• শিরোনাম

    অভিনন্দন জো বাইডেন

    | ১১ নভেম্বর ২০২০ | ১০:১১ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 152 বার

    অভিনন্দন জো বাইডেন

    আমেরিকার মানুষ দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেনকে। তিনি সে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি (৭ কোটি ৪০ লাখ) ভোট পেয়ে ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হলেন। তিনিই হলেন সে দেশে সবচেয়ে বেশি বয়সে দায়িত্ব নিতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট। আর এবারই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পড়েছে। করোনার কারণে ডাকযোগে এসেছে বিপুলসংখ্যক ভোট। সহজেই বোঝা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতিবাচক শাসন থেকে রেহাই পেতে উদগ্রীব ছিলেন মার্কিনিরা। চার দিনের শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার পর বাইডেনের বিজয় ঘোষণা করা হলে দেশজুড়ে যেন গভীর স্বস্তি ফিরে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের পরম যে মূল্যবোধগুলো, সেগুলোর পুনর্গঠনই হবে তার প্রথম কাজ এমন ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন। ট্রাম্প এখনো পরাজয় মেনে নেননি। বরং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। একাধিক রাজ্যের আদালত ট্রাম্পের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে কোনো প্রতিকার পাবেন, এমন সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

    এবারের নির্বাচন ছিল আমেরিকার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। গত চার বছরে ক্ষমতায় থেকে ট্রাম্প গোটা বিশ্বে যে ধর্মীয় হিংসা-বিদ্বেষপূর্ণ কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির ‘প্রধান সেনাপতি’ হয়ে ওঠেন তা সারা দুনিয়াকে প্রভাবিত করে। তার কারণেই ইউরোপসহ বিশ্বের দেশে দেশে বর্ণবাদী উগ্রপন্থীরা পায়ের নিচে দৃঢ় ভিত্তি পেয়ে যায়। অনেক দেশে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের উত্থান ঘটে। ট্রাম্পের বিদায়ে সেই অপরাজনীতির অবসান ঘটবে এমন হয়তো নয়। তবে কিছুটা হলেও দমিত হবে তা নিশ্চিত।
    বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো সুস্থ চিন্তা, সত্য, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহাবস্থান ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ। ট্রাম্প সেসব মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়েছিলেন আটলান্টিকের অথৈ পানিতে। ন্যায়বিচারের নীতি বর্জন করে বিশ্বব্যাপী উগ্রতা ও বর্ণবাদ উসকে দিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতি থেকে আমেরিকা মুক্ত হলো বাইডেনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বাইডেন এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চিরাচরিত মূল্যবোধগুলোর পুনর্গঠনই হবে তার প্রথম কাজ। বিজয়ী হওয়ার পর প্রথম ভাষণে বিভেদ ভুলে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রকে সারিয়ে তোলার সময়। আমরা অভিনন্দন জানাই নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। আশা করি বিশ্ববাসীর সার্বিক কল্যাণে তিনি ন্যায়বিচারের পথ অনুসরণ করবেন।



    বাংলাদেশীদের জন্যও নানা কারণে আমেরিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ভাগ্যান্বেষী অভিবাসীদের কাছে আমেরিকা অন্যতম স্বপ্নের দেশ। তাদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে আমেরিকা। আমাদের তৈরী পোশাক তথা বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এই দেশটি। আমাদের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য থাকে ওই দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ার। সে জন্য তাদের ভিসা পাওয়া জরুরি। এসব ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নীতি আমাদের সম্পূর্ণ প্রতিকূলে ছিল। বিশেষ করে অভিবাসন, স্টুডেন্ট ভিসা, জিএসপি সুবিধাÑ এগুলো সীমিত হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আমেরিকা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন নীতি, বিশেষ করে চীনের বিরোধিতায় ভারতকে বরকন্দাজ হিসেবে ব্যবহারের নীতির তপ্ত হাওয়া সরাসরি আমাদের গায়ে এসে লাগে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা আমাদের কম নয়।

    এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি আমাদের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতিকে স্পর্শ করে। মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ট্রাম্পের ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি আমাদের মর্মাহত করে। জো বাইডেনের বিজয়ে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে আমাদের আকাক্সক্ষা মতো পরিবর্তন ঘটবে এমন চিন্তা করার সুযোগ নেই। তবে ন্যায়বিচারের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা পেলে সেটি আমাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির কারণ হবে তাতে সন্দেহ নেই।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক