সম্পাদকীয়

হোম দশদিক সংখ্যাঃ ৭৫


সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক


খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব জীবনকে মহীয়ান ও সফল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই রমজানের আগমন। পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এ মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পার্থিব লোভ-লালসামুক্ত থাকা, ত্যাগ-সহিষ্ণুতার সাধনা করা এবং মানবিক মূল্যবোধে তৈরি হওয়ার প্রশিক্ষণে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। নব জীবনকে সুন্দর ও পারলৌকিক মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় এই মাসের সিয়াম সাধনা। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সৌর্হাদ্যবোধের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির মহান শিক্ষা অনুশীলনে পবিত্র রমজানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ মাসের ত্যাগ ও সংযমের মহান শিক্ষা আমাদের জন্য রহমত ও বরকতের পাল্লা ভারী করে। অন্যদিকে সমাজ জীবনে সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রমজানের গুরুত্ব অপরিসীম। তারাবি আদায়, ইফতার, সেহরি, দান-খয়রাত, যাকাত-ফিতরা আদায়, লাইলাতুল কদর, ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে মুসলমন জাতি মহান এই মাসে একাত্ম হয়। পবিত্র রমজানের ফজিলত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নেয়ামত স্বরূপ। এই পবিত্র মাসেই পবিত্র কোরআন শরীফ নাজেল হয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, একমাত্র আমারই উদ্দেশ্যে রোজা রাখা হয়। আমি স্বয়ং রোজাদারদের পুরস্কৃত করবো। ইসলামের পাঁচটি রোকনের মধ্যে রোযা তৃতীয় স্তম্ভ। পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ এবাদত। রমজানের রোজার শিক্ষার মধ্যে রয়েছে গরীব দুঃখিদের ক্ষুধার জ্বালা অনুভূত হওয়া, আমাদের মধ্যে সামর্থ্যবান, বিত্তশালীদের অনেকেই অপচয় করতে পছন্দ করেন। তারা বেশি মূল্যে ইফতারি খাওয়ার প্রতিযোগিতা করে থাকেন। সিয়াম সাধনার নামে ভোজনবিলাসে মেতে ওঠেন। যা সমীচীন নয়। কোনো প্রকার অপচয় না করে পবিত্র রোজার মাসে মানুষের সেবায় দান করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয়। মানবতা উপকৃত হয়। সংযমী জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যেকের জীবন হবে পরিশুদ্ধ। এটাই হোক মমিন জীবনের প্রত্যাশা।

আর্থসামাজিক মুক্তিতে মালিক শ্রমিক সু-সম্পর্ক
..................................
মহান মে দিবসের শিক্ষা শুধু শ্রমিকদের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শাণিত করতে অঙ্গীকার নয়, উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় আর্থসামাজিক মুক্তির পথকে ত্বরান্বিত করতে হবে। শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের স্মারক মে দিবস। বাংলাদেশেও সব শিল্পের শ্রমিকদের ও সব কর্মজীবীর ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক তাদের অধিকার। মে মাস আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয় মেহনতি মানুষের আন্দোলনের কথা। এ মাসেই ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরে হে মার্কেটে ধর্মঘট, লাখ লাখ শ্রমিকের সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলে। তাকে স্তব্ধ করার জন্য গুলি চালানো হয়। শ্রমিকের রক্তদানের মাধ্যমে এতে জন্ম নেয় এক নতুন ইতিহাস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশেও পালিত হয় মে দিবস। শ্রমিক শ্রেণী কেবল উৎপাদন ব্যবস্থারই প্রধান শক্তি নয়, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনেরও অন্যতম কারিগর। বিশ্বে এখনো শ্রমিকদের নানামুখী বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সংগত করণীয় আরো অনেক কিছু বাকি। মানবসভ্যতার চাকা এগিয়েছে শ্রমদানকারী শক্তির শ্রম, ঘাম আর রক্তের ওপর দিয়ে। আজ বৈষম্য হ্রাস করে শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়ে সরকারসহ সব সামাজিক শক্তিকে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। শিল্পের মালিকদেরও হতে হবে আরো মানবিক। তাদের মানবিকতা শুধু শ্রমিককে তার কাজে অধিক উদ্বুদ্ধই করবে না, এর বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব রাষ্ট্রেও পড়বে। শুধু আইন সংশোধন করে শ্রমনীতি আরো স্পষ্ট করতে হবে। তৈরি করতে হবে শ্রমিক বান্ধব পরিবেশ।

পাতাটি ৯৭৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।