দশদিক ভিডিও

হোম সুস্বাদু জাপানী রান্না: ইমোইয়োওকান (ভাপানো মিষ্টি আলুর বার)

সুস্বাদু জাপানী রান্না: ইমোইয়োওকান (ভাপানো মিষ্টি আলুর বার)

উপকরণ(4 জনের জন্য)
・২০০ গ্রাম মিষ্টি আলু
・৪০ গ্রাম চিনি
・১/৬ চা-চামচ লবণ
・২ টেবিল-চামচ ময়দা
ইমোইয়োওকান (ভাপানো মিষ্টি আলুর বার) ইমোইয়োওকান (ভাপানো মিষ্টি আলুর বার) ইমোইয়োওকান (ভাপানো মিষ্টি আলুর বার)

রান্নার পদ্ধতি: মিষ্টি আলু ধুয়ে নিন এবং ২ সেন্টিমিটার পুরু গোল করে কেটে নিন। গোল করে কাটা টুকরোগুলো ১০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ঝাঁঝরিতে করে পানি ঝরিয়ে নিন।
যথেষ্ট পরিমাণ পানি সহ একটি সসপ্যানের মধ্যে গোল টুকরোগুলো এমনভাবে রাখুন যেন এগুলো পানিতে ডুবে যায়, এবং মাঝারি আঁচে পানি ফোটান। পানি ফুটে গেলে আঁচ কমিয়ে দিন। সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে ১৫-১৬ মিনিট রান্না করুন। (সিদ্ধ হলে টুকরোগুলোর প্রান্তের দিকগুলো ভেঙ্গে যেতে শুরু করবে।)
একটি ঝাঁঝরিতে ঢেলে নিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। কাঠের চামচ দিয়ে চেপে চেপে মিষ্টি আলুর পেস্ট তৈরি করে নিন এবং একটি ঝাঁঝরির মধ্য দিয়ে চেলে নিন। মিষ্টি আলু গরম থাকতে থাকতে এটা করুন।
মিষ্টি আলুর পেস্টের মধ্যে চিনি, লবণ ও ময়দা মিশিয়ে নিন। এবার এক টুকরো প্লাস্টিকের র‍্যাপের উপরে এই মিশ্রণ ২ সেন্টিমিটার পুরু করে বিছিয়ে দিন। প্লাস্টিক র‍্যাপ দিয়ে মিশ্রণটি মুড়ে নিয়ে এটিকে একটি বার অর্থাৎ আয়তাকার রূপ দিন যা মোটামুটি ১০ সেন্টিমিটার লম্বা, ৫-৬ সেন্টিমিটার চওড়া এবং ২ সেন্টিমিটার পুরু।
এই র‍্যাপ করা মিশ্রণ একটি ঢাকনাওয়ালা স্টিম করার যন্ত্রের মধ্যে মাঝারি আঁচে প্রায় ১৫ মিনিট ভাপে সিদ্ধ করুন।
স্টিম করার যন্ত্রের মধ্য থেকে বারটি বের করে নিন এবং একটি সমতল স্থানের উপর রেখে ঠাণ্ডা হতে দিন। প্লাস্টিকের র‍্যাপটি খুলে ফেলুন। পরিবেশন করার জন্য ২ সেন্টিমিটার পুরু টুকরো করে কেটে নিন।

ইয়োওকান: এর ইতিহাস এবং বিভিন্ন প্রকারভেদ
ইয়োওকান মূলতঃ একটি চীনা পদ - সুপের মধ্যে মাটন। এই পদটি ত্রয়োদশ বা চতুর্দশ শতাব্দীতে জাপানে প্রথম খাওয়া শুরু হয়। মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ বলে বৌদ্ধ ধর্মযাজকরা আপত্তি তোলায় অন্যান্য বিকল্প উপকরণ সুপের মধ্যে যোগ করা শুরু হয়। যেমন, আযুকি শিম, ভাত ও ময়দা দিয়ে তৈরি সিদ্ধ করা বা ভাপানো ডাম্পলিং।

সুপ ছাড়া মিষ্টান্ন হিসেবে সিদ্ধ করা ডাম্পলিং পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর দিকে চা-উৎসব ছড়িয়ে পড়ার সময়ে পরিবেশন করা হতো। জেলাটিনের মত একইভাবে তরলকে জমিয়ে দেয়ার উপকরণ আগার-আগার সপ্তদশ শতাব্দী থেকে ব্যবহার করা শুরু হয়। চিনি ও আগার-আগার সিদ্ধ করে আযুকি শিমের বিচির পেস্টের সাথে মিশিয়ে কাঠের ছাঁচের মধ্যে ঢেলে চৌকোনাকৃতির বা বারের মত আকারে জমানো হত। আর এটাই হচ্ছে এখনকার ইয়োওকানের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকার।

তবে, চিনি আর আযুকি শিম ছিল ব্যয়বহুল, যার অর্থ হচ্ছে এটি ছিল অধিকাংশ লোকের সামর্থ্যের বাইরে। তাই টোকিওর একটি মিষ্টির দোকান ১৯০০ সালের দিকে সস্তা দামের মিষ্টি আলু ব্যবহার করে ইয়োওকানের একটি প্রকারভেদ হিসেবে ইমোইয়োওকান তৈরি করে।
স্থানীয় উপকরণ যেমন বাদাম, কাকি, আপেল ইত্যাদি ব্যবহার করে তৈরি ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের ইয়োওকানও পাওয়া যায়।


পাতাটি ৩৬৯৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।