দশদিক মাসিক

হোম প্রবাস সংবাদ কলঙ্ক মুক্ত বাংলাদেশ চাই

কলঙ্ক মুক্ত বাংলাদেশ চাই

ফিরোজ কবীর:
কলঙ্ক শব্দটা যেন বাংলাদেশের সাথে মিশে গেছে। অসহনশীলতা আর স্বার্থহীনতার সার্থপরতা করছে গ্রাস। যুদ্ধাপরাধীর বিচার, শাহবাগ, হেফাজত তারপর নির্বাচন। কোনটাতেই কেউই সফল হয়েছে বলে হলফ করে বলতে পারছেনা। বঞ্চিত হয়েছে মানবাধিকার। সাংবাদের স্বাধিনতা। মুখ থুবড়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন। এখানে শুধুই যেন স্বার্থের কানামাছি খেলা। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ। উন্নয়নশীল। এখানে মানুষ কর্মঠ।এখানে আছে সুদীর্ঘকালের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস।যে সাংস্কৃতি পৃথিবীর আদিকাল থেকেই প্রতিনিধিত্ব করে।রাজনীতি এখানে এক গৌরবের পটভুমী।কিন্ত তা ছিল স্বার্থের উর্দ্ধে না। যে স্বার্থ চর্চিত হত মানুষের জন্য। তা কেবল রাজ্য শাষনের জন্য নয়। যদিও রাজ রাজড়াদের বিলাস যাপনের নিমিত্তে শোষিত হয়েছে খেঁটে খাওয়া সাধারন মানুষ। তা সে চাকুরে বা চাষা যে সম্প্রদায়েরই হোক না কেন।তবু কিছু ভাল তো ছিলই। আজ বিশ্বময়তায় বাঙালী অনেক দূরে গিয়েছে। হেটেছে সূদুরের পথে।অর্জন করেছে অর্থনীতির মহিসোপান। জ্ঞান অর্জনে প্রাচ্য পাশ্চাত্যের মিলন ঘটিয়েছে। যে বাঙালী শিক্ষা গ্রহন করতে গিয়েছে ভুগোলের এপিঠ থেকে ওপিঠে তারাও আজকের দুনিয়ায় অন্যকে শিক্ষা দেয়ার গৌরব অর্জন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চাকচিক্য কিম্বা নব্য লোকালয় এদেশের বাঙালিদের হাতেই নির্মিত হচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকার অর্থনীতির অশ্বের শক্তিও বহু অংশে বাংলাদেশী বাঙালীদের হাতেই পেয়েছে গতিময়তা। আজকের বাঙালী দেশ ছাড়ছে। পৃথিবী ছাড়ছে।কোনটার উদ্দেশ্য উন্নয়নের। কোনটা জীবন সংকটের নিরুপয়তায়।আইনের আশ্রয় অনুপস্থিত।রক্ষাকর্তারাই করছে গ্রাস। প্রতি পদে। প্রতি মুহুর্তে ভয়।জীবিত মানুষগুলো আইনের বিচার ছাড়াই হচ্ছে খুন।গুম। বাঙালী অসহায়।রাস্তায় জানযট।মানুষ এখনও ক্ষুধার্ত।রোগগ্রস্ত।শারিরিক এবং মানসিক উভয়ই।যুগের সাথে পাল্টেছে বাঙালীর বেশ-ভূষা।বাহিের। অন্দরের অবস্থা খুবই জটিল। কঠিন। সমাজের সাথে টিকে থাকবার।বাঙালী এখনও লড়াই করছে দারিদ্রের সাথে।মুনাফাজীবি কিছু রিয়েল এস্টেট অট্টালিকা বানিয়েছে।তাই বলে মধ্যবিত্তের পরিবর্তন হয়নি একচুলও।খুন,গুম, আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখায়। এ তালিকায় আইনজীবি,ব্যাবসায়ী, প্রবাসী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সাধারণ মানুষ। দেখার যেন কেউ নেই।অভিভাক হীন হয়ে পড়ছে রাষ্ট্র। দেশের অর্থনীতির গতি নির্ভর করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উপর। পুরোটা না হলেও একটি বড় অংশ।