• শিরোনাম

    ই-পাসপোর্ট এর (A-Z): সহজেই পেতে যা করবেন

    খাইরুল আমিন সানি | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 1839 বার

    ই-পাসপোর্ট এর  (A-Z): সহজেই পেতে যা করবেন

    মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের মেয়াদ কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হবে তানভীর হাসানের। তিনি অপেক্ষা করছিলেন ই-পাসপোর্ট করার জন্য। ২২ জানুয়ারি থেকে ই-পাসপোর্ট শুরু হওয়ার পরপরই তিনি অনলাইনের মাধ্যমে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে ফেলেছেন। বললেন, ই-পাসপোর্ট করতে ঝামেলা অনেক কম। এ ছাড়া দ্রুত সময়ে ১০ বছর পর্যন্ত মেয়াদের পাসপোর্ট করা যাচ্ছে। অনলাইন পেমেন্টও যুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ই-পাসপোর্ট হচ্ছে নতুন যুগের নিরাপদ পাসপোর্ট। ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খুলে ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে সহজেই করা যাচ্ছে। এ ছাড়া আবেদনের পর কবে জমা দিতে যেতে হবে, সেই দিন–তারিখ পাওয়া যাচ্ছে বলে অনেক কাজ সহজ হয়ে যাচ্ছে।

    দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে ১১৯তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ডিআইপি ডটগভ ডটবিডির তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক চিপ রয়েছে। এ চিপের মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্য, যা পাসপোর্টধারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এতে মাইক্রোপ্রসেসর বা চিপ এবং অ্যান্টেনাসহ স্মার্টকার্ড প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিপে সংরক্ষণ করা হয়। ই-পাসপোর্টে যেসব বায়োমেট্রিক তথ্য নেয়া হয় সেসব হলো—ছবি, আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও আইরিশ। ইলেকট্রনিক বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থা (ই-বর্ডার) দিয়ে পাসপোর্ট চিপের বাইরের বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর তুলনামূলক যাচাই করা হয়। পাবলিক কি ইনফ্রাষ্ট্রাকচােরর (পিকেআই) মাধ্যমে পাসপোর্ট চিপে থাকা তথ্য যাচাই করা হয়। তাই জালিয়াতি করা কঠিন।



    সাধারণ পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য হলো, এতে মোবাইল ফোনের সিমের মতো ছোট ও পাতলা আকারের চিপ থাকে। এতে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য থাকবে, যার অনেক বৈশিষ্ট্য থাকবে লুকানো অবস্থায়। ই-পাসপোর্ট করার সময় মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) তথ্যভাণ্ডারে পাওয়া তথ্যগুলো ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে।

    সাধারণ পাসপোর্টের মতো ই-পাসপোর্টের আবেদনও অনলাইনে পাওয়া যাবে। চাইলে পিডিএফ ফরম নামিয়ে নিয়ে হাতেও পূরণ করা যাবে। ফরম পূরণের সময় ছবি ও সত্যায়ন করা লাগবে না। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময় আবেদনকারীর ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের ছবি নেওয়া হবে। সেসব তথ্য চিপে যুক্ত হবে। ইমিগ্রেশন পুলিশ বিশেষ যন্ত্রের সামনে পাসপোর্টের পাতাটি ধরতেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    ই-পাসপোর্ট দুই ধরনের। একটি ৪৮ পাতার, অন্যটি ৬৪ পাতার। সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরির জন্য ফি তিন ধরনের। দুই দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে। এ জন্য ফিও বেশি গুনতে হবে।

    প্রাথমিকভাবে ঢাকার উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও আগারগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট সেবা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৭২টি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিস এবং ৮০টি বিদেশি মিশনে চালু করা হবে।

    ১ম ধাপঃ (অনলাইন আবেদন):
    i. www.epassport.gov.bd এ গিয়ে Apply Online এ ক্লিক করুন
    ii. যা যা info চায় তা দিয়ে সাথে ই-মেইল দিয়ে একটি একাউন্ট খুলুন। ইমেইলে confirmation মেইল আসবে, account active করে নিন, ইনবক্সে মেইল খুজে না পেলে Junk Mail/ Spam Mail ফোল্ডারে খুজলে পেয়ে যাবেন।
    iii. Account খোলার পর Apply for a new-e-passport দিন
    iv. যা যা info প্রযোজন হয় দিন।
    Confusions: Md এরপর dot দিবো কিনা দিবো না? Dot না দিলে সমস্যা হবে না তো?
    উত্তরঃ e-Passport এ letter ছাড়া কোনো character প্রিন্ট হয় না। সুতনাং না দেয়াই উত্তম। এবং এই না দেয়ার জন্য ভবিষ্যতেও কোনো সমস্যা হবে না।
    Warning: Permanent address কখনো ভাড়া থাকা বাসার address দিবেন না। যদি নিজের কেনা ফ্ল্যাটে থাকেন আর সেটাই permanent address হিসেবে দিতে চান সে ক্ষেত্রে। আপনার দলিলের কাগজের ফটোকপি চাইবে। দলিলের কাগজ করা না হলে, সেটা permanent address হিসেবে দিবেন না।
    v. আপনি কোন ধরনের passport করবেন উল্ল্যেখ করে দিবেন।

    ৪৮ পেইজ ৫ বছরের মেয়াদ
    *রেগুলারঃ ৪,০২৫ টাকা, ২১ কার্য দিবসে
    *এক্সপেসঃ ৬,৩২৫ টাকা, ১০ কার্য দিবসে
    *সুপার এক্সপ্রেসঃ ৮,৬২৫ টাকা, ২ কার্য দিবসে

    ৪৮ পেইজ ১০ বছরের মেয়াদ
    *রেগুলারঃ ৫,৭৫০ টাকা, ২১ কার্য দিবসে
    *এক্সপেসঃ ৮,০৫০ টাকা, ১০ কার্য দিবসে
    *সুপার এক্সপ্রেসঃ ১০,৩৫০ টাকা, ২ কার্য দিবসে

    ৬৪ পেইজ ৫ বছরের মেয়াদ
    *রেগুলারঃ ৬,৩২৫ টাকা, ২১ কার্য দিবসে
    *এক্সপেসঃ ৮,৬২৫ টাকা, ১০ কার্য দিবসে
    *সুপার এক্সপ্রেসঃ ১২,০৭৫ টাকা, ২ কার্য দিবসে

    ৬৪ পেইজ ১০ বছরের মেয়াদ
    *রেগুলারঃ ৮,০৫০ টাকা, ২১ কার্য দিবসে
    *এক্সপেসঃ ১০,৩৫০ টাকা, ১০ কার্য দিবসে
    *সুপার এক্সপ্রেসঃ ১৩,৮০০ টাকা, ২ কার্য দিবসে

    vi. কোন way তে পেইমেন্ট করতে চান সেটা উল্লেখ করে দিতে হবে। এখন সম্ভবত অনলাইন অয়ে (bKash) বন্ধ। তাই অফলাইনেই করতে হবে।
    vii. সব info ঠিক মত দেয়ার পর সাবমিট করে দিবেন। সাবমিটের পর e-mail এ-ও একটা confirmation মেইল আসবে। চেক করে নিতে পারেন।
    viii. Application form টা download করে রাখুন।

    ২য় ধাপঃ (schedule selection)
    i. Application Submit এরপর schedule select করতে হবে
    ii. আপনার মন মত যে কোনো খালি slot এ appointment নিতে পারবেন।

    ৩য় ধাপঃ (পেইমেন্ট)
    i. নির্ধারিত যে কোনো ব্যাংকে গিয়ে টাকা পরিশোধ করে দিলেই হবে
    ব্যাংক সমূহঃ
    ONE Bank, Premier Bank, Sonali Bank, Trust Bank, Bank Asia, Dhaka Bank.
    ii. ব্যাংকে আপনার নাম চাইবে শুধু। passport এ দেয়া হুবহু নামটা দিবেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে NID এবং Application এর কপি দেখতে চায়। তাই এক কপি নিয়ে যাবেন।
    iii. টাকা জমা দেয়ার পর রিসিট/ payment slip দিবে/ সেটা যত্ন করে রাখবেন।

    ৪র্থ ধাপঃ (পার্সপোর্ট এপ্লিকেশন জমা এবং appointment)
    i. নিচের ডকুমেন্টগুলো নিয়ে যাবেন
    • পার্সপোর্ট ফর্মের প্রিন্টেড কপি (both side print)
    • Appointment/ Order slip কপি
    • NID এবং NID এর ফটোকপি
    • বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানির বিলের ফটোকপি
    • Student ID Card এর ফটোকপি (শিক্ষার্থীদের জন্য)
    • ব্যবসায় দলিল (ব্যবসায়ীদের জন্য)
    • Office ID card কপি এবং আনুশাঙ্গিক কাগজ পত্র (জব করেন যারা তাদের জন্য)
    • নিকাহ নামার দলিলি (বিবাহিতদের জন্য)
    • কোনো সাদা/হালকা রঙের জামা পরবেন না
    ii. আগারগাও RPO এর জন্যঃ
    • ৩০৮ নং কক্ষে যাবেন, উপর্যক্ত কাগজ গুলো নিয়ে, application form দেখে সেখান থেকে একটা সিল এবং সিরিয়াল লিখে দিবে।
    • ৪০১ নং কক্ষে ৩০৮ এ দেয়া সিরিইয়াল মত আপনাকে প্রবেশ করানো হবে। এই কক্ষে আপনার ডকুমেন্ট সব ঠিক আছে কিনা চেক করা হবে। application online এ সাবমিটে কোনো ভুল হয়ে থাকলে এখানে বলে নিবেন। তারা মার্ক করে দিবে আপনার ফর্মে। চেক শেষে তারা একটা সিল এখন সাইন করে দিবে।
    • ৪০৩ নং কক্ষ পুরুষ, ৪০৪/৪০৫ নং কক্ষ মহিলা ও শিশুদের বায়োমেট্রিক করানো কক্ষ। ৪০১ নং কক্ষ থেকে সিল নেয়ার পর। এই কক্ষে আপনার ডিকুমেন্ট রিচেক করা হবে, ডকুমেন্ট স্কান করা হবে এবং কোনো সংশোধন থাকলে সংশোধ করা হবে।
    – ২ হাতের ১০ আঙ্গুলের ছাপ
    – চোখ স্ক্যান
    – ডিজিটাল স্বাক্ষর নেয়া হবে
    • কাজ শেষ হলে Delivery Slip দিয়ে দিবে।

    ৫ম ধাপঃ (পুলিশ ভ্যারিফিকেশন)
    i. পুলিশ বাসায়ও আসতে পারে থানায়ও ডাকতে পারে
    ii. থানায় ডাকলে, শিক্ষার্থী হলে বাবাকে সাথে নিয়ে যেতে হবে। কারন তার একটা স্বাক্ষরের দরকার হবে
    iii. ডকুমেন্ট যা সাথে রাখতে হবেঃ
    • NID copy
    • Student ID Copy
    • SSC Certificate
    • Father’s NID copy
    • Mother’s NID copy
    • Utility Bill copy
    • জমি/ফ্লাটের দলিলের copy permanent address ঢাকা হলে।
    iv. পুলিশ সম্ভবত চা নাস্তার জন্য ৫০০-১০০০ নিতে পারে। যদি কোনো ভুল থাকে পরিমান আরো কয়েকগুন বাড়বে। আমার ফ্ল্যাটের নামে Permanent Address করা কিন্তু দলিল কম্পানির মানে যেটা এখনও নিজের নামে করে দলিল উঠানো হয় নি বিদায় কয়েক গুন বেশি দিতে হয়েছে।

    ৬ষ্ঠ ধাপঃ (পাসপোর্ট ডেলিভারি)
    i. Police verification এর কিছু দিন পর (৪-৬ দিন) Application Status, Enrollment pending Approval থেকে Enrollment Approved হবে। এবং পাসপোর্টের তৈরির কাজ শুরু হবে।
    ii. Enrollment Approved status এর কিছু দিন পর (২-৩দিন) status হবে Passport Shipped
    iii. Passport Shipped এর ১/২ দিন পর SMS, email এবং status হবে ePassport is ready for issuance তখন পার্সপোট আনতে RPO তে যেতে হবে।
    iv. সাথে delivery slip এবং NID এর কপি নিয়ে যাবেন।
    v. ৩০১ নং কক্ষের ডান পাশে আপনার delivery slip দিয়ে সিরিয়াল নিবেন।
    vi. আপনার সিরিয়াল আসলে ৩০১নং কক্ষের বাম পাশে স্বাক্ষর আর ফিঙ্গার স্ক্যান দিয়ে e-Passport নিয়ে আসবেন
    vii. শেষ, এবার মনে মনে নাচতে নাচতে বাসায় চলে আসেন।
    এই গেলো পুরো প্রসেস। এই পুরো প্রসেসের সময় আপনি আপনার passport process এর অবস্থা দেখতে পাবেন আপনার account এ login করে/ website এর Check Status থেকে Status গুলো যথাক্রমে এবং কোনটা কখন হয় এবং আমার কখন কোনটা ছিলোঃ
    i. Submitted, Enrollment in Process অনলাইন Application submit এরপর, ১২ মার্চ, ২০২০
    ii. Enrollment Complete, RPO তে Appointment এর কাজ শেষ করার পর, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৫ সেপ্টেম্বর Police Verification
    iii. Enrollment pending Approval, Police Verification শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত,
    iv. Enrollment pending Approved, Police Verification confirm হওয়ার পরে এবং Passport তৈরির প্রসেস শুরু
    v. Enrollment Approval Cancelled, Police যদি verification cancel করে দেয়
    vi. Passport Shipped, পাসপোর্ট তৈরি শেষ RPO তে পাঠানো হচচ্ছে। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
    vii. Passport Received, পাসপোর্ট RPO তে চলে এসেছে যে কোন কার্য দিবসে গিয়ে নিইয়ে আসতে পারেন। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
    viii. Passport issued,পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরে। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

