• শিরোনাম

    করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ টু জাপান সফর এবং খুটিনাটি

    তাহিয়া তৌফিক | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 114 বার

    করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ টু জাপান সফর এবং খুটিনাটি

    করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ টু জাপান সফর এবং খুটিনাটি : আশা করি কাজে আসবেঃ যা যা অবশ্যই প্রয়োজন –
    ১৷ মেয়াদসহ জাপানিজ রেসিডেন্স কার্ড
    ২। রিএনট্রির মেয়াদ
    ৩। জাপানিজ এম্বাসি থেকে নেওয়া রিএনট্রি পারমিশন সার্টিফিকেট
    ৪। করোনা টেস্ট এর নেগেটিভ ফলাফল

    ৩১শে আগষ্ট, ২০২০ এর পূর্বে কেউ যদি বাংলাদেশ গিয়ে থাকে এবং তার যদি রিএনট্রির মেয়াদ এবং রেসিডেন্স কার্ডের মেