• শিরোনাম

    ঈদুল আযহা: আত্মত্যাগের উৎসব

    | ১৭ আগস্ট ২০১৯ | ৪:৪২ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 169 বার

    ঈদুল আযহা: আত্মত্যাগের উৎসব

    বছর ঘুরে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহা মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। সারা বিশ্বে মুসলমানরা হিজরী বর্ষের দ্বাদশ মাস জিলহজ্বের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ উদযাপন করে। ঈদ উৎসবে তার সে চিরন্তন মানবিকতার আবেদন দেখতে পাওয়া যায়। ঈদ এক অনন্য উৎসব। অন্য জাতি ও ধর্মের উৎসবের মতো নয় ঈদ।

    খোদার প্রতি আত্মনিবেদন ও মানবতার কল্যাণে নিরলস প্রচেষ্টা চালানোর অকুণ্ঠ আবেদন ধ্বনিত হতে দেখতে পাওয়া যায় ইসলামে বিশ্বাসে, ইবাদত-বন্দেগী ও আনন্দ-উৎসবে। মহান আল্লাহতা’য়ালার আদেশে নিজ পুত্র ইসমাঈল আঃ-কে আল্লাহর জন্য কুরবানী করার হযরত ইব্রাহীম আ: এর ইচ্ছা ও ত্যাগের কারণে আল্লাহর কাছে নিজেদের সোপর্দ করে দেয়ার লক্ষ্যে মুসলমানরা পবিত্র হজ্বের পরের দিন ঈদুল আযহা উদযাপন ও পশু কুরবানী করে। আল্লাহতা’য়ালা ইব্রাহীম আ:এর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং পুত্রের পরিবর্তে তাকে পশু কুরবানী করার নির্দেশ দেন। ইব্রাহীম আঃ-এর সে সুন্নাত অনুসরণে ঈদুল আযহার সময় মুসলমানরা পশু কুরবানী করেন। মুসলমানদের দু’টি ঈদ।



    ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। একমাস রোযা পালনের পর পহেলা সাওয়াল ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়। এর দু’মাস দশ দিন পর অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আযহা। আরবীতে ঈদুল আযহা অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগের উৎসব। ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতিটি পরিবার একটি মেষ বা ছাগল কিংবা উট বা গরু কুরবানী দেয়। কুরবানী আল্লাহর নামে দেয়া হয়। আল্লাহর কাছে এর গোশত, রক্ত বা অন্য কোন কিছু পৌঁছায় না, তাঁর কাছে যায় কুরবানী দাতার নিয়ত। তাই কুরবানীর জন্য বিশুদ্ধ নিয়ত প্রয়োজন।

    কুরবানী করা পশুর গোশত দাতারা খেয়ে থাকেন। মূলত কুরবানীর পশুর অধিকাংশই অপরের জন্য বিলিয়ে দেয়া হয়ে থাকে। ঈদুল আযহার সময় পশু কুরবানী করা কেবল ধর্মীয় ও মানবিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তা নয় উপরন্তু তার অর্থনৈতিক গুরুত্বও অপরিসীম। মানবজীবনে কুরবানীর মূল শিক্ষা হলো পশু কুরবানীর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পশুত্বের কুরবানী করা।

    মানুষের ভেতরকার অন্যায়-অবিচার, পাশবিকতা ও নিষ্ঠুরতার প্রবণতা মূলোৎপাটনে এই কুরবানী প্রতি বছর আমাদের দিয়ে যায় এক অসাধারণ দীক্ষা। এছাড়া অভাবগ্রস্তদের সাহায্য-সহায়তাদান, সহমর্মিতা প্রদর্শন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর রাস্তায় মানুষের প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করা শেখায় প্রতিনিয়ত। উল্লেখ্য, যিনি যত পরিমাণ সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করবেন তিনি আল্লাহর তত নৈকট্য অর্জন করবেন এই বিশেষায়িত শিক্ষা আমরা এই কুরবানী থেকেই শিখতে পাই।

    আর এসবের সমন্বয়েই মানবজীবনে প্রতিফলিত হয় আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া। ইসলামের এ ধরনের চিরায়ত আমলগুলোর শিক্ষাকে আমরা শুধু বিশেষ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না করে জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে প্রতি মুহূর্তে বিস্তৃত করে দিতে পারলেই তা আমাদের নিয়ে যাবে সফলতার স্বর্ণশিখরে। তাহলেই দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের শান্তি ও মুক্তির পথ সুগম হবে।

    দেশে ও প্রবাসে দশদিকের সকল পাঠক, বিজ্ঞাপন দাতা, শুভানুধ্যায়ীদের জন্য রইল ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

     

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৬ জানুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক