দশদিক ভিডিও

হোম জাপানে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

জাপানে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

১৭ই জুলাই,শুক্রবার জাপানে উৎসবমুখর পরিবেশে যথাযথ মর্যাদায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হল৷ রাজধানী টোকিও কর্মযজ্ঞ প্রবাসীরা ঈদের নামাজ আদায় করেই ছুটেছে কর্মস্থলে ৷ শুক্রবার ঈদ হওয়াতে সকাল ৭টা থেকেই অনেক বেশি মুসল্লীর সমাগম ঘটে ঈদের জামাতগুলোতে ৷

রাজধানী টোকিওর বাহিরে আরো ৪৬টি জেলাতে মসজিদ ও মোসল্লা সহ প্রায় দুই শতাধিক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ৷ উল্লেখযোগ্য টোকিওর পাশের জেলা তথা- সাইতামা, চিবা, কানাগাওয়া ও ইবারাকি এছাড়া হিরোশিমা, নাগাসাকি, ফুকুশিমা, ওসাকা ও গুম্মাতেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ৷

জাপান ইসলামের দেশ নয় এ কথা সবার অজানা নয় ৷ বিশ্বের প্রায় সবক'টি দেশেই ঈদের জামাত হয় ঈদগার ময়দানে ৷ আমেরিকা, ক্যানাডা, অষ্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড এই দেশগুলো ইসলামিক দেশ নয় ৷ তথাপি এই দেশগুলোতে ঈদের জামাত হয় খোলা ময়দানে ৷ কিন্তু জাপানে ঈদের জামাত হয় সাধারণত মসজিদ অথবা মোসল্লার ভিতর ৷ বলা বাহুল্য জাপানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আযান আদৌ মাইক দিয়ে উচ্চস্বরে দেয়া সম্ভব হয়নি ৷ কারণ, এদেশের স্থানীয় আইনানুযায়ী নিরব নিস্তব্ধ থাকতে হয় সর্বক্ষণ ৷ ঈদগার ময়দানের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও জাপানের প্রবাসী মুসল্লীরা ঈদের নামায আদায় করতে পারছে তাতেই তাঁরা অনেক খুশি বলে মনে হচ্ছে ৷

৮০-র দশকে জাপানে মসজিদ ও মোসল্লার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ এর নীচে ৷ কিন্তু বর্তমানে দুই শতাধিক নামাযের যায়গা থাকা সত্ত্বেও সংকুলান হচ্ছে না মুসল্লীদের ৷ জাপানে মুসলমান বা মুসল্লীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলছে তাতে কোন সন্দেহ নেই ৷ পাশাপাশি মসজিদ বা মোসল্লার সংখ্যাও বেড়েই চলছে ৷ কোন কোন মসজিদ বা মোসল্লাতে দুই এর অধিক জামাত এর আয়োজন করা হয় ৷ এমনি ধরণের একটি মসজিদ, সাইতামা শহরের গামোতে অবস্থিত বায়তুল আমান গামো মসজিদে ৪টি জামাত এর আয়োজন করা হয় ৷ মহিলাদের জন্য পৃথকভাবে নামায আদায়ের ব্যবস্থা করা হয় ৷ প্রত্যেকটি জামাতে মুসল্লীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩০ জন ৷ গামো মসজিদের মুসল্লীরা খানিকটা সৌভাগ্যই বলা চলে ৷ কারণ এখানে ঈদের নামাযের ঈমাম হওয়ার জন্য যোগ্য ব্যাক্তি ছিলেন প্রায় ৬ থেকে ৭ জনের মত ৷ তন্মধ্যে ৬ জনই ছিলেন হাফিজ ৷ ওনাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন কারী, মাওলানা ও মুফতি ৷ গামো মসজিদে ৬-৭টি জামাতের আয়োজন করার মত সুযোগ আছে, এটা প্রবাসী মুসল্লীদের অজানা নয় ৷ তাই দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে বিপুল সংখ্যক মুসল্লী এই মসজিদের দিকে ৷ গামো মসজিদের শতকরা ৮০ ভাগ মুসল্লীই ছিল বাংলাদেশী প্রবাসী ৷ কোরআন ও হাদীসের আলোকে সিয়ামের তাৎপর্য সহ ফিতরা, যাকাত, দান-ছদকা, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা ও পরকাল সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করেন অধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা মোহাম্মদ সাবের ৷ আরবী ভাষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজী ও ঊর্দু ভাষায়ও ব্যাখ্যা করেন ৷ দলমত নির্বিশেষে একই কাতারে দাড়িয়ে নামায আদায় করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকর্তারা ৷ জাপানের বাঙ্গালী প্রবাসীদের এই আচরনটি সত্যি বিরল ৷

এক মাস সংযমের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে প্রবাসীরা বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করেন ৷

ঈদের নামাজ শেষে একে অপরের মধ্যে সৌহার্দ্য বিনিময় করেন ৷ আত্মীয়-স্বজন ছাড়া ঈদ করলেও প্রবাসীরা বেশ আনন্দিত ৷ খানিকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত হলেও প্রবাসীদের কোন আক্ষেপ নেই ৷


পাতাটি ৩৮২৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।