দশদিক মাসিক

হোম অন্য দৃষ্টিবাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চের প্রস্তাবনা

বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চের প্রস্তাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট: সম্প্রতি বাংলাদেশে পোষাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে আবারো অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকার গঠিত পোষাক শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরী বোর্ড ইতোমধ্যে মাসিক মজুরী ৫ হাজার ৩০০ টাকা ধার্য করলেও গার্মেন্টস মালিকগণ মাসিক মজুরী ৪ হাজার ৫০০ টাকার বেশি দিতে রাজী নন।

এদিকে, পোষাক তথা সারাদেশের সকল শিল্প কারখানার শ্রমিকরা মানুষের মতো বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ন্যূনতম মাসিক মজুরী ৮ হাজার টাকা দাবী করেছে। বর্তমানে পোষাক শ্রমিকরা মাসিক মজুরী হিসেবে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পেয়ে আসছেন যা তাদের জীবন ধারনের অন্তরায়। অনেক পোষাক শ্রমিক ১০ থেকে ১৫ ঘন্টা বারতি কাজ করে মাসে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে যা তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়।

এই বিষয়ে গার্মেন্টস মালিকগণ বলেছেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ালে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দাম বাড়বে, ফলে বাজারে চাহিদা কমে যাবে। এদিকে ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের তথ্যমতে, চীনে পোষাক শ্রমিকদের মাসিক মজুরী ১৩৮ ডলার, কাম্বোডিয়াতে ৭৫ ডলার, ইন্দোনেশিয়াতে ৭১ ডলার, ভিয়েতনামে ৬৭ ডলার, ভারতে ৬৫ ডলার, ও বাংলাদেশে মাত্র ৩৮ ডলার।

২০০৮ সালের আগস্ট মাস থেকে ‘দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশেন সকল জনগুরত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছে। প্রতিসপ্তাহে মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবার ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবারের সভা থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের পোষাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে একটি প্রস্তাবনা পেশ করেন।

দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চ তাদের প্রস্তাবনা পেশ করতে গিয়ে একেবারে পোষাক মালিকদের যুক্তি উড়িয়ে দেননি। শ্রমিকদের দাবী অনুযায়ী ন্যূনতম মাসিক মজুরী ৮ হাজার টাকা যতই যৌক্তিক হোক না কেন, এক লাফে ৩ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা করা মোটেই যথাযথ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তারা। দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চের মতে, ‘‘অনেক শ্রমিক নেতারা শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরী ১২হাজার টাকা করার কথাও বলেছেন। তাদের এই দাবী যে অযৌক্তিক তাও বলা যাবে না। কথা হলো, মজুরী যাই বাড়–ক ধাপে ধাপে বাড়া উচিত। আর তাছাড়া আমাদের দেশের শ্রমিকদের মজুরী যেখানে পার্শ্ববতী দেশের শ্রমিকদের চাইতে অনেক কম সেখানে হঠাৎ করে তাদের থেকে বেশি করাটাও ঠিক হবে না। মজুরী হঠাৎ অনেক বেড়ে গেলে বাজারে জীবনধারণের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ শিল্প পরিচালনায় নৈরাজ্য ও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই আমরা বাস্তবতার নিরিখে মালিক ও শ্রমিকদের সাথে একটি সমঝোতায় উপনীত হতে চাই।” দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চের প্রস্তাবমতে:

ইংরেজি বছর ন্যুনতম মাসিক মজুরী (টাকা ন্যুনতম মজুরী ডলার
২০১৪ ৫হাজার ৬৫
২০১৫ ৬ হাজার ৭৮
২০১৬ ৭ হাজার ৯১
২০১৭ ৮ হাজার ১০৪

ওপরে উল্লিখিত, মজুরী ধাপে ধাপে বৃদ্ধি হলে শিল্প পরিচালনায় ও বাজার ব্যবস্থায় এর প্রভাব ধীরে-ধীরে পড়বে। এক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে যে, শ্রমিকদের বেতন বাড়লে তাদের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়বে এবং বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবেশের ফলে জাতীয় আয় তথা ব্যক্তি প্রতি আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

শ্রমিকরা যেন ন্যায্য মজুরী পায় এবং তাদের তথা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য আহ্বান জানায় দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চ বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের।

দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চের মতে, ‘‘সরকার ইতোমধ্যে সরকারি কর্মচারীদেরকে মহার্ঘ ভাতা দেয়া শুরু করেছে। সরকারের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী আগামী ২০১৭ সাল নাগাদ তাদের ন্যুনতম বেতন ১০হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে। অতএব ওপরের মজুরী কাঠামোতে পোষাক শ্রমিকরা সরকারি কর্মচারীদের থেকে পিছিয়েই থাকবে। তাই আমরা তাদের মজুরী ২০১৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করছি।”


পাতাটি ৩৩৩২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।