দশদিক মাসিক

হোম প্রচ্ছদ রচনাবিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র পপুলার বনাম ইলেক্টোরাল !

বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র পপুলার বনাম ইলেক্টোরাল !

এইচ এম দুলাল::
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেবল ইতিহাসের পালাবদল ঘটছে। এমন ইতিহাস কারো জানা নেই যে,সে দেশের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনের স্রোতের মুখে দাঁড়িয়ে স্বদেশের জনগণের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন।
সব মার্কিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরা পছন্দ করেছেন হিলারি ক্লিনটনকে। জনগণের দেওয়া রায়ে হিলারির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ট্রাম্পের চেয়ে ১ লাখেরও বেশি। তবু লক্ষাধিক ভোট কম পাওয়ার পরও যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হতে পারলেন, তার নেপথ্যে রয়েছে সংকটময় ও বিতর্কিত মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা। ২০১২ সালের নির্বাচনের পর যে ব্যবস্থার সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। আজ সেই ব্যবস্থার কারণেই তিনি প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জটিল প্রক্রিয়ার কারণে মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) পরাজিত হতে হয় হিলারি ক্লিনটনকে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাসে পঞ্চম প্রার্থী, যিনি বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে চারবার এমন ঘটেছিল। মঙ্গলবার সবগুলো অঙ্গরাজ্যে মোট ভোটের মধ্যে ৫ কোটি ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ১২১টি (৫,৯০, ৫৯,১২১) ভোট পেয়েছেন হিলারি। অথচ জয়ী হওয়া ট্রাম্প পেয়েছেন ৫ কোটি ৮৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৩১ (৫,৮৯,৩৫,২৩১) ভোট। সেই অনুযায়ী হিলারির চেয়ে লক্ষাধিক ভোট কম পেয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেক্টোরাল সিস্টেমের কল্যাণে সদ্য জয় পাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ইলেক্টোরাল সিস্টেমের সমালোচনা করেছিলেন। ইলেক্টোরাল সিস্টেমকে গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয় বলেই মনে করতেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে এ নিয়ে ট্রাম্প একটি টুইট করেছিলেন।
২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আসা শুরু হওয়ার পর শোনা যাচ্ছিল মিট রমনি পপুলার ভোটে এগিয়ে আছেন, তবে ইলেক্টোরাল ভোটে হেরে যাচ্ছেন। আর তা জানার পর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ইলেক্টোরাল সিস্টেমকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয়’ উল্লেখ করে টুইট করেন। অবশ্য, শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালের নির্বাচনে বারাক ওবামার কাছে পপুলার ইলেক্টোরাল দুই পদ্ধতিতেই হেরেছিলেন রমনি। কিন্তু এবার গত মঙ্গলবার তা ঘটেনি। ট্রাম্পের চেয়ে পপুলার ভোটে এগিয়ে থাকার পরও ইলেক্টোরাল ভোটে হেরে গেছেন হিলারি। যে ইলেক্টোরাল সিস্টেমকে ট্রাম্প প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন তার কল্যাণেই জয় নিশ্চিত হয় তার

ইলেক্টোরাল কলেজ কী ও কেন?
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে। এই নিয়মে একজন প্রার্থী জনগণের ভোটে হেরে গিয়েও প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হতে পারেন। ২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ৫ লাখের বেশি পপুলার ভোটে হেরে গিয়েও ইলেক্টোরাল কলেজের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে মোট ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা ৫৩৮টি। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট হতে প্রয়োজন ২৭০ ইলেক্টরের সমর্থন।

ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা কীভাবে নির্ধারিত হয়?
নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসে থাকা প্রতিনিধির অনুপাতে নির্ধারিত হয় ওই ইলেক্টরের সংখ্যা। প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে রাজ্যের প্রেরিত প্রত্যেক প্রতিনিধির বিপরীতে একজন করে ইলেক্টর মনোনীত হন। অর্থাৎ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ৪৩৫ সদস্যের অনুপাতে ৪৩৫ জন ইলেক্টর। আবার প্রত্যেক সিনেট সদস্যের বিপরীতেও একজন করে ইলেক্টর মনোনীত হয়ে থাকেন। সিনেটে প্রত্যেক রাজ্যে দুটি সিনেট সদস্য পদ সংরক্ষিত থাকে। সেই হিসেবে ৫০ রাজ্যে ১০০ সিনেট সদস্যের অনুপাতে ইলেক্টর ১০০। এছাড়া মার্কিন সংবিধানের ২৩তম সংশোধনী ধারায় বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য ছাড়াও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার জন্য অতিরিক্ত ৩ জন ইলেক্টর নিয়োগ করা যাবে। এ পদ্ধতির স্বার্থেই নির্বাচনের সময় ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াকেও আলাদা রাজ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সব মিলিয়ে ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্য দাঁড়ায় ৫৩৮ (৪৩৫+১০০+৩) জন। তবে ইলেক্টোরাল কলেজ কখনোই হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ সদস্য বা সিনেট সদস্য নয়।
প্রতিটি রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা নির্ধারিত হয় জনসংখ্যার অনুপাত দ্বারা। যেমন, জনবহুল ক্যালিফোর্নিয়ার রয়েছে ৫৫ জন ইলেক্টর, আবার জনবিরল মন্টানার রয়েছে মাত্র ৩ জন ইলেক্টর। কোনো রাজ্যে জনসংখ্যা একেবারে কম হলেও দু’জন সিনেট ও একজন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ সদস্যের অনুপাতে কমপক্ষে ৩ জন ইলেক্টর থাকেন।

ইলেক্টরদের কারা মনোনয়ন দেন?
প্রত্যেক প্রার্থী নিজেদের বা তার দলের পছন্দ অনুযায়ী ইলেক্টর মনোনয়ন দিতে পারবেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোই মূলত এই ইলেক্টরে মনোনয়ন দিয়ে থাকলেও একজন ব্যক্তির ইলেক্টর হিসেবে মনোনয়ন লাভের ক্ষেত্রে কিছু ন্যূনতম যোগ্যতা সম্পর্কে প্রত্যেক রাজ্যেরই নিজস্ব কিছু পালনীয় কর্তব্য রয়েছে।

জনগণ কাকে ভোট দেন?
মার্কিন ভোটাররা ভোট দিয়ে মূলত ইলেক্টর নির্বাচন করেন। তাই এবারের নির্বাচনে জনগণ হিলারি ক্লিনটন কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না, বরং তাদের পক্ষে মনোনীত ইলেক্টরদের ভোট দেবেন। যে রাজ্যে যে দল বেশি ভোট পাবে সে রাজ্যের সব ইলেক্টোরাল ভোট সেই দলের বলে গণ্য হবে। বেশিরভাগ রাজ্যেই প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের যত বেশি ভোটই পান না কেন তাতে কোনো লাভ হয় না। ধরা যাক, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৯৯ শতাংশ ভোটার হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দিয়েছেন, তিনি ওই রাজ্যের পুরো ৫৫টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পাবেন। যদি তিনি ওই রাজ্যের ৫১ শতাংশ ভোটও পান, তবুও তিনি ৫৫টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পাবেন। দুটি রাজ্য ছাড়া কোনো প্রার্থী এক শতাংশ ভোটে জিতলেই ওই রাজ্যের সব ইলেক্টোরাল ভোট তিনি পাবেন। এ কারণে কোনো দল যদি জানেন কোন কোন রাজ্যে তারা জিতবেন; তাহলে সেই রাজ্যে তারা প্রচারণা চালাবেন না। উদাহরণস্বরূপ- ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত আলাস্কা, আইদাহ এবং আরও ৭টি রাজ্যে জিতবেন যেখানে ১৯৬৮ সাল থেকে রিপাবলিকান প্রার্থীরা জিতে আসছেন। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন মিনেসোটা, নিউইয়র্ক এবং আরও ৬টি রাজ্যে জিতবেন। ১৯৮৮ সাল থেকে এসব রাজ্যে ডেমোক্রেট প্রার্থীরা জিতে আসছেন। প্রার্থীর লক্ষ্য থাকে দোদুল্যমান রাজ্যের ভোটারদের আকর্ষণ করা। এবারের নির্বাচনে এমন রাজ্যের সংখ্যা ১১টি।

