• শিরোনাম

    একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! আইনের সঠিক প্রয়োগে আর কত অপেক্ষা?

    | ০২ এপ্রিল ২০১৯ | ১২:১২ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 103 বার

    একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! আইনের সঠিক প্রয়োগে আর কত অপেক্ষা?

    পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার পরও এ ধরনের উঁচু উঁচু ভবন রাজধানীর অন্যান্য জায়গায়ও গড়ে উঠেছে। ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে ঢাকায় বারবার বহু প্রাণহানি ঘটছে। বিপুল সম্পদের বিনাশ হচ্ছে। এসব ঘটনায় দেখা গেছে, মানুষ আটকা পড়ে পুড়ে কিংবা ধোঁয়ায় প্রাণ হারায়। কিছু টাকা বেশি খরচ করেই ভবনে জরুরি নির্গমন পথ রাখা যায়। যেকোনো ধরনের বিপদের সময় মানুষ দ্রুত ওই পথ দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারে। একইভাবে ভবনের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা ও টেকসই কাঠামো, পানিপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা। এসব বিষয় মাথায় রেখে ভবন তৈরি করা জরুরি। ভবন নির্মাণে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যাপারে কিছু সতর্কতা নিতে হয়। সাধারণত ভবন নির্মাণের সময় সেগুলো হুবহু পালন করা হয়। আমাদের দেশে ১৯৯৬ সালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০০৮ সালে হালনাগাদ করে সংস্কার করা হয়েছে তা। এই আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অগ্নি নিরাপত্তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় এর বিশদ উল্লেখ রয়েছে। এগুলো মেনে ভবন নির্মাণ করা হলে অগ্নিকাণ্ড ঘটার আশঙ্কা যেমন কমবে; একইভাবে ভবনে আগুন লেগে গেলে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রেও কাজে আসবে।
    ভবন নির্মাণের সময় কর্তৃপক্ষকে যাচাই করে দেখতে হয়, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মেনে ভবনটি তৈরি হচ্ছে কি না। গত কিছুদিনে যেসব অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে এটা বোঝা যায় যে, বিধিমালা উপেক্ষা করা হচ্ছে ব্যাপকভাবে। ভবনের পরিকল্পনা পাস করা থেকে শুরু করে নির্মাণের সময় কিংবা নির্মাণের পরও সরকারের লোকেরা এসব যাচাই করার কথা। বাস্তবে ঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হলে ভবন নির্মাণে এমন ত্রুটি থাকার কথা নয় মোটেও। তাহলে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো আসলে কী কাজ করছে? রাজধানীতে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়া এবং পরবর্তীকালে এর ওপর নজর রাখার জন্য অনেকগুলো বিভাগ রয়েছে। সেগুলোর কার্যক্রম জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। গণপূর্তমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বিধিমালা না মেনে নির্মাণ করা অবৈধ ভবন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।   বাংলাদেশে কোনো কাজই যেন ঠিকভাবে হচ্ছে না। ভবন মালিকেরা নির্মাণ বিধিমালা মানছেন কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হয় না কিংবা এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যে, বিধিমালা না মানলেও নির্মাণের অনুমতি মিলছে। কিভাবে সেটা সম্ভব; সে ব্যাপারটি সবার জানা। তবে কর্তৃপক্ষেরও টনক নড়ে গেছে চুড়িহাট্টা ও বনানীর ঘটনার পর। দুঃখজনক হচ্ছে, এত বড় অঘটন আবার আড়ালে চলে যায়। ফের ঘটে কোনো বড় দুর্ঘটনা। আর বনানীর অগ্নিকাণ্ডের পর আশা করা যায় সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে চিহ্নিত করা হবে শিগগিরই, যেমনটি গণপূর্তমন্ত্রী বললেন। নতুন করে কোনো ভবন নির্মাণের সময়ও নিশ্চিত করতে যে, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা শতভাগ মানা হয়েছে।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক