সম্পাদকীয়

হোম দশদিক সংখ্যাঃ ৮০


সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক


আরাকান রাজ্যে বা রাখাইন স্টেট শান্তি ফিরিয়ে আনতে রোহিঙ্গাদের অবাধে চলাচলের স্বাধীনতা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিতের জোরালো তাগিদ দিয়ে সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের রিপোর্ট মিয়ানমার সরকারের কাছে পেশ করা হয় গেল ২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন আনান কমিশনের রিপোর্টকে অংসান সুচির জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা’ হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু এরপর কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই সমগ্র আরাকানজুড়ে নিরস্ত্র সাধারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর দলনপীড়ন ও সহিংসতা নতুন মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার ‘বাঙ্গালী’ আখ্যা দিয়ে চলছে রোহিঙ্গা মুসলমান খেদাও অভিযান। রাতের আঁধারে অতীতের সেই একই কায়দায় বিশটি পুলিশ ও নিরাপত্তা চেকপোস্টে ‘বোমা হামলা’ চালায় সুযোগসন্ধানী তৃতীয় কোন পক্ষ কিংবা পাতানো খেলার আওতায়। গতবছরও রোহিঙ্গাদের ‘সন্ত্রাসী’ সাব্যস্থ করেই তাদের উপর সর্বাত্মক নিপীড়ন চালায় মিয়ানমার শাসকগোষ্ঠি ও বৌদ্ধমগরা। ১৯৯১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রেজুপাড়ায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) ক্যাম্পে বর্মী সীমান্তরক্ষীদের হামলা ও অস্ত্রশস্ত্র লুটপাটের ঘটনার পরও একইভাবে নিরীহ রোহিঙ্গাদের উপর নেমে আসে পৈশাচিক বর্বরতা। এবারও অনুরূপ ঘটনার সঙ্গে আবারও শুরু হয়েছে রোহিঙ্গাদের পাড়ায় পাড়ায় বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে নির্বিচারে খুন, গুম, ধর্ষণ, নিপীড়ন, বিতাড়ন, ধর-পাকড় ও গুলিবর্ষণ। আর এর মধ্যদিয়ে মুসলমান জনসংখ্যা-বহুল আরাকানে শাসকগোষ্ঠি কার্যত পোড়ামাটি নীলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবরকমের বর্বরতা ও নিষ্ঠুর কার্যক্রমই শুরু চালাচ্ছে অব্যাহত। প্রতিনিয়তই চলছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর ভয়াবহ নির্যাতন-নিপীড়নের স্টিম রোলার। দেশটির সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বিজিপি, পুলিশ ও উগ্র মগদস্যুরা যৌথভাবে এই বর্বরতা চালাচ্ছে। শত শত বাড়িঘর জ্বলছে আগুনে। লক্ষ লক্ষ নর-নারী শিশু-বৃদ্ধ দিশেহারা আরাকানী রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়েই বসতভিটে ছেড়ে পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। জাতিসংঘের ভাষায় পৃথিবীতে সবচেয়ে নিপীড়িত, ভাগ্যাহত ও বাস্তুচ্যূত জাতিগোষ্ঠি রোহিঙ্গাদের চোখের সামনে এখন ঘোর অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই নেই! কয়েকটি মুসলিম দেশ এদের পাশে ত্রান সহযোগিতার হাত বাড়ালেও মুসলিম নিধনে সরব হননি এখনও। বাংলাদেশ সরকার তার সাধ্যানুযায়ী রহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় সহ সকল সহযোগিতা করছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে সকল মুসলিম রাস্ট্র, বিভিন্ন ইসলামিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাদের অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। দেশে এবং বিদেশে প্র্রতিবাদ, বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। জাপান, আমেরিকাসহ প্রবাসে চলছে মায়ানমার দূতাবাসকে ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ। বাংলাদেশে এবং প্রবাসের বসবাসরত জনসাধারণ টাকা পয়সা, খাবার সহ নানা প্রকার ত্রাণ সহযোগিতা নিয়ে চেষ্টা করছে এদের জীবন বাঁচাতে। জাতিসংঘকে নিতে হবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ভন্ড মানবতাদী নোবেল বিজেতাদের মুখোশ উন্মোচন করে ফিরিয়ে দিতে হবে মজলুম আরাকানী রোহিঙ্গারা মুসলিমদের অধিকার।

পাতাটি ১৫৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।