• শিরোনাম

    আবু লাহাব : আল্লাহর অভিশপ্ত এক মানুষ

    | ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 128 বার

    আবু লাহাব : আল্লাহর অভিশপ্ত এক মানুষ

    আবু লাহাব আল্লাহর অভিশপ্ত এক মানুষ। সে আপন ভাতিজা মুহাম্মাদ (সা.)কে সরাসরি অত্যাচার করতে থাকে। দিনের পর দিন নানাভাবে মহানবী (সা.)কে আবু লাহাব ও তার স্ত্রী জ্বালা-যন্ত্রণা দিয়ে অতিষ্ঠ করে যাচ্ছিল। তাদের ঐ জুলুম সীমাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। পরিশেষে সূরা লাহাব নাজিল করে আল্লাহ তায়ালা তাদের পুরস্কার ঘোষণা করেন। সূরা লাহাবে আল্লাহ বলেন, ‘চূর্ণ হইল আবু লাহাবের হাত এবং সে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে গেল। তার ধন সম্পদ আর যা কিছু সে উপার্জন করেছে তা তার কোন কাজেই এলো না। সে অবশ্যই লেলিহান শিখা সমন্বিত আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। আর (তার সঙ্গে) তার স্ত্রীও। কুটনী বুড়ি, তার গলায় শক্ত পাকানো রশিবাঁধা থাকবে।’
    ঐ দুর্ভাগা আবু লাহাবের আসল নাম ছিল আব্দুল উজ্জা। তার গায়ের রং দুধে আলতায় টকটকে উজ্জ্বল। তাই তার নাম হলো আবু লাহাব। লাহাব অর্থ অগ্নি শিখা। আর আবু লাহাব অর্থ হলো অগ্নিশিখা সমন্বিত। আব্দুল উজ্জার দেহ মনে অগ্নি শিখার স্বভাব ছিল। তাই আব্দুল উজ্জার উপনাম হলো আবু লাহাব। এই আবু লাহাব নামেই সে পরিচিতি লাভ করে। আরও ব্যাপার হলো, আব্দুল উজ্জার মানে হলো উজ্জার দাস। ইহা পরিষ্কারভাবে মুশরেকী নাম।
    আবু লাহাবের যে পরিণতি হয়েছে তার সাথে মিল রেখেই কুরআনে নাজিলকৃত উক্ত সূরার নাম রাখা হয়েছে আবু লাহাব। তাছাড়া আব্দুল উজ্জা এই মুশরেকী নাম কুরআন পাকে আনা পছন্দনীয় হয়নি বলে সূরা লাহাব রাখা হয়েছে।
    নবী করীম (সা.)-এর আপন চাচা এই আবু লাহাব। শিশুকালে নবী মুহাম্মদ (সা.)কে সে খুব মহব্বত করত। মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্মের সুসংবাদদাতাকে এই আবু লাহাবই তার গায়ের জামা খুলে উপহার দিয়েছিল। অথচ এই আবু লাহাবই নবুয়তের পর নবী (সা.)-এর কড়া দুশমন হয়ে যায়।
    আবু লাহাব ছিল বড় কৃপণ। সে ছিল অর্থের পূঁজারী। জাহেলিয়াতের যুগে আবু লাহাব কাবাঘরের ধন ভাণ্ডার থেকে একটি স্বর্ণ মৃগ চুরি করেছে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। অথচ আবু লাহাব ছিল বিরাট অর্থশালী লোক।
    ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ছিল বদরের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে কুরাইশ কাফির বাহিনী চরমভাবে পরাজিত হয়। অথচ চালাকি করে আবু লাহাব বদরের যুদ্ধে যোগদান করেনি। ধন-সম্পদ দিয়ে সে অন্যদের পাঠায়।
    যুদ্ধে তার সেই সাথীরাসহ কুরাইশের বড় বড় নেতা সবাই মারা পড়ে। ফলে আবু লাহাব তখন সাংঘাতিকভাবে আঘাত পায়। আর তার মরণ ঘন্টা এভাবেই শুরু হয়। বদরের যুদ্ধের পর সাত দিন যেতে না যেতেই আবু লাহাবের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু ছিল অতিশয় মর্মস্পর্শী। সে আক্রান্ত হয় সাংঘাতিক ধরনের ফুসকুড়ি রোগে। যাকে বলা হয় সংক্রামক রোগ। ইহার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য পরিবারের লোকেরা সবাই তাকে ত্যাগ করে। তার শরীরে পচন ধরে। দেহ হয়ে যায় দুর্গন্ধময়। মহামারী এই রোগের আঘাতে আঘাতে আবু লাহাব একদিন মরে যায়। তার লাশ একঘরে পড়ে থাকে। পচে দুর্গন্ধের ভয়াবহতা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দুঃসহ ছিল সেই দুর্গন্ধ। বাঁচার জন্য এলাকাবাসী দুর্গন্ধময় লাশ লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দূরে অনেক দূরে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসে। মাটির নিচে তার লাশ পুঁতে রেখে এলাকাকে দুর্গন্ধমুক্ত করা হয়। এটাই হলো আবু লাহাবের পতন ও পরাজয়। দ্বীনের বিরোধিতা করতে গিয়ে সে এভাবে আল্লাহর অভিশপ্ত হয়। চরম লাঞ্ছনা নিয়ে সে মরলো। তার ছেলেমেয়েরা অবশ্য পরবর্তীতে ইসলামের মধুর ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করে। তার দুই ছেলে উতবা ও মুয়াত্তাব ইসলাম গ্রহণ করে। তার কন্যা দুররাও মহান ইসলামের ছায়াতলে এসে তাদের পরিবারের মধ্যে ইসলামের বিজয় আনে।
    আবু লাহাবের স্ত্রী ছিল আরওয়া। তার উপনাম ছিল উম্মে জামিল। উম্মে জামিল ছিল আবু সুফিয়ানের ভগ্নি। আবু লাহাবের মতই এই আরওয়া মহানবীর চরম শত্রুতা করত। পাথর মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ে এসে মহানবীর খোঁজে বের হতো এই মহিলা। একদিন এই মহিলার এভাবে আগমন দেখে রাসূল (সা.)কে আবু বকর সতর্ক করেন। রাসূল (সা.) বলেন, ‘সে আমাকে দেখতেই পাবে না।’
    আবু লাহাব মূলতঃ আল্লাহর দুশমনদের একজন। আবু লাহাব নবী করিম (সা.)-এর নিক্ষেপ করার জন্য একখণ্ড পাথর তুলে নিয়েছিল। (মুসনাদে আহামদ, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)।
    আবু লাহাব একবার নবী করিম (সা.)কে প্রশ্ন করল, ‘ইসলাম গ্রহণ করলে আমি কি পাব?’ নবী করিম (সা.) বললেন, ‘অন্যসব লোকেরা যা পাইবে, আপনি তাই পাবেন।’ সে বলল, ‘আমার জন্য বাড়তি মর্যাদা কিছুই হবে না?’ নবী করিম (সা.) বললেন, ‘আপনি আর কি চান?’ তখন সে বলল, ‘এই দ্বীনের সর্বনাশ হউক, যাতে আমি অন্যসব লোকের সমান হয়ে যাবো। (ইবনে জরীর)
    আবু লাহাব ছিল নবী করিম (সা.)-এর প্রতিবেশী। নবী করিম (সা.)কে সে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে দিত না। নবী করিম (সা.) সালাত আদায়কালে সে উপর থেকে ছাগলের নাড়িভুঁড়ি তার উপর ফেলে দিত।
    আবু লাহাবের মত অন্য শত্রুরাও ছিল অত্যাচারী। তাদের অন্যতম হলো হাকাম ইবনে আস, উকবা ইবনে আবু মুয়িত, আদী ইবনে হামরা ও ইবনে আছ দায়েল, হাবালী।
    রাসূল (সা.)-এর ঘরে রান্না হতে থাকলে এরা পাতিলের উপর ময়লা নিক্ষেপ করতো। আবু লাহাবের স্ত্রী রাত্রিবেলা নবী করিম (সা.)-এর ঘরে কাঁটাযুক্ত পরগাছা ফেলে রাখত। তারা প্রতিদিনই এরূপ অত্যাচার করত।
    নবী করিম (সা.) ও স্ত্রী সন্তান-সন্ততিরা যেন কাঁটার আঘাতে কষ্ট পায় সেই উদ্দেশ্যে সে এসব করত। নবুয়তের পূর্বে নবী করিম (সা.)-এর দুই কন্যা আবু লাহাবের দুই ছেলে উতবা ও ইতাইবার সাথে বিবাহ দেয়া হয়েছিল। আবু লাহাব তাদেরকে কছম দিয়ে তালাক দেয়ায়। এতোসব মর্মবিদারী যুলুম আবু লাহাব পরিবার নবী করিম (সা.)-এর উপর চালিয়ে চরম পর্যায়ে পৌঁছে। আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে তাই তার পরিবার ধ্বংসের অভিশাপ করেন। বিশ্বব্যাপী আবু লাহাব আজ অভিশপ্ত। এখন আর আবু লাহাব নাম কোথাও পাওয়া যায় না। তবে আবু লাহাবের প্রেতাত্মার অভাব নেই। এখনও দেশে দেশে আবু লাহাবের মত ইসলামের দুশমনরা সেই নবীর ওয়ারিশদের একইভাবে অত্যাচার করে চলেছে। একইভাবে তারাও কেউ আগে আর কেউ বা পরে আল্লাহর অভিশাপের রোষানলে পড়ে দুনিয়া ও আখিরাতে ধ্বংস হচ্ছে।



    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৩ এপ্রিল ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দশদিক