সম্পাদকীয়

হোম দশদিক সংখ্যাঃ ৭০


সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক


একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের যে ভাবে নির্যাতন করে মারা হয় তা যে কোন সমান্য বিবেকবান মানুষও তা সহ্য করতে কষ্ট হবে। এ সব নারী ও শিশুদের অপরাধ তারা মুসলিম। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় সারিবদ্ধ ভাবে শিশুদের হাত বিছিয়ে তার উপর মটর সাইকেল চালিয়ে তাদের দু’হাত ভেঙ্গে দিচ্ছে আর বর্বর বৌদ্ধরা তা উপভোগ করছে। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে নির্যাতনে মৃত শিশুরা পানিতে ভাসছে। নারী নির্যাতনে যে মাত্রা তা কোন সভ্য মানুষ কল্পনাও করতে পারবেনা। এমন অনেক জনপদ পুরুষ শুন্য। প্রতিদিন শত শত লোক কে হত্যা করা হচ্ছে, যা বিশ্ব বিবেক দেখেও না দেখার ভান করছে। হায়রে মানবতা ! রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। জাতিসঙ্ঘের ঘোষণা অনুযায়ী পৃথিবীতে সবচে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জাতির নাম রোহিঙ্গা মুসলিম। কুকুর না খেয়ে মারা গেলে যে সভ্য দুনিয়ায় চোখের পানির স্রোত বয়ে যায়, বন্য প্রাণী বাঁচাতে যেখানে কোটি কোটি ডলারের ফান্ড অনায়াসে সংগৃহীত হয়, মায়ানমারে মাসের পর মাস নির্বিচারে নিরপরাধ নারী-শিশু-বৃদ্ধকে হত্যা করার পরও সেখানে কোনো সাড়া পড়ে না। এই বিশ্বে বাঘ সংরক্ষণের আহ্বানে পত্রিকার শিরোনাম করা হয়, সম্মেলন হয় কিন্তু সারাবিশ্বে ৫৭টি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ থাকা সত্ত্বেও মুসলিমদের গণহত্যা থেকে রক্ষা করতে কোনো সম্মেলন হয় না।
দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের শত শত মুসলিম রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন আর সীমান্তে এসে তারা পুশব্যাকের ফলে আবার ফিরে যাচ্ছেন স্বদেশে অথবা ভাসছেন সমুদ্রে। বেদনার আরেকটি দিক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে এই নিষ্ঠুরতা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইনে নতুন করে শুরু হয়েছে সামরিক অভিযান। খবর অনুযায়ী এতে প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক রোহিঙ্গা আর এই সম্প্রদায়ভুক্তরা প্রাণ বাঁচানোর লক্ষ্যে দলে দলে ছুটছেন বাংলাদেশ অভিমুখে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশব্যাক করা ছাড়া উপায় কী! ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা যথেষ্ট সমস্যা সৃষ্টি করেছেন এ দেশের জন্য। বর্তমানে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করছে বাংলাদেশ। এএফপির খবর অনুযায়ী সাম্প্রতিক ঘটনায় ১৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাড়িছাড়া হয়েছে। শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা এবং ১৫ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া কম কথা নয়। এতেও যদি বিশ্ববিবেকে দংশন না হয়, তাহলে আর কবে হবে? মানবিক বিপর্যয় আর কাকে বলে আমরা জানি না। মিয়ানমারের জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সূচি। দেশটির গণতন্ত্র উদ্ধারে সাহসী অবদান এবং শান্তি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পান এই নেত্রী। সম্প্রতি তার দেশ মায়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানে বাস্তুহারা অসংখ্য রোহিঙ্গা মুসলমান এবং রোহিঙ্গা নারীরা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি। মিয়ানমারের আকাশে-বাতাসে লাশের গন্ধ।শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সূচি কি শান্তির বদলে এভিাবেই অশান্তির দাবানলের পাশে মূর্তি হবেন? নোবেল বিজয়ী সূচিসহ বিশ্ব মোড়লদের হস্তক্ষেপই বন্ধ হতে পারে এই গণহত্যা!

পাতাটি ১০৮৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।