• শিরোনাম

    ইসরাইলি সরকারের কাপুরুষোচিত হামলা!

    | ১৯ মে ২০২১ | ১০:১১ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 192 বার

    ইসরাইলি সরকারের কাপুরুষোচিত হামলা!

    বিমান হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করতে ইসরাইলকে কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। তাদের এমন বর্বরতার সবসময় সাক্ষী হয়ে থাকছে দেশী-বিদেশী সংবাদমাধ্যম। গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী একটি দেশ হিসেবে ইসরাইল অন্তত সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা থেকে বিরত থেকেছে। দেখাতে চেয়েছে তারা গণতান্ত্রিক ও মানবতাবাদী। বোমা হামলা চালিয়ে বা গুলি করে মানুষ হত্যার খবর প্রচারে তারা ভীত নয়। এত দিন তারা মিডিয়ার কার্যক্রমকে কিছুটা হলেও স্বীকার করেছেন। এবার আর এই মূল্যবোধ রক্ষা করারও তাগিদ বোধ করছে না। বিশ্ববাসীর সামনে ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অফিসে বিমান হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বিস্ময়কর হলো- গণতন্ত্র-মানবতার ধারক বিশ্বনেতারা ইসরাইলি সরকারের কাপুরুষোচিত এ হামলার বিরুদ্ধে কঠোর কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পর্যন্ত দেখাননি।
    গাজায় আল-জালা নামের ১২তলা একটি ভবনে আলজাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এপিসহ গুরুত্বপূর্ণ আরো কয়েকটি দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমের অফিস ছিল। ভবনটিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিস এবং আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টও ছিল। ইসরাইলি বাহিনী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি সময় দিয়ে ভবনটিতে বোমা হামলা করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ভবনের অধিবাসীরা নিরাপদে সরতে আরো কয়েক মিনিট বাড়তি সময় চেয়েছিলেন; কিন্তু হামলাকারীরা তাদের সেই সময় দেয়নি। কর্তব্যরত আলজাজিরার এক সংবাদদাতা গাজা থেকে গভীর উদ্বেগ ও বেদনার সাথে জানান, তিনি ১১ বছর ধরে ভবনটিতে অফিস করছেন। এই ভবন থেকে সারা বিশ্বের কাছে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো বর্বরতার খবর প্রচার করে বিশ্বে পরিচিত মুখ তিনি। এ ভবনে সহকর্মীদের সাথে সুখ-দুঃখের দীর্ঘ স্মৃতি রয়েছে তার। মুহূর্তের মধ্যে ভবনটি ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হলো।
    ইসরাইল ভবনটি ধূলিসাৎ করার পেছনে যুক্তি দেখাচ্ছে- এ ভবন থেকে সামরিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অন্য দিকে ভবনটির মালিক সুনির্দিষ্টভাবে ইসরাইলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভবনে কোনো ধরনের সামরিক কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয় না বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এপি এক বিবৃতিতে বলেছে, ভবনটিতে তারা হামাসের অস্তিত্ব বা কার্যক্রম থাকার বিষয় কখনো কোনো চিহ্ন দেখতে পায়নি। এ ব্যাপারে ইসরাইলকে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে একটি দেশের সামরিক বাহিনী কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালাতে পারে, ভাবাও কষ্টসাধ্য। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বাস্তবে ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ঘোষিত নীতিমালার তোয়াক্কা করে না। এভাবে যদি যুক্তরাষ্ট্র্রের ছায়ায় থেকে গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর উদাহরণ সৃষ্টি হয়; সেটি পুরো বিশ্বে সংবাদমাধ্যমের ক্রম সঙ্কুচিত হওয়া স্বাধীনতা আরো বড়দাগে খর্ব করতে ব্যবহৃত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
    প্রকৃতপক্ষে ইসরাইল কেন এ নজিরবিহীন হামলা চালাল, তা পরিষ্কার। তারা এর মাধ্যমে বিশ্ব গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়েছে। তাদের এই হুমকির উদ্দেশ্য হলো- গণমাধ্যমগুলো যেন ইসরাইলি দানবীয় অপকর্মের খবর প্রচার না করে। তারা ইচ্ছামতো সামরিক হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের মুছে দেবে। এই বর্বরতার খবর যাতে আড়ালে চলে যায়, মিডিয়া যেন হয়ে যায় চুপ। এমনিতেই পশ্চিমা মিডিয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে না। আলজাজিরা ছাড়া অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিলিস্তিনি ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকায় নেই। তাই ইসরাইলের এমন হামলার নিশানা হয়েছে গণমাধ্যমটি। আলজাজিরার জেরুসালেম ব্যুরো প্রধান বলেছেন, ইসরাইলের এই হামলা তাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। তারা ইসরাইলের বর্বরতার চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেবেন। আমরা মনে করি, মিডিয়ার বিরুদ্ধে বেআইনি সামরিক হামলার বিচার হওয়া দরকার। অন্যথায় অন্যরা একই পথে হাঁটার সুযোগ পাবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য সেটি সুখকর হবে না।

    Facebook Comments Box



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক