দশদিক মাসিক

হোম প্রবাস সংবাদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি::
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে পাসপোর্টের তথ্য লেখা এবং পড়ার কাজটি শুরু করেছে। যাকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা সংক্ষেপে এমআরপি (গজচ) বলা হয়ে থাকে। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলো এতদিন পিছিয়ে ছিল। উন্নত দেশগুলো বারবার চাপ দেয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ হচ্ছিল না বা উন্নয়নশীল দেশগুলো অনেকটাই উদাসীন ভাব দেখিয়েছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।
অবশেষে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রথা চালু করার জন্য। আগামী মার্চ ২০১৫ এর সময়সীমা। এরপর আর হাতে লেখা কোনো পাসপোর্ট গ্রহণ করা হবে না। অর্থাৎ এর মধ্যে যারা ব্যর্থ হবেন, তারা আন্তর্জাতিক মহল থেকে ছিটকে পড়বেন।
বর্তমানে সারাবিশ্বে বিভিন্ন কারণে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বসবাস করছেন বৈধভাবে। আর অবৈধপথে এবং প্রতি বছর যাতায়াত করছেন আরও বহুসংখ্যক। এদের প্রত্যেকেরই দরকার সরকারি ছাড়পত্র বা পাসপোর্ট। বাংলাদেশিদের পাসপোর্টের রং সবুজ হওয়ায় প্রবাসীদের কাছে তা সবুজ পাসপোর্ট হিসেবেই সমধিক পরিচিত।
বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সৌদি আরবে ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৫, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭, কুয়েতে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৩৬২, মালয়েশিয়ায় ৭ লাখ ৮ হাজার ৪৪২, সিঙ্গাপুরে ৫ লাখ ২১ হাজার ৭৩৫, ওমানে ৯ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ এবং কাতারে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ জন শ্রমিক গিয়েছেন। (সূত্র : মানবজমিন)
আর জাপানে এই সংখ্যা নেহায়েতই কম। ইন্টারনেট সূত্র অনুযায়ী ৯ হাজার ৮৮২ জন। দূতাবাস সূত্র অনুযায়ী প্রায় ১১ হাজার। যার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬০০ জন এবং অন্যভাবে ৯ হাজারেরও কিছু বেশি।
আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের চাপে বাংলাদেশে ২০১৩তেই এমআরপি কার্যক্রম শুরু হলে জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসে এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৫ মার্চ ২০১৪তে। টোকিও দূতাবাস ৪২তম মিশন হিসেবে এমআরপি ও এমআরভি (মেশিন রিডেবল ভিসা) চালু হয়।
বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তাক আহম্মেদ, এমআরপি এবং এমআরভি প্রজেক্টের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাসুদ রেজওয়ান দূতাবাস ভবনে স্থানীয় প্রবাসী মিডিয়াকর্মী এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন করেন।
প্রথমদিকে প্রবাসীদের অজ্ঞতা এবং দূতাবাসের সীমাবদ্ধতার জন্য প্রতিদিন ৮-১০টির বেশি কাজ করা যেত না। প্রবাসীদের অজ্ঞতা বলতে এমআরপি শুরু হওয়ার কথা না জানা, জানলেও অনলাইনে ফিলআপ না করে সরাসরি দূতাবাসের দ্বারস্থ হওয়া, জন্মনিবন্ধন না করানো ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। আর দূতাবাসের সীমাবদ্ধতা বলতে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের অভাব, স্থান সঙ্কুলান, কাজের পরিবেশকে বুঝানো হয়েছে।
এই বছর এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন ৮/৯টির মতো আবেদন জমা নিতে পারছেন। যদি এই ধারা বজায় থাকে তাহলে ২০১৫ মার্চের মধ্যে সকলের পাসপোর্ট এমআরপিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না বলে বেশ উদ্বিগ্ন রয়েছেন তিনি।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং মেধাবীদের তিনি এমআরপি ও এমআরভি সেকশনে নিয়োগ দেন। দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি শাহনাজ রানুর নেতৃত্বে ৭ জন তরুণ মেধাবী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে কনস্যুলার ভবনে স্থানান্তর করেন।
১৫ জুলাই ২০১৪ শাহনাজ রানু দায়িত্ব বুঝে নিয়ে রাষ্ট্রদূতের পরামর্শ মোতাবেক কাজ শুরু করেন। প্রথম চার মাসে যেখানে ৯শ’র মতো পাসপোর্টের আবেদন জমা নিতে পেরেছিলেন সেখানে পরবর্তী দুই (১৫ জুলাই-১৫ সেপ্টেম্বর) মাসে ১১শ’রও কিছু বেশি আবেদন জমা নিতে পেরেছেন। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম রোববার সর্বাধিক ৪২টি আবেদন জমা এবং ৫০টি পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে সক্ষম হন যা এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ রেকর্ডও বটে। উল্লেখ্য, প্রবাসীদের অনুরোধে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানের (চারদলীয় জোট) নির্দেশে মাসের ১ম রোববার দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগ খোলা রাখা হয় এবং দূর-দূরান্ত থেকে প্রবাসীরা বিভিন্ন কাজের জন্য আসেন।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এমআরপি নিয়ে কাজের গতিতে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছিলাম না। যেভাবে বা যে গতিতে কাজ এগোচ্ছিল তাতে করে ২০১৫ মার্চের মধ্যে সব পাসপোর্ট প্রদান করা সম্ভব হবে না বলে আমার ধারণা হয়। কিন্তু এর মধ্যে তো কাজটি করতেই হবে। নচেৎ প্রবাসীরা বিপদে পড়ে যাবে। তাই সার্বিক বিবেচনায় গত জুলাই মাসে আমি কলিগদের সঙ্গে মিটিং করে মিশনের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন বা রি-অর্গানাইজড করি। শাহনাজ রানুর নেতৃত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম তৈরি করে দেই। এদের সবাই তরুণ ও মেধাবী। এখন মনে হচ্ছে কাজটি করা ভালোই হয়েছে। সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। তারাও বেশ আস্থা নিয়ে কাজ করছে।
গত দুই মাসের পর্যালোচনায় কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন এখন ২০ থেকে ২৫টি আবেদন গ্রহণ করতে পারছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি এমআরভি প্রদান করতে পারছেন। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও টিম যেভাবে কাজ করতে পারছে তাতে আমি আশাবাদী যে, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমরা সেবা প্রদানে সক্ষম হব। এখন প্রবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের জানান দিতে হবে। আমরা ওয়েবসাইটে দিয়েছি। সম্ভাব্য সকল ধরনের প্রচারের ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রবাসীরা সময় থাকতেই যদি আসেন উভয়ের জন্য মঙ্গল হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, কাজে গতি আনার জন্য স্থানীয়ভাবে অস্থায়ীভিত্তিতে একজন আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিজাম নামের নিয়োগকৃত ছেলেটির প্রথম দুই মাস কাজের মূল্যায়ন করেই এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে। আপনি জানেন, মাসের প্রথম রোববার দূতাবাসের কনুস্যলার বিভাগ খোলা থাকে এবং সেই দিনই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আবেদন জমা এবং পাসপোর্ট প্রদান হয়ে থাকে। যদি বিশেষ দরকার হয়, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে মাসে ২টি রোববার খোলা রেখে প্রবাসীদের সেবা দেবার চিন্তাও রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানান, একটি মাত্র ক্যামেরা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় সার্ভার থেকে লিংকটি ডাউনলোড করতে মাঝপথেই থেমে যায় সেভ করার আগেই। সেই ক্ষেত্রে আবার প্রথম থেকে কাজটি শুরু করতে হয়। ডাউনলোডেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি রয়ে যায়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও কাজে বিড়ম্বনা হয়। সিঙ্গেল সিস্টেমের কারণেই এটা বেশি হয়। এছাড়া একটি মাত্র ক্যামেরা, যদি কোনো কারণে বিগড়ে বসে বা ভেঙে যায় বা অকেজো হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আরও বেশি বিপদে পড়তে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে আমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন শীঘ্রই তিনি ব্যাকআপ সিস্টেমের ব্যবস্থা নিবেন। আপনি জানেন যে, এমআরপি এবং এমআরভির পুরো কাজটি পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা। সেনাবাহিনীর একদল চৌকস অফিসার এই সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদেরই নিরলস প্রচেষ্টায় কাজটি এগিয়ে চলেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসীরা যদি আরেকটু সচেতন হন, তাহলে কাজটি আরও সহজতর হয়। যেমন অনেকেই অনলাইনে ফরমটি পূরণ না করে হাতে লিখে নিয়ে আসেন। হাতে লেখা ফরম নিয়ে এলে বানান ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সময়ও লাগে বেশি। যেমন অনলাইনে পূরণ করে প্রিন্ট করে নিয়ে এলে কিংবা কর্তৃপক্ষ প্রেরিত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিয়ে আসার পরও সব মিলিয়ে ১৫ মিনিটের মতো সময় লেগে যায় এক একটি আবেদনের ক্ষেত্রে। আর হাতে লিখে নিয়ে এলে তা দেখে দেখে কম্পোজসহ সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট।
এছাড়া শিশুদের বেলায় সময় লাগে আরও বেশি। যেমন দুধের একটি শিশুর ছবি তুলতে গেলে অনেক বেগ পেতে হয়। কম্পিউটারের ডাটাবেজ অনুযায়ী ছবির বেলায় মুখমণ্ডলের ছবি থাকতে হবে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং পিছন দিকটা হতে হবে সাদা। এখন ওই শিশুকে তো আর বসিয়ে কিংবা দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা যাবে না। তুলতে হবে মায়ের কোলে। তাহলে আবার ব্যাকসাইড শর্ত ভঙ্গ হবে। শর্ত ভঙ্গ হলে কম্পিউটার তা গ্রহণ করবে না। তাই অনেক সময় কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হলে তারা কিছুটা শিথিল করেছেন শিশুদের ছবি তোলার বেলায়। পাসপোর্ট ডেলিভারিতেও সময় কম লাগছে এখন। প্রথমদিকে আবেদন গ্রহণ করার পর থেকে প্রদান করা পর্যন্ত ৬ সপ্তাহের ওপর সময় লেগে যেত। এখন ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যেই আমরা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছি।
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিবন্ধীদের বেলায় দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকে।
স্থান সঙ্কুলান সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আপনি জানেন এটি একটি ভাড়া বাড়ি। বাড়িটি ভাড়া নিয়ে আমরা যাবতীয় কর্ম পরিচালনা করছি। সেই কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা সব ধরনের সেবা দিতে পারছি না। তবে আগামীতে যখন আমাদের নিজস্ব ভবন হবে, তখন আমরা প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের কথাটি মাথায় রেখে দূতাবাস ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করব।
কবে নাগাদ নিজস্ব ভবন নির্মিত হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বছরের শেষ নাগাদ কাজটি শুরু হবে এবং আগামী ১৪ মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন হবে। সেই হিসাবে ইনশাআল্লাহ ২০১৬ সালে জাপানপ্রবাসীরা জাপানের মাটিতে তাদের নিজস্ব দূতাবাস ভবন পাবেন এবং দূতাবাসও সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে সচেষ্ট থাকবে।
এছাড়াও রাষ্ট্রদূত জানান, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী জাপানি ভাষায় ভাষান্তরের কাজটিও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এনএইচকে (জাপান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) ওয়াও-এর বাংলা বিভাগের প্রধান ওয়াতানাবে কাজটি করছেন। আপনারা কিছুদিনের মধ্যেই জাপানিদের কাছে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পৌঁছে দিতে পারবেন। জাপানিরা বঙ্গবন্ধুকে আরও ভালোভাবে জানবে, সেই সঙ্গে জানবে বাংলাদেশকে।
দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব এবং এমআরপি ও এমআরভি টিমপ্রধান শাহনাজ রানু জানান, রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়ে এবং তার তদারকিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা কাজটি করতে পারব ইনশাআল্লাহ। তবে এই ব্যাপারে প্রবাসীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা যদি সময় শেষ হওয়ার আগেই কাজটি করিয়ে নেন তাহলে ভালো হয়।
কাজ করতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহনাজ রানু বলেন, সমস্যা তো কিছু হচ্ছেই। যেমন ধরেন, সবকিছুই করতে হচ্ছে অনলাইনে। এখানে জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যাপার আছে। অনেক প্রবাসীই আছেন অনেক আগেই দেশ ছেড়েছেন। জন্মনিবন্ধন কী তা-ও জানেন না এমন প্রবাসীও রয়েছেন। এখন বাংলাদেশে প্রান্তিক পর্যায়ে আন্তর্জাল সুবিধা অতটা সহজলভ্য নয়, তাই সর্বশেষ আপডেট জানা সম্ভব হচ্ছে না। জন্মনিবন্ধন করেননি এমন প্রবাসীও রয়েছেন। আবার করে থাকলেও কপি বা মূল কোনোটাই সঙ্গে নেই। এমনকি নম্বরটি পর্যন্ত জানেন না। অজোপাড়াগাঁ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইমেইল বা অন্য কোনো প্রসেসে আনাও সম্ভব নয়। বাইপোস্টে আনা সময়সাপেক্ষ। আবার দেখা যায় পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধ পত্রের তথ্য অভিন্ন নয়। বানান ভুলও থাকে। সেই ক্ষেত্রে আমরা এখান থেকে পাসপোর্টে দেয়া তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফি নিয়ে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করে থাকি। কী করব বলেন, এটার জন্য তো আর সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। আবার এটা ছাড়া অনলাইনও আবেদনটি গ্রহণ করবে না।
স্থানীয় প্রবাসী রাজনৈতিক বা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে কোনো প্রকার চাপ বা তদবিরের সম্মুখীন হচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাহনাজ রানু বলেন, অন্য দেশের কথা বলতে পারব না। তবে, যেহেতু জাপানে কাজ করছি তাই এখানকার অভিজ্ঞতা থেকেই বলব, কোনো ধরনের চাপ তদবির এখানকার নেতৃবৃন্দ করছেন না। বরং সহযোগিতাই করছেন, এমনকি নিয়ম মেনেই নিজেরটাও করছেন। জাপান প্রবাসীরা খুব হেল্পফুল। তারা একদিকে যেমন জাপানি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তেমনি অপরদিকে রয়েছে গভীর দেশপ্রেম। দেশের কোনো বদনাম হবে, এমন কোনো কাজ তারা করছেন না। সেই হিসেবে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবতী মনে করি এমন একটি পরিবেশ পেয়ে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশ সংস্কৃতির সব ধরনের আয়োজনই তারা জাপানের আইন মেনেই করে থাকে। সবচেয়ে গর্বের ব্যাপার হচ্ছে এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য সম্পর্ক বিদ্যমান।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক এমআরপি সমস্যাজনিত কারণে ঝুঁকিতে রয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে না পারলে এসব দেশে লাখ লাখ শ্রমিককে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে হবে।
বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সাতটি দেশে অবস্থিত ১০টি মিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা উইং স্থাপনের অনুমোদন দেন। সরকারি আদেশও জারি করা হয়। কিন্তু বাদ সাধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিজেদের কর্তৃত্ব হাতছাড়া করতে রাজি নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা উইংয়ের জন্য সৃষ্টি করা ৭৩টি নতুন পদের বিরোধিতা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেরিত এক চিঠিতে জানা যায়, সারা বিশ্বে ২০১৫ সালের মধ্যে এমআরপি এবং এমআরভি কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং। তা নিত্যান্তই সাময়িক। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, আউট সোর্সিং কার্যক্রমের দ্রুত বাস্তবায়ন, এমআরপি ও এমআরভি-র ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার যেমন অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই, ঢাকাস্থ পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব। এতে একদিকে যেন নতুন পদ সৃষ্টি ও দাপ্তরিক স্থাপনা সম্প্রসারণ এড়ানো সম্ভব হবে, তেমনি অপরদিকে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ভার পরিহার করেও উন্নত কনস্যুলার সেবা দেয়া সম্ভব হবে। সূত্র মানবজমিন।
চিঠি চালাচালিতে যা-ই উঠে আসুক না কেন, স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে মিশনগুলোতে এত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীদের এমআরপি প্রদান যে প্রায় অসম্ভব, এটাই বাস্তবতা। আর তা সম্ভব না হলে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে প্রবাসীদের। যাদের অর্থে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, তাদের বিড়ম্বনা লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ পদক্ষেপ নেবেন, এটাই প্রবাসীদের কাম্য। জাপানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের আশাবাদে জাপানপ্রবাসীরা সন্তুষ্ট হতে পারলেও অন্যান্য দেশে আশার আলো ক্ষীণ। সরকার যত তাড়াতাড়ি বিষয়টি অনুধাবন করে ব্যবস্থা নিতে পারবে, প্রবাসীদের ততটাই মঙ্গল হবে।
rahmanmoni@gmail.com

-সৌজন্যেঃ সাপ্তাহিক


পাতাটি ৩২৮১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।