গার্মেন্টস শিল্প থেকেও অর্জিত হয় জিডিপির সিংগভাগ।অথচ এই দুটি মাধ্যমের যে শ্রমিক শ্রেনী বা প্রবাসী রয়েছেন, তারা কি পেয়ে থাকেন।কেউ পুড়ে মরে। কেউ বেতন না পেয়ে ডুকরে কাঁদে। যে কান্না পৌঁছোয় না তথাকথিত উচ্চমহলে।আতাতের মাধ্যমে মালিক শ্রেণী পক্ষান্তরে বিলেত ভ্রমন শেষে খেটে খাওয়া বাংলাদেশের উত্তপ্ত রাস্তায় শীতল বিএমডব্লিউ চড়ে। প্রবাসীরা কেউ মরছে হৃদরোগে। কেউ দূর্ঘটনায়। কোন মৃত্যুরই কৈফিয়ত চায়না সরকার। জিটুজি নিয়ে টক শোতে ঝড় ওঠে নিত্য নীশিতে। একসময় বিলেত তথা বৃটিশরা অনুমতি বা ভিসার অনুমোদন ছাড়াই নীল কষাঘাতে করেছে নীলের চাষ। সমগ্র ভারত এর উপর কর্তৃত্বের অংশ হিসেবে বাঙালীকেও সইতে হয়েছে সে অন্যায় শাষন।শোষন।যে বাঙালির শ্রম আর সম্পদে বৃটিশরা হয়েছে আরো ধনী। আজ বিলেতে আশ্রয় প্রার্থী সেই বাঙালীকেই বৃটিশদের কারাগারে নির্মম ভাবে মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। যে মৃত্যুর আহাজারি তার বাংলাদেশের পরিজনের নিকট পৌছয় না। এ বড়ই মর্ম বেদনার। এ বড়ই করুন। বাংলাদেশের অতি দরিদ্র কিছু মানুষ এক টুকরো মাথা গোজার ঠাঁই আর নগন্য ব্যাবসা করতে রেল লাইনের ধারটুকুই ধার করে সমাজপতিদের কাছ থেকে।একবেলা খাবার জোগাড় করতেই মরতে হয় কাওরান বাজারের অলিখিত ইজারা দেওয়া রেল লাইনে। এ বড়ই কষ্টের। যে কষ্ট পত্রিকার পাতার ছবি আমাদের উপলব্ধি করতে দেয়না। যতটুকু ব্যাথিত হয় আস্তাকুড়ে পড়ে থাকা বাঙালীরা। আর অন্যদিকে পাঁচতারকা কোন হোটেলে চলে কোন বাঙালীর চাওয়ার চেয়ে ঢেড় বেশি পাওয়া। প্রসঙ্গ ছিল কলঙ্ক।বাংলাদেশের। স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষ।এ যেন দ্বিজাতিতত্ব বোধ হয়। এই অবস্থা বোধ হয় স্বাধীনতা প্রাপ্ত কোন দেশেই এত প্রকট না। এত বিভক্তি কেন হবে। দেশে দেশে যুদ্ধাপরাধ নিয়ে হয়েছে বিচার। কিন্ত এমন বিশৃংখল অবস্থা কোথাও হয়নি। এর কারণ কি।কে তাহলে মূলত দেশপ্রমিক। যে দেশটি এখনও অর্থনীতির অাঁতুড় ঘরেই হাটাচলা করছে। তার রাজনীতি প্রিয়তা দেশটিকে পেছনে হাটতেই সহযোগিতা করছে। কিন্ত সামনে যাওয়াই ছিল কাম্য। শাহবাগ-ব্লগার, হেফাজত-মানবাধিকার লংঘন। এই পরিস্থিতি কি রাজনৈতিক অতি স্বার্থপরতা নয়।রাজনীতি আমাদের অধিকাংশেরই পছন্দ নয়। কিন্ত আজ এ কি অবস্থা। রাজনৈতিক মতাদর্শ না থাকলে সে যেন আজ আর বাঙালী নয়। সে যেনই অচ্ছুত।তা হবে কেন। এ দেশের কোন শত্রু মোকাবিলার জন্য বাজেট করার প্রয়োজন হয়না। প্রতিরক্ষা খাতে যেটি ব্যায় হয় এটি পৃথিবীর প্রতিটি দেশেরই রূটিন ওয়ার্ক। তাহলে আমরা এগুচ্ছি কোথায়। অামরা কি পিছিয়ে যাচ্ছিনা।আমরা তো শত্রুর মোকেবেলা করার অহেতুক সময় নষ্ট করার প্রয়োজন বোধ করছিনা। না কি আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের শত্রু। আমরা কি চাই। জনগনের সেবা করতে? ভালো কিছু করতে? তাহলে এত ভালোর ভীড়ে মানবাধিকার কুন্ঠিত হবে কেন। অসহায় হবে কেন মানুষই। প্রথমে স্বৈরশাসক হিসেবে হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ করেছিলেন প্রহসনের নির্বাচন। এরপর বেগম খালেদা জিয়া। তাই বলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেই কেন করতে হবে একই পূনরাবৃত্তি। পত্রিকায় পাতায় কেন লেখা হবে প্রহসনের নির্বচন! আর এ শাষনের শোষন-বলি হয়েছে মানুষ। মিডিয়া। স্বাধীনতার পর থেকে একটু একটু করে পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে প্রেস ফ্রিডম এগিয়েছে অনেক দূর। কিন্ত বিংশ শতাব্দির শুরুতেই বিএনপি সরকার বন্ধ করেছে টেলিভিশন। এবং এটিই ধরে নেয়া যায় ব্রডকাস্ট মিডিয়ার প্রথম অচলায়তন। বন্ধ করা হয়েছিল একুশে টেলিভিশন। যার জনপ্রিয়তা সরকারি গণমাধ্যমকে ছাড়িয়ে নিজেই হয়ে উঠেছিল মহিরুহু। কালের বিবর্তনে এরই ধারাবাহিক আক্রোশ কি আমরা চেপে রাখতে পেরেছি। আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধ করেছে চ্যানেল ওয়ান। এরপর বন্ধ হয়েছে দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন। এর মাঝ পথে সিএসবি টেলিভিশন,যমুনা টেলিভিশন,মা্ই টিভি, বিজয় টিভি প্রভৃতি ক্ষনকালের ব্যাবধানে বন্ধ এবং তা বিশেষ কৃপায় আবার আলোর মুখ দেখে।যদিও দেশের ইতিহাসে প্রথম সংবাদ ভিত্তিক চ্যানেল সিএসবি এ যাত্রায় বোধ হয় চিরকালের জন্যই হারিয়ে গেছে। পত্রিকা বন্ধের ইতিহাস খুবই সীমিত।৭১ পরবর্তী সময়কে আর আমরা এই টাইমলাইনে অানতে চাইনা।কেননা বিংশ শতাব্দির কোথায় হাটছি সেটাই এখন ভাবনা বিষয়। তবু গত দশক এবং চলতি দশকের মধ্যে বন্ধ হল আমার দেশ। ইনকিলাবও আছে তালিকায়। তবু থেমে থাকেনি পত্রিকা। টেলিভিশন গুলোর কি হল। এগুলো কি মঞ্চের নাটক দেখায়। যা দেখে সরকারগুলি বারে বারে সাংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থে বন্ধ করে? নাকি "নিউজ এজ ইট ইজ" হলেই গাত্র-দাহ হয়। প্রকৃত সংবাদকর্মী বা মিডিয়া কর্মীরা কখনই বলে না অমরা পলিটিক্যাল। বলে আমরা প্রফেশনাল।আর এই প্রফেশনালদেরই যত ভয় সরকারে থাকা কর্তৃত্বের । আমরা মানবাধিকারের প্রশ্নে ভালো র্যাঙ্কিং পেতে চাই।ফ্রিডম অব স্পিচের শীর্ষে থাকতে চাই। চ্যানেল ওয়ান। ইসলামী টেলিভিশন।দিগন্ত টেলিভিশনকে পূণসম্প্রচারে দেখেত চাই।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগনকে রক্ষা করুক। হত্যা নয়। আমরা কলঙ্ক মুক্ত হতে চাই। আমরা উন্নয়নের বাংলাদেশকে দেখতে চাই। কালের কলঙ্ক চাপা রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ লিখছে কলঙ্কেরই ইতিহাস। - ফিরোজ কবীর, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী মিডিয়া কর্মী। ২ সেপ্টেম্বর ১২০১৪


পাতাটি ২৮৪৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।