    উপদেশঃ
    i. দালাল থেকে দূরে থাকুন
    ii. কিছু জানার থাকলে হয় help desk এ জিজ্ঞাস করুন, নয় আশেপাশে মানুষকে জিজ্ঞাস করুন। আরো সাথে আপনার শত্রুতা নেই যে ভুল তথ্য দিবে। খামাখা অন্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা অফিসারদের বিরক্ত করবেন না।
    iii. পারমানেন্ট আড্রেস ঠিক মত দিবেন।
    iv. যা যা ডকুমেন্ট দরকার সাথে রাখবেন।
    v. সময় হিসাব করবেন application RPO তে জমা দেয়ার পর থেকে।
    (এখানে শুধু প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য বলা।)

    সম্পূর্ন তথ্য স্টোর করে রাখতে চাইলে PDF টা ডাউনলোড করে রাখতে পারেন।
    লিংকঃ http://bit.ly/epassportbd2020
    https://www.epassport.gov.bd

    ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে www.dip.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে গিয়ে আবেদন করা যাবে। সাইটে বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে নেওয়ার সুবিধা আছে। সেখানে শুরুতেই অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন: নতুন/রি-ইস্যু বাটন পাওয়া যাবে। এখানে ক্লিক করে সরাসরি আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। এর আগে দেখে নিতে পারেন ই-পাসপোর্ট আবেদনের ৫টি (পাঁচ) ধাপ। একটি ধাপ হচ্ছে বর্তমান বসবাসরত জেলাতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, তা দেখা। এর পরেরগুলো হচ্ছে অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম, পাসপোর্ট ফি পরিশোধ, ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ ও পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ। এর মধ্যে খেয়াল রাখতে হবে, কাগজপত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই, আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও আইরিশের ছবি গ্রহণ, যথাযথভাবে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ হয়েছে কি না এবং তালিকাভুক্তির পর সরবরাহ করা ডেলিভারি স্লিপ সংরক্ষণ। পাসপোর্ট গ্রহণের সময় ডেলিভারির রসিদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া সর্বশেষ পুরোনো পাসপোর্ট (যদি থাকে) নিতে হবে। ই-পাসপোর্ট আবেদন অনলাইনে দাখিল করার সময়ে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যাবে। পাসপোর্ট ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করা হবে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিসের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্ট করা যাবে। অনলাইন পেমেন্ট ছাড়াও ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট দেওয়া হয় এবং এখন পর্যন্ত চালু করা অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি হলো স্টারকার্ড, ভিসা, কিউ-ক্যাশ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিকাশ ও ডিবিবিএল নেক্সাস। অনলাইনে পেমেন্ট করার জন্য আপনার ব্রাউজারের পপ-আপ ব্লকার অক্ষম করতে হবে।

    ই-পাসপোর্টের সুবিধা:
    ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এর মাধ্যমে ই-গেট ব্যবহার করে খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমেই ইমিগ্রেশন দ্রুত হয়ে যাবে। ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। কোনো গরমিল থাকলে জ্বলে উঠবে লালবাতি। কারও বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও জানা যাবে সঙ্গে সঙ্গে।

    জেনে রাখুন
    ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে অথবা পিডিএফ ফরমেট ডাউনলোড করে পূরণ করা যাবে। এতে কোনো ছবি এবং কোনো ধরনের কাগজপত্র সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদপত্রসহ বাবা-মায়ের এনআইডির কপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময় হাতের ১০ আঙুলের ছাপ, ছবি ও চোখের আইরিশ ফিচার নেওয়া হবে। ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হবে। অতি জরুরি ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্ট করার জন্য প্রি-পুলিশ ভেরিফিকেশন নিজ উদ্যোগে করে নিয়ে যেতে হবে। প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ভিসার বিষয়টি একই থাকবে। ভিসা কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসগুলো এই পিকেডি ব্যবহার করে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে নিতে পারবে। এরপর বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার, সিল দিতে পারবে বা বাতিল করে দিতে পারবে। ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি এমআরপিও চালু থাকবে। তবে নতুন করে কাউকে এমআরপি দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে সব এমআরপি তুলে নেওয়া হবে। আবেদন করার বিস্তারিত নিয়মাবলি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।

    অনলাইন চেক
    ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ‘স্ট্যাটাস চেক’ করা যাবে। জন্মতারিখ ও আবেদনের ক্রমিক সংখ্যা দিয়ে সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে। আপনার অনলাইন পোর্টাল অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার সব আবেদনের অবস্থা দেখতে পারেন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৫ জানুয়ারি ২০২০

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক