দশদিক মাসিক

হোম বিশেষ রচনা রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম

রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম


মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই চায় অল্প পুঁজিতে বা অল্পশ্রমে বেশি লাভ করতে। যে খানেই এক পন্যের সাথে আরেকটি পন্য ফ্রি পায় সেখানেই সবাই ভিড় জমায়। শুনেছি জাপানে একশ ইয়েন ফ্রি পেতে পাঁচশ ইয়েন খরচ করে হলেও তা সংগ্রহ করে থাকে। শুধু জাপানিজদের মধ্যে নয়, বরং আমাদের মুসলমানদের মধ্যেও এ প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। আমরা সামান্য আমল করেই জান্নাত হাতের মুঠোয় পেতে চাই। আর আল্লাহ মুসলমানদের এ মনোভাব বুঝতে পেরেই তার প্রিয় বান্দারে জন্য রমজান মাস দান করেছেন। কেন না রমজান মানেই কম আমলে বেশি সওয়াব লাভ করে জান্নাত লাভের সুব্যবস্থা।

রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত: রমজান হিজরতের নবম চন্দ্রমাস। রমজান অর্থ আগুনে পুরে যাওয়া। উত্তপ্ত হওয়া। যেহেতু এ মাসেই রোযাদাররা ক্ষুধায় তৃষ্ণায় পুড়ে যায় এবং এ মাসে রোযাদারদের পাপ সমূহ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাই এ মাসকে রমযান বলে নামকরণ করা হয়েছে। 11 মাসের অপবিত্রতা দূর করতেই মাহে রমজান মাসের আগমন ঘটে। এ মাস যারা পেল তারা সৌভাগ্যবান। এমাস পাওয়ার জন্য স্বয়ং নবী হযরত মোহাম্মদ(সা:) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। তাই আমাদেরও সেটা করা উচিত। এ বরকতময় মাসেই মহান আল্লাহ তার রাসূলগনের কাছে ওহী প্রেরণ করতেন। মহা গ্রন্থ আল কোরআন ও আসমানী অন্যান্য কিতাব সমূহ এমাসেই অবতীর্ন করেছেণ। তাই এ মাস হচ্ছে বরকতময় কারন 1. এ মাস ওহী নাযিলের মাস। 2.এমাসেই শয়তানকে শৃঙ্খলবদ্ধ করা হয়। 3. এ মাসেই বান্দার গুণাহ মাফ করে দেওয়া হয়। 4. এ মাস হচ্ছে কম পূজিতে বেশি লাভ করার মাস। এ মাসে প্রত্যেক আমলের সওয়াব 70গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আর তাই এমাসে বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত আর নফল এবাদত করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন করতে হবে।

তারাবীর গুরুত্ব ও মহত্ব: রমজান মাসের সারাদিন রোযা রাখার পর রাত্রে তারাবীর নামায পড়ার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। তারাবীর নামায পড়ার হুকুম হল সুন্নতে মুয়াক্কাদা। যা পালন করা অপরিহার্য। বিনা ওযরে ছেড়ে দিলে অবশ্যই গুনাহগার হতে হবে। নবী হযরত মোহাম্মদ(সা:)থেকে শুরু করে সাহাবীগন ও তাবেঈন সালফে সালেহীন সকল যুগে ধারাবাহিকভাবে এর আমল অদ্যবদী চলে আসছে। এ অল্প সময়ের এবাদতের মাধ্যমে আললাহর সন্তষ্টি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। তাই আমাদের তারাবীর নামায পড়ার ক্ষেত্রে বেশি করে মনোযোগী হতে হবে। নবী (সা:)তারাবীর নামায সম্পর্কে বলেছেন,“ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের প্রত্যাশায় তারাবীর নামায আদায় করবে, আললাহপাক তার সারা জিন্দেগির গুনা মাফ করে দিবেন।” (মুত্তাফাক আলাইহ্)।

জানা অজানা:
1. শরীয়তের ওযর ব্যতীত রমযানের রোযা কখনোই পালন না করা বা ভাঙ্গা যাবে না।
2. রোযা অবস্থায় ভুলবশত কেউ যদি কিছু খেয়ে ফেলে বা স্ত্রী সহবাস করলেওে রোযা ভাঙবেনা। তবে স্বরণ হওয়া সাথে সাথে তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
3. অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে রোযা ভাঙবেনা। তবে বমি যদি পূর্নবার গিলে ফেলে তা হলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।
4. মুখের লালা বা থুতু যত বেশিই হোকনা কেন তা গিলে ফেললে রোয়া ভাঙবেনা।
5. গোসল ফরয হলে সেহেরী গ্রহনের পূর্বে গোসল করা আবশ্যক। তবে ভুলে গেলে রোযা নষ্ট হবে না। স্বপ্ন দোষে রোযার কোন ক্ষতি করে না।
6. রোযা অবস্থায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যে কোন ধরনের ইনজেকশন বা স্যালাইন গ্রহন করলে রোযা ভাঙবেনা।

লেখক: মুফতি হাবীব আহমাদ খান
ইমাম ও খতীব, কামাতা মসজিদ, জাপান
মুঠোফোন: 07069464832


পাতাটি ১৩৫৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।