দশদিক ভিডিও

হোম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পুনর্গঠিত হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পুনর্গঠিত হচ্ছে


দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের কার্যালয় পুনর্বিন্যাস এবং রদবদলের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এবার সব ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে চলতে এবং উন্নয়নমূলক কাজে গতি ফিরিয়ে আনতে তার কার্যালয়ে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি অভিজ্ঞ, সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিধারী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

এই উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে তিনি বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাদ দিয়েছেন। পাশাপাশি, খালি পদগুলোতে নিয়োগের জন্য এমন ব্যক্তিদেরই পছন্দ করছেন যারা নিজেদের কর্মদক্ষতার জন্য নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপরিচিত এবং কর্মজীবনের ইতিহাসে সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাদপড়া কর্মকর্তাদের মধ্যে তার দুই উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাসসের আলী এবং আলাউদ্দিন আহমেদও আছেন। তাদের মধ্যে মোদাসসের আলী ‘ভীষণভাবে বিতর্কিত’ হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আগের মেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে দলীয় লোকজন নিয়োগের জন্য। আর সরকারের মাসিক বেতন আদেশ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তকরণের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ব্যাপক নয়ছয় করে বিতর্কিত হয়েছেন আলাউদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি কিছুদিন আগে পর্যন্তও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের গত পাঁচ বছরের শাসনামলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার কারণেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাদ পড়েছেন হানিফ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী জানিয়েছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সরকারের ক্ষুণ্ণ হওয়া ভাবমূর্তি উদ্ধার করতে এবং সরকারবিরোধী সমালোচনা থেকে রক্ষা পেতেই প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। আর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে তরান্বিত করতেই তিনি দক্ষ, মেধাবী, অভিজ্ঞ, সৎ এবং অতীত কর্মজীবনে যারা স্বচ্ছ ছিলেন এমন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

শুধু তাই নয়, সরকারের বিগত মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে এই মেয়াদে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। গত পাঁচ বছরে এইচ টি ইমাম বেসামরিক আমলাতান্ত্রিকতায় তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বহুল সমালোচিত ছিলেন। সরকারের গত পাঁচ বছরের শাসনামলে সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক বিষয়ে এইচ টি ইমামের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে তার ওপর বিরক্ত ছিলেন সরকারের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এইচ টি ইমামের এই বিতর্কিত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতেই তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ের সচিব পদে অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবুল কালাম আজাদকে নিযুক্ত করেছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানকে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে একজন মন্ত্রীর সমমর্যাদাপূর্ণ প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বর্তমান মূখ্য সচিব শেখ মোহাম্মদ ওয়াহিদ-উজ-জামানের মেয়াদ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরো বাড়াতে পারেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। কিন্তু মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান কিংবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুস সোবহান সিকদারের মতো সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রীর সমমর্যাদাপূর্ণ পদে জামানকে স্থানান্তর করা হয়, সেক্ষেত্রে তার বর্তমান পদটিতে অন্য কাউকে নিয়োগ করা হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তার প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদের পদে এখনো কাউকে নিয়োগ দেননি। তাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালক পদে এখনো তিনি নিযুক্ত আছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সচিব সাইফুজ্জামান শেখরকে প্রধান ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পদোন্নতি হিসেবে নিয়োগ করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে তার বর্তমান পদটিতে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনকে নিয়োগ করা হতে পারে।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উপদেষ্টা হিসেবে আগের মতোই গওহর রিজভী, মশিউর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দীক এবং তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীকে বহাল রেখেছেন। পাশাপাশি মাহবুবুল হক শাকিল, আব্দুস সোবহান গোলাপ, সেলিমা খাতুন এবং ফেরদৌস আহমেদ আগের মতোই তার বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।

বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা গেছ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত এবং প্রেস শাখার পদগুলোতে আরো কিছু রদবদল হতে পারে।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কাজ তরান্বিত করার মাধ্যমে উন্নয়নকাজে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই আমলা পর্যায়ে সরকার দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের উপর অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সূত্র: ডেইলি স্টার।


পাতাটি ১৯৩১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।