দশদিক মাসিক

হোম দেশ-বিদেশপদত্যাগ করলেন আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল

পদত্যাগ করলেন আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল

পদত্যাগ করেছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। জনলোকপাল বিল তোলা ছাড়াই বিধানসভার অধিবেশন শেষ হওয়ার। এর প্রতিবাদে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত থেকে সরে দাঁড়ালেন আলোচিত এই দুর্নীতিবিরোধী নেতা।
বিধানসভায় কেজরিওয়াল বলেছিলেন, “বিল উত্থাপন না-হওয়ায় তার ইস্তফা দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। সম্ভবত এটাই শেষ অধিবেশন।” এর আগে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছিল এএপি। ওই বৈঠকেই কেজরিওয়াল ইস্তফাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
জনলোকপাল বিল সংসদে না তোলার কারণ হিসেবে বিধানসভায় কেজরিওয়াল বলেছেন, তারা দুর্নীতি দূর করতে চান, কংগ্রেস-বিজেপি চায় না। বিলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও বিজেপি একজোট হয়েছে। কারণ, তিন দিন আগে তার সরকার মুকেশ আম্বানিদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে। তিনি অভিযোগ ছুড়ে দিয়ে বলেন, এই দুই পার্টি আম্বানিদের কাছ থেকে টাকা পায় বলে তারা বিলের বিরোধিতা করছে।
জনলোকপাল বিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হতে চলেছে।
নানা টালবাহানার পর বিরোধীদের আপত্তি উপেক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জনলোকপাল বিলটি বিধানসভায় পেশ করার দাবি জানান। তবে শেষ পর্যš ভোটাভুটিতে দেখা যায়, বেশির ভাগ সদস্যই বিল পেশের বিরুদ্ধে। স্পিকারও বিল পেশ হয়নি বলে রুলিং দেন। বিধানসভার এই বিশেষ অধিবেশনের শেষ। অথচ এই বিলকে অসাংবিধানিক বলে স্পিকারকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন দিল্লির উপরাজ্যপাল।
সরকারি ক্ষেত্রে দুর্নীতি রুখতে প্রবীণ গান্ধীবাদী নেতা আন্না হাজারে যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তারই পরিণতি কেন্দ্রীয় স্তরে লোকপাল গঠন। আইন অনুযায়ী জনলোকপালের মতো যেসব বিলে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা দরকার, সেগুলো পেশ করার আগে কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হয়। এই আইনেরই বিরোধিতা করছে এএপি। এ নিয়েই উপরাজ্যপালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধ।
উপরাজ্যপাল নাজিব জং বিধানসভার স্পিকার এম এস ধীরকে চিঠি লিখে জানান, কেন্দ্রীয় অনুমতি যেহেতু নেওয়া হয়নি, সেহেতু বিলটি অসাংবিধানিক। সভার শুরুতেই সেই চিঠির জন্য বিজেপি ও কংগ্রেস একযোগে দাবি জানাতে থাকে। সভা মুলতবি করে দিয়ে স্পিকার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন। আধঘণ্টা পর সভা শুরু হলে স্পিকার চিঠিটি পড়েন। এএপি সেই চিঠি নিয়ে আলোচনার দাবি জানাতে থাকে। সেই গোলমালের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বিলটি পেশ করেছেন বলে দাবি করেন। সভা দ্বিতীয়বারের জন্য মুলতবি করে দেওয়া হয়। আধঘণ্টা পর সভা শুরু হলে বিল পেশ ও বিল-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিল উত্থাপন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পিকার সদস্যদের মত জানতে চান। ২৭ জন বিলের পক্ষে থাকলেও ৪২ জন আপত্তি জানানোয় বিলটি উত্থাপনই হয়নি বলে স্পিকার রুলিং দেন।
জনলোকপাল নিয়ে এএপি সরকারের সঙ্গে কংগ্রেস ও বিজেপির যে টানাপোড়েন চলছে, তা সম্পূর্ণভাবেই রাজনৈতিক। এএপির বক্তব্য, বিল পাস না করালে এটাই প্রমাণিত হবে যে কংগ্রেস ও বিজেপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে আগ্রহী নয়। বিরোধীদের দাবি, তাঁরা জনলোকপালের পক্ষে, কিন্তু বিলটি প্রথামাফিক আনতে হবে।


পাতাটি ১৪৪৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।