দশদিক মাসিক

হোম বিনোদনহলিউডের চলচ্চিত্রে বাংলাদেশির কাহিনী

হলিউডের চলচ্চিত্রে বাংলাদেশির কাহিনী

অস্কার বিজয়ী মার্কিন পরিচালক ক্যাথরিন বিগেলো ‘দ্য ট্রু অ্যামেরিকান’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। চলচ্চিত্রটির নাম-ভূমিকায় থাকবেন টম হার্ডি। চলচ্চিত্রের গল্পের একটি অংশে এক বাংলাদেশি অভিবাসীর কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। আনন্দ গিরিধরাদাসের লেখা নন-ফিকশনধর্মী ‘দ্য ট্রু অ্যামেরিকান: মার্ডার অ্যান্ড মার্সি ইন টেক্সাস’ গ্রন্থ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হবে। আমেরিকায় ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত গ্রন্থটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘আরব স্লেয়ার’ বা ‘আরবের অভিবাসীদের হত্যাকারী’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন কুখ্যাত মার্ক অ্যানথনি স্ট্রোম্যান। আমেরিকার একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সত্য এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে ‘দ্য ট্রু অ্যামেরিকান’-এর মূল পটভূমি। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি রইসুদ্দিন ভূঁইয়া ডালাসের মুসলমান অভিবাসী। আমেরিকায় গিয়ে নিজ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তিনি। ২০০১ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের একটি গ্যাস স্টেশনের কাউন্টারে কাজ করছিলেন রইস ভূঁইয়া। এ সময় দুই বাহুতে ট্যাটু আঁকা ও স্বাস্থ্যবান এক ব্যক্তি কাউন্টারে হেঁটে যান এবং একটি শটগান বের করেন। আতঙ্কে রইস ক্যাশ রেজিস্ট্রার থেকে নগদ টাকা বের করে তাকে দিতে যান। কিন্তু টাকার দিকে ওই ব্যক্তির কোন খেয়াল ছিল না। তিনি টাকার দিকে না তাকিয়েই অবিচল কণ্ঠে রইস ভূঁইয়াকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার দেশ কোথায়?” রইসের উত্তর শোনা মাত্রই টতার মাথায় গুলি করেন মার্ক স্ট্রোম্যান। সৌভাগ্যবশত, মাত্র কয়েক মিলিমিটারের জন্য শটগানের গুলিটি রইসের মস্তিষ্কে লাগেনি। ফলে তিনি প্রাণ না হারালেও এই ঘটনায় তার একটি চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে যায়। তবে রইস ভূঁইয়াকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলেও এই ঘটনার আগে ওয়াকার হাসান ও বসুদেব পাটেল নামের দুই ব্যক্তিকে হত্যা করতে পেরেছিলেন স্ট্রোম্যান। এরপরই স্ট্রোম্যানকে গ্রেফতার করা হয়। আটক হওয়ার পর স্ট্রোম্যান জানতে পারেন যে তার হাতে হতাহতদের কেউই আসলে আরবের নাগরিক নন। পুরোটাই ছিল তার ভ্রান্ত ধারণা। এরপর মানবিক বোধসম্পন্ন রইস উদ্দিন স্ট্রোম্যানকে মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে রক্ষারও চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে লাভ হয় না। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আরবের অভিবাসীদের ওপর যে ঘৃণা জন্ম নিয়েছিল স্ট্রোম্যানের, সেখান থেকে তিনি হয়ে ওঠেন এক কুখ্যাত খুনী। শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আদালত। এই গল্প ধরেই এগিয়েছে ‘দ্য ট্রু অ্যামেরিকান’-এর কাহিনী।


পাতাটি ২৯২২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।