দশদিক মাসিক

হোম দেশ-বিদেশসোস্যাল মিডিয়ায় কঠোর নজরদারি ভারতের নির্বাচন কমিশনের

সোস্যাল মিডিয়ায় কঠোর নজরদারি ভারতের নির্বাচন কমিশনের

নির্বাচনের প্রচারের খরচের খতিয়ান দিয়ে থাকে প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলগুলো। ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রচার চালানো হয় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনেরও আম-আদমি সব থেকে বেশি ব্যবহার করেছিল ইন্টারনেটকেই। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতিবারই ব্রাত্য থেকে যায় সোস্যাল মিডিয়া বাবদ খরচের বিষয়টি। তাই এবার থেকে উইকিপিডিয়া, টুইটার, ইউটিউব, ফেসবুকেও যেসব রাজনৈতিক প্রচার চালাবে, তাদের গতিবিধির ওপরেও তীক্ষ্ণ নজর রাখবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে লড়ার আগে হলফনামা জমা দিতে হয় প্রার্থীদের। সেখানেই এবার প্রথম উল্লেখ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় থাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের বিবরণ। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নিশ্চিত করতে হবে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রচারপত্র এবং বিজ্ঞাপন নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনেই প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা এবং রাজ্য স্তর থেকে এ প্রসংশাপত্রগুলো সংগ্রহ করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে। কমিশন সম্প্রতি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলগুলো সোস্যাল মিডিয়ার জন্য অনেক টাকাই খরচ করে থাকে। কিন্তু হিসাব দেওয়ার সময় খরচের তালিকায় তা নথিভুক্ত করে না। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, ইন্টারনেট এবং ওয়েবসাইট কোম্পানিগুলোকে বিজ্ঞাপন এবং প্রচারের জন্য টাকা দিতে হয়। তাছাড়া, ওয়েবসাইট তৈরি, তা রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য নির্দিষ্ট লোক থাকে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলগুলোর। তাদের মাইনে দেয়া হয় মাসের শেষে। কিন্তু দিনের শেষে সোস্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট বাবদ যে টাকা খরচ করা হয়, তার কোনো হিসাব রাখা হয় না। দেয়া হয় না নির্দিষ্ট কোনো তথ্যর। তাই এবার থেকে ইন্টারনেটের খাতে দলগুলো যা খরচ করবে, তা সবই জানাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
এদিকে রিপ্রেসেন্টেশন অফ পিপিলিস অক্ট্যাট, ১৯৫১ তে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় খরচের জন্য প্রার্থীকে আলাদাভাবে হিসাব রাখতে হবে। মনোনয়ন জমা দেয়া থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো টাকার হিসাব পেশ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। লোকসভা নির্বাচনের ৯০ দনের মাথায় পুরো হিসাব জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, এবারেই নির্বাচনের আচরণবিধিতে নতুন একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাহল, ইন্টারনেটে প্রচারের জন্য যেসব তথ্য, বার্তা বা বক্তব্য পেশ করা হবে, তার ওপরেও নজর রাখবে নির্বাচন কমিশন। যদি, কোনো কিছুতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়, তবে তৎক্ষণাৎ তা সেনসর করবে কমিশন।
কিন্তু এরপরেও দেখা দিয়েছে নতুন একটি সমস্যা। তাহল প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের ওপরে তো নজরদারি চালান যেতে পারে। তবে, ব্যক্তিগতভাবে যারা মতামত বা তথ্য পোস্ট করবে, তাদের কীভাবে আটকানো যায়? নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। কীভাবে সমস্যার মোকাবেলা করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


পাতাটি ১৩৭১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।