• শিরোনাম

    ‘এগুলো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কথা’ -প্রিয়া সাহার দাবী‌

    | ২২ জুলাই ২০১৯ | ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 566 বার

    ‘এগুলো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কথা’ -প্রিয়া সাহার দাবী‌

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে  ‘বাংলাদেশে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ নিখোঁজ হয়েছে’ বলে নালিশ করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা দাবী করেছেন, এগুলো তার একার কথা নয়, এগুলো স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা।

    রোববার (২১ জুলাই) ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিও কথোপকথনে এই দাবী করেন তিনি।প্রিয়া সাহা বলেছেন, ‘এ কথাগুলো আমি কেন বলি, এগুলো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কথা। ২০০১ সালে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরে নির্বাচনোত্তর ৯৪ দিন ধরে চরম নির্যাতন চলছিল, আজকের প্রধানমন্ত্রী তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্য তিনি সারা পৃথিবীতে ঘুরেছেন, সমস্ত জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তার অনুসরণ করে এসব বলেছি। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো জায়গায় বলা যায়, এটা আমি তার কাছে শিখেছি।’

    প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু আমাদের বাংলাদেশে থাকার জন্য সাহায্য করুন।’

    তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’এ সময় ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করেন, ‘কারা জমি দখল করেছে? কারা বাড়ি দখল করেছে?’ জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এগুলো করছে। তারা সব সময় রাজনৈতিকভাবে শেল্টার পায়। সব সময়।’

    যুক্তরাষ্ট্রে কারা পাঠিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হিন্দু-বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ আমাকে পাঠায়নি। আমাকে আইআরএফ থেকে সরাসরি মেইল করা হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে ফোন করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসছে এখানে।’

    ৩৭ মিলিয়ন সংখ্যালঘু নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন বলে যে দাবি ট্রাম্পের কাছে করেছেন সেটা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০০১ সালের যে পরিসংখ্যান বই রয়েছে তাতে যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু যে চ্যাপ্টার রয়েছে, সেখানে এ বিষয়গুলো লেখা আছে। দেশভাগের সময় দেশের সংখ্যালঘু ছিল ২৯.০৭ ভাগ, এখন সেটা ৯.০৭ ভাগ। দেশের মোট জনসংখ্যা এখন ১৮০ মিলিয়ন। তাহলে যদি ওই শতাংশ জনসংখ্যা যদি একইভাবে বৃদ্ধি পেত তাহলে আমি যে ৩৭ মিলিয়নের কথা বলেছি সেটা মিলে যায়।’

    ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনে প্রিয়া সাহা ‘ডিজিপিয়ার্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। সেই শব্দের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘ডিজিপিয়ার্ড শব্দের মধ্যদিয়ে আমি যেটা বুঝাতে চেয়েছি, এই পরিমাণে লোক থাকার কথা ছিল যদি স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে প্রক্রিয়া, যেভাবে বাংলাদেশে জনগণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই একইভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যদি ২৯.০৭ শতাংশ থাকতো তাহলে এই জনসংখ্যাটা হত। কিন্তু তারা নেই। এই যে নাই, এটা যে ক্রমাগতভাবে ক্রমে গেছে সেটাই আমি বুঝাতে চেয়েছি।’

    উল্লেখ্য, ‘দেশভাগের সময়’ বলতে প্রিয়া সাহা ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান ভাগ তথা ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের সময়টাকে বুঝিয়েছেন।আর সে সময়ের চরম বাস্তবতা ছিল এই যে, মূলত ধর্মীয় স্বাধীনতার ইস্যুকে ভিত্তি করে ভারত ভাগ হওয়ার কারণে তৎকালীন পাকিস্তান থেকে (বাংলাদেশ সহ) যেমন বেশিরভাগ হিন্দুরা স্বেচ্ছায় ভারতে চলে যায়, তেমনি ভারত থেকেও বেশিরভাগ মুসলমান পাকিস্তান ও বাংলাদেশে চলে আসে।এটা একটা ঐতিহাসিক বাস্তবতা। কিন্তু প্রিয়া সাহা ৪৭ সালে বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছায় ভারতে চলে যাওয়া সংখ্যালঘুদেরকে ‘সরকার কর্তৃক নির্যাতিত’ ও ‘ডিজিপিয়ার্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা একান্তই অবান্তর  এবং  পাশাপাশি ‌’যদি তারা থাকতো তাহলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বর্তমানে বিদ্যমান সংখ্যালঘুদের সংখ্যার তিনগুণ হতে পারতো বলে আফসোস করে ‘জল ঘোলা’ করা এবং সেজন্য বাংলাদেশকে দায়ী করা তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    আবার এখন প্রিয়া সাহা তার ব্যাখ্যায় ‘দেশভাগ’ বা ৭২ বছর আগের ইস্যুকে টেনে আনলেও ট্রাম্পের কাছে নালিশ করার সময় কিন্তু তিনি কোথাও ৪৭ সালের কথা বলেননি।বরং তিনি এমনভাবে অভিযোগ করেছেন, যেন এটি এখনকার সমস্যা এবং বর্তমান সরকারের অধীনেই এসব ঘটছে।এবং তিনি ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৫ জুলাই ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক