সম্পাদকীয়

হোম দশদিক সংখ্যাঃ ৭৭


সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক



ব্যবসায়িক সু-সম্পর্ক ও জাপান-বাংলাদেশ সম্প্রীতি

জাপান-বাংলা সম্পর্কের ইতিহাস বহু পুরনো। প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাস রয়েছে সে সম্পর্কের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর দুই দেশের আস্থার সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি জাপানের নাগোয়ায় জি৭ আউটরিচ বৈঠকে যোগ দিয়ে শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপীয় এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘদিন ধরে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিভিন্ন খাতে নিঃশর্ত সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশও জাপানের সমর্থনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে এসে দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও পোক্ত করেছে। বিষয়টি জাপানের শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে জাপান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে, অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিবিড় করেছে; যা অন্য দেশগুলোর জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে। জাপানের মতো দেশ যদি বাংলাদেশের সঙ্গে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সহজেই।

আর এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে পারে দু’দেশের অর্থনীতির প্রধান সঞ্চালক ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দরা। সম্প্রতি জাপান সফরে এসে একথাই দৃঢ় ভাবে তুলে ধরলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এইচ এম শাহরিয়ার আলম। তিনি বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমারচ এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন জাপান (বিসিসিআইজে ) এর মতবিনিময় কালে বলেন,“বর্তমানে জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক উঁচুতে রয়েছে । এই সম্পর্ক আমাদের ধরে রাখতে হবে । এখানে সবাই আপনারা নিজ নিজ প্রচেষ্টায় আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন । আপনাদের উদ্যোগই পারে দুই দেশের ব্যাবসায়ীক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে । রাজনৈতিক মত পার্থক্য থাকবে, দলীয় কোন্দল ও থাকতে পারে। তবে কোন মতেই তা যেন দুই দেশের মধ্যে কোন নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।

কিছু নেতিচাক ঘটনা ঘটলেও, দুই দেশের পারস্পরিক কোনো ইস্যুতে সম্পর্কের অবনতি তো দূরের কথা, ন্যূনতম মতপার্থক্যও সৃষ্টি হয়নি। জাপান শুধু বাংলাদেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারই নয়, আন্তর্জাতিক পরিম-লে দুই দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রেও জাপান ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর পরই অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাপানের স্বীকৃতিদানের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপান সফরের মাধ্যমে সম্পর্ককে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে উভয় দেশের সম্পর্ক বিভিন্ন দিকে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চমাত্রায় নিয়ে গেছে। তার সফরের ফলে ব্যবসায় ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে জাপানের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করবেন। জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে অসম বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এই অসম বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করা হবে। আর এভাবে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বহুদূর পর্যন্ত প্রসারিত হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।



পাতাটি ৩৯৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।