সোসাইটি আহ্বানে সাড়া দেয়ার জন্য অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান-এর সভাপতি বাদল চাকলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠান পরিচালনা করে ‘সাপ্তাহিক’ জাপান প্রতিনিধি রাহমান মনি।


পাতাটি ২১৭৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।