ইলেক্টোরাল কলেজের কাজ কী?
৮ নভেম্বর নির্বাচনের পর এক মাসের অধিক সময় পর ১৯ ডিসেম্বর ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। জনগণের ভোটের ভিত্তিতে কোনো দল যেসব রাজ্যে জিতে যাবেন, সেসব রাজ্যের ইলেক্টরদের সংখ্যা যদি কমপক্ষে ২৭০ হয়, তবে সেই দল থেকেই প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। এমনও হতে পারে, কোনো ইলেক্টর এক দলের পক্ষে মনোনীত হয়ে থাকলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় সেই দলের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন না। এদের বলা হয় ‘ফেইথলেস ইলেক্টর’। ইতিহাসে এ পর্যন্ত এমন ১৫৭ জন ফেইথলেস ইলেক্টর চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে তাদের ভূমিকায় নির্বাচনের ফল পরিবর্তন হয়নি। ইলেক্টোরাল কলেজ মূলত দলের বিশ্বস্ত কর্মী বা সদস্যরাই হয়ে থাকেন, তাই নিজ দলের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অন্য দলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন, এটা আশা করা হয় না। ভোট শেষ হওয়ার পর প্রত্যেক রাজ্যের গভর্নর ‘সার্টিফিকেট অব অ্যাসারটেইনমেন্ট’ বা নির্বাচক নির্ধারণের সনদ প্রস্তুত করেন। এতে প্রার্থীর নাম এবং তাদের প্রতিনিধি ইলেক্টরদের নাম এমনকি রাজ্যের প্রার্থীদের ভোটের তালিকাও থাকে। এই সনদ কংগ্রেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল আর্কাইভসে’ প্রেরণ করা হয়। এরপর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে ডিসেম্বরে ইলেক্টররা নিজের পছন্দের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে আলাদা আলাদা ব্যালটে ভোট দেন। এই ভোট গণনার জন্য কংগ্রেসে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আর্কাইভ বা জাতীয় মহাফেজখানায় পাঠানো হয়। ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের একটি যৌথ অধিবেশনে এই ইলেক্টোরাল ভোট গণনা শেষে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। এরপর সিনেটের সভাপতি চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা করেন। জানুয়ারির ২০ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

এই প্রথম। ইলেক্টোরাল ভোটে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প মারাত্মক প্রতিক্রিয়া, প্রবল বিস্ফোরণ এবং অনাস্থার মুখে পড়েছেন। পপুলার ভোটে জিতেছেন হিলারি আর ইলেক্টোরাল ভোটে জিতেছেন ট্রাম্প। এক অর্থে জনগণের আকাক্সক্ষা মার খেয়েছে স্বল্প সংখ্যকের কাছে। এমন হয়েছিলো পাকিস্তানে ১৯৬৪ সালে, মিস্ ফাতেমা জিন্নাহ বনাম আইয়ুব খানের নির্বাচনে।পপুলার ভোট বেশি ছিলো ফাতেমা জিন্নাহর কিন্তু আইয়ুব খান বেসিকডেমোক্রেসিক সিস্টেমে ইলেক্টোরাল ভোট বোগলদাবা করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তখন আইয়ুব খানও মিস জিন্নাহর বিরুদ্ধে ভারত প্রীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। সাম্প্রদায়িক জিগিরও তুলেছিলেন। যেমন ট্রাম্প নির্বাচনে তুলেছেন বর্ণবাদী জিগির। মিস্ ফাতেমা জিন্নাহ পরাজিত হওয়াতে বাঙালি জনসাধারণের মন সেদিন জখম হয়েছিলো, যেমন হিলারির পরাজয়ে মার্কিন জনগণের মন ঘায়েল হয়ে গেছে। সেদিন ফতোয়া দেয়া হয়েছিলো আইয়ুবের দালাল আলেমদের পক্ষ থেকে যে নারীর রাষ্ট্র পরিচালনা হারাম, তেমনি মার্কিন নির্বাচনে নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে হিলারীকে প্রত্যাখান করা হলো। গণমাধ্যমসূত্রে জানা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে পুরো যুক্তরাষ্ট্র এখন ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল। অগ্নিগর্ভ। গত মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরই বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় সহিংস বিক্ষোভ, যা মার্কিন রাজনীতিতে নজিরবিহীন। ওবামা- ক্লিনটন ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েও ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারেননি। গত বুধবার,বৃহস্পতিবার ও শক্রবারও ক্ষোভ অব্যাহত ছিলো। ‘ট্রাম্প আমার প্রেসিডেন্ট নন’-এই শ্লোগান দিয়ে, প্লাকার্ড হাতে কয়েক লাখ মার্কিন নাগরিক রাজপথে নেমে আসে। তারা সড়ক অবরোধ করে, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে, পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে বাধ্য হয়। ওদিকে ক্যালিফোর্নিয়া এই নির্বাচন প্রত্যাখান করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। প্রায় ২৫/২৬ টি অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের বিক্ষোভ চলছে। টালমাটাল হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। বিক্ষোভ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের রাষ্টে। মার্কিন প্রবাসী মুসলিমরা আতঙ্কের প্রহর গুণছেন। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়াতে। রাজপথে নেমে এসেছেন বিশ্বখ্যাত পপগায়ক ম্যাডোনা এবং তার স্ত্রী। প্রশ্ন জেগেছে, ইলেক্টোরাল ভোটের জোরেই যদি কেউ দেশটির প্রেসিডেন্ট হয়ে যান তাহলে পপুলার ভোটের মূল্য কোথায়? সামনে তা হলে কি জনপ্রিয় রাজনীতিবিদরা ধনকুবেরদের ইলেক্টোরাল ভোটের কাছে হারতে থাকবেন? মার্কিন জনগণ কি গণতন্ত্রের বিপক্ষে দাঁড়ালো? না হলে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কেন প্রত্যাখানের শ্লোগান উঠবে? মূলত ব্যাপারটা আরো গভীরের। জনগণ ভোট দিয়েছে হিলারিকে আর ইলেক্টোরালরা ভোট দিয়েছেন ট্রাম্পকে। মার্কিন জনগণের বিক্ষোভটা প্রকাশ পাচ্ছে মুষ্টিমেয় ইলেক্টোরালদের বিরুদ্ধে। বহমান জ্বলন্ত বিক্ষোভের আয়নায় ভেসে উঠেছে এই প্রশ্ন, কী করে রিপাবলিকান পার্টি ট্রাম্পকে নমিনেশন দিতে পারলো? মূলত সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভ আগুনের শিখার মতো জ্বলে উঠেছে ট্রাম্পের লাগামহীন কথাবার্তার বিরুদ্ধে। রুচিজ্ঞান, কথার মাত্রাজ্ঞান, সৌন্দর্যবোধ কোনোটাই রক্ষা করেননি ট্রাম্প। এ ছাড়া ট্রাম্প নির্বাচনে বর্ণবাদী বিদ্বেষ প্রচার করে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিভেদের বীজ রোপন করলেন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির গাঁথুনিতেও ট্রাম্প কুঠার মেরেছেন। অনৈক্য দেখা দিয়েছে দেশটিতে। এটা সহজে মিটবে না। এর পরিণাম দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা শুভশক্তির জয় কামনা করি।





পাতাটি ১১৪৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।