দশদিক মাসিক

হোম ভাল মানুষ হতে চাই

ভাল মানুষ হতে চাই

-কাজী সাদ্দাম হোসেন


উত্তরা হাইজবিল্ডিং নর্থ টাওয়ার পিছনে চা স্টলে দাড়িয়ে চা পান করতে ছিলাম। হঠাৎ পিছন থেকে একটা ছেলে ( বয়স ৯ কি ১০ বছর ) আমার হাত ধরে বলতে লাগলো স্যার ৫টা টাকা দেন , ৫টা টাকা দেন.. এভাবে কয়েকবার বলল। আমি কিছুটা বিরক্তি বোধ করলাম । বললাম টাকা দিয়ে কি করবা। ছেলেটি বলল কিছু খামু । আমি কাওকে টাকা দেইনা । দেন না স্যার দেন না স্যার ছেলেটি কয়েক বার বলতে লাগলো। লক্ষ্যে করলাম ছেলেটার পাশে ওর বয়সি আরেকটা ছেলে , হাতে বড় একটা বস্তা । কিন্তু ছেলেটা কিছু বলছে না । আমি বললাম তোমরা কি কর ওরা দু’জন বলল আমরা বোতল টুকাই । এতি মধ্যে আমার চা পান করা শেষ । আমি বিলটা দিয়ে ওদের দু’জনকে বললাম চল আমার সাথে তোমরা সামনে গিয়ে বসে একটু গল্প করি তারপর তোমাদের খাওবো । প্রথম ছেলেটা ( যে ছেলেটা টাকা চেয়েছিল ) ও বলল না আপনে এহনে টাহা দেন । আমরা কিনা খামুনে । কিন্তু দ্বিতীয় ছেলেটা কিছু বলল না । এরপর দ্বিতীয় ছেলেটা প্রথম ছেলেটাকে বলল ,চল কাজ করিগা টাহা চাইতে হইব না । প্রথম ছেলেটাকে ওকে ধমক দিল বলল, চুপ থাক ।
এবার আমি দুজনের কাধে হাত রেখে বললাম চল একটু সামনে যাই তোমদের খাওয়াবো । এই অবস্থা দেখে প্রথম ছেলেটা বলল, তাইলে আমার এক বন্ধু আছে ওরে ডাইকা লইয়া আহি এই বলে দৌড় দিল । দ্বিতীয় ছেলেটা বলল, ও আর আইব না ভাই । আমি বললাম কেন । ছেলিটি বলল. ওর এমনই সভাব কাম না কইরা খালি টাহা চাইব মাইনষের কাছে । না দিলে থাকবো না চইলা যাইব । টাহা দিয়া খালি আবি জাবি খাইব । আমি বললাম ও । তারপর ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলাম নাম কি তোমার ।
-রিয়াজ
-রিয়জ চল আমরা একটু বসি আমি বললাম।
-আচ্ছা চলেন।
আমরা দু’জন সামনে হেটে একটা বাসার রেলিং এ বসলাম। রিয়াজকে বললাম বোতল টুকাও কেনা ।
-পেটের জ্বালায় ভাই ।
-শুধুকি বোতল টুকাও নাকি অন্যের কাছে টাকা চেয়ে বেড়াও ।
-আমি কারও কাছে টাহা চাইনা । দেহেন নাই আমি কি আপনার কাছে টাহা চাইছি একবার । ওরা হুধু টাহা চায় কাম না কইরা । আমি হুদু কাম করি ।
-টাকা চাওনা কেন ?
-ভাই অন্যের কাছে টাহা চাওয়া ভাল না। নিজে কাম কইরা খামু তাতে অনেক শান্তি । পড়ের টাহায় কোন শান্তি নাই ।
-রিয়াজ তুমি কি পড়শুনা কর ?
-না , পড়হুনা করলে পেড চলবো কেমনে ।
-তোমার বাবা কি করে।
-বাবা নাই অনেক আগে মারা গেছে।
-আর মা।
- মা অন্যের বাইতে কাম করে।
-ভাই বোন নেই ।
- একটা বইন আছে গার্মেন্টসে কাম করে ।
-তোমার কি পড়শুনা করতে মন চায় না ।
-হ চায়ত কিন্তু পড়াহুনা করলে কি পেড চলবো ।
-কেন তোমার মা-বোন’ত কাজ করে
-বইনে যা পাই তা দিয়া ঘড় ভাড়া দেয় । মা’ইর টাকা দিয়া চলে না । তাই আমার কাম করতে হয় ।
-বোতল টুকিয়ে সারাদিন কত টাকা পাও ।
- এই’ত ১০০-২০০ টাহা ।
-এই টাকায় হয় তোমাদের ।
-হইয়া যায় ভাই । আল্লায় চালায় ।
-বড় হয়ে কি হতে চাও ।
- মায় কয় তোরে পড়াহুনা করাইতে পাড়লাম না । তাই বইলা খাড়াপ মানুষ হইস না ভাল মানুষ হইস । তাই আমি ভাল মানুষ হইতে চাই ।
-ও, তাই ।
- আইচ্ছা ভাই পড়াহুনা করলেই কি ভাল মানুষ হওয়া যায় । না করলে কি হওয়া যায় না ।
-হুম যায় । আচ্ছ রিয়াজ চল তোমাকে কিছু খাওয়াই ।
-না ভাই আমি কিছু খামু না ।
-খাব না বললে হবে না । বল কি খাবা ।
-না আমি কিচ্ছু খামু না ।
-খাবা না । তাহলে আমার সাথে আসলা না কেন ।
-আপনে কইলেন তাই । আপনারে দেইখা ভাল লাগলো তাই ।
-ও আচ্ছা । তো কিছু খেলে সমস্যা কি ।
-অন্যের কাছে খাইলে স্বভাব খারপ হইয়া যায় ।
-কে বলেছে তোমায়।
-মা কইছে ।
আমি কিছু টাকা বের করে রিয়াজের হাতে দিলাম। বললাম টাকাটা রাখ । রিয়াজ বলল না ভাই টাহা আমি নিতে পারুন না ।
-কেন ?
-ভাই কাম কইরা খাইতে চাই । অন্যের টাহায় না ।
-আমি জানি । টাকাটা আমি খুশি মনে দিলাম তোমাকে ।
-না ভাই তবুও আমি নিতে পারুম না ।
আমি আর কিছু বললাম না। রিয়াজ বলল ভাই আমি যাই অনেক দেরি হইয়া গেল। ও তাইতো তোমার অনেক দেড়ি হয়ে গেল। আচ্ছা যাও তাহলে ভাল থেকো। আপনেও ভাল থাকবেন আমার জন্য দোয়া কইরেন যেন ভাল মানুষ হইতে পারি। এই বলে রিয়াজ চলে যেতে লাগলো। আমি রিয়াজের যাওয়া দিকে তাকিয়ে রইলাম অনেক্ষণ।

পাতাটি ৪৫৫৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।