দশদিক মাসিক

হোম ক্রীড়াটি-টোয়েন্টি জ্বরে কাঁপছে বিশ্ববাসী টাইগারদের উড়ন্ত সূচনা

টি-টোয়েন্টি জ্বরে কাঁপছে বিশ্ববাসী টাইগারদের উড়ন্ত সূচনা

মো: আশরাফ হোসেন
টি-টোয়েন্টি জ্বরে কাঁপছে বিশ্ববাসী। সেইসঙ্গে কাঁপছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের দূর্দান্ত জয় একই সঙ্গে আনন্দের এবং স্বস্তির বলে মনে করছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ম্যাচটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য। কারণ টুর্নামেন্টটা ভালোভাবে শুরু করা খুব জরুরি ছিল। সেদিক থেকে এই জয় আনন্দের ও স্বস্তিরও বটে। একই সঙ্গে চাপ থেকে মুক্তিরও। এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের কাছে লজ্জাজনক হারের পর ম্যাচ নিয়ে অনেক কথা হলেও সাকিব জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনে কোনো দুর্ভাবনা ছিল না। তিনি বলেন, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে আফগানিস্তান আমাদের সামনে দাঁড়ানোর মতো দল নয়। একটা ম্যাচে ঐ রকম হতেই পারে। আমরা খুব নির্ভার ছিলাম। দলের সবাই জানতো, আজ আমরা জিতবোই। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় সাকিব মনে করেন, ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগই ভালো করায় টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমাদের তিনটি বিভাগই ভালো খেলেছে। ফিল্ডিং খুব ভালো হয়েছে। সরাসরি থ্রোতে ওদের দুজন ভালো ব্যাটসম্যান আউট হয়েছে। একটা ক্যাচ হাতছাড়া হলেও রিয়াদ ভাই দুটো ভালো ক্যাচ নিয়েছেন। ফিল্ডিং ভালো হলে দলের সবার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। এটা টি-টোয়েন্টিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আসল বিশ্বকাপ অর্থাৎ ‘সুপার টেন’ নিশ্চিত করতে হলে ‘এ’ গ্র“পের অন্য দুই দল নেপাল ও হংকংকে হারাতে হবে বাংলাদেশকে। এই দুই প্রতিপক্ষের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ওদের খেলা ইউটিউবে দেখছি। পাশাপাশি ওদের খেলার ভিডিও দেখবো। নিজেদের মধ্যে আলোচনা তো হবেই। আমার মনে হয় প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেরা কতটা ভালো করতে পারি সেটা নিয়ে ভাবা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজকের মতো খেলতে পারলে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে এদের সঙ্গে খেলার সময় অনেক কিছুই বোঝা মুশকিল। একজন হঠাৎ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করতে পারে। কেউ বা খুব ভালো বল করতে পারে। তাই ওদের নিয়ে আগে থেকে কোনো কিছু অনুমান করা ঠিক নয়। ঘুরে দাঁড়াতে আত্মবিশ্বাসী আফগানিস্তান আগের দিন নিজেদের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সেরা দল বলেছিলেন মোহাম্মদ নবী। প্রশ্নটা আবারও ঘুরে ফিরে এলে নবী জানিয়েছেন, তামিম-সাকিব অসাধারণ খেলেছে এবং আমরা শুরুতে উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে গেছি। তাই জয় সম্ভব হয়নি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত উপস্থিত হলেন আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। উইকেট নিয়ে ছিল তার কথা। তিনি বলেছেন, এমন উইকেট আমরা প্রত্যাশাও করিনি। বাংলাদেশ ভালো বোলিং করেছে। তারা বোলিংয়ে অতিরিক্ত বাউন্স দিয়েছে। বিশেষ করে মিডঅনে তারা অনেক পরিশ্রম দিয়েছে। যদি স্কোর বোর্ডে ভাল একটা রান তুলতে পারতাম তাহলে কিছু একটা প্রত্যাশা করা যেতো। বড় স্কোর গড়া হয়নি। কারণটা কি ছিল এমন প্রশ্নে মোহাম্মদ নবী, শুরুটা খারাপ ছিল। প্রথম বলে প্রথম উইকেট হারালে পুরো দল একটি চাপের মধ্যে পড়ে যায়। গুলাবাদিন তৃতীয় স্থানে খেলে। সে ভাল খেলে। কিন্তু সাকিব ও রাজ্জাকের ভাল বোলিংয়ে প্রথম সারির চার ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে আমরা চাপে পড়ে যাই। ম্যাচের আগের দিন নিজেদের সেরা দল হিসাবে নিজেই স্বীকৃতি দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক, ম্যাচে খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কিনা। এ প্রশ্নে আফগান অধিনায়ক নবী বলেছেন, না আমাদের অতি আত্মবিশ্বাস ছিল না। এমনিতে আত্মবিশ্বাস ছিল ভালো খেলার। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে তাই তারা জয় পেয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে হারলেও বাকি ২টি ম্যাচ জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া থাকবে আফগানরা। বাকি ২টি ম্যাচে লক্ষ্য কি হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, আমরা সামনে চেষ্টা করব আরও ভালো করার। স্পিনারদের দিয়ে আরও ভালো করার চেষ্টা করব। এশিয়ার কন্ডিশন, বিশেষ করে বাংলাদেশের কন্ডিশন একটু ব্যতিক্রম। পরের ২ ম্যাচে আমরা জয়ের ধারায় ফেরার চেষ্টা করবো। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট কোনটি মনে করেন আপনি। এ প্রশ্নে নবী বলেছেন, প্রথম বলেই শেহজাদের খারাপ শটে আমরা উইকেট হারাই। ওই উইকেট হারানোর পর দলের ওপর সম্পূর্ণ চাপ চলে আসে। আমরা ২/১ উইকেট দিয়ে এসেছি। শেহজাদ ও গুলবাদিন উইকেট দিয়ে এসেছে। এছাড়া ২টি রান আউট ও ২টি ভাল বলে আমাদের ইনিংস শেষ হয়ে যায়। আমরা এটা প্রত্যাশা করিনি। আমরা ভাল দল। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সঙ্গে সাকিব-তামিম ছিলেন না। আপনি কি মনে করেন যে এ ম্যাচে তারা থাকায় একটু কঠিন হয়ে গেছে প্রতিটি ব্যাপার। এর জবাবে নবী বলেছেন, তারা ভালো খেলোয়াড় তবে তাদের নিয়ে আমরা শঙ্কিত ছিলাম না। তারা ভালো খেলেছে। বিশেষ করে সাকিব ভাল খেলেছে এবং তামিম ভাল ব্যাটিং করেছে। যদি আমরা ১৩০/১৪০ করতে পারতাম তাহলে ম্যাচটি অন্য রকম হতে পারতো।


পাতাটি ১৩৫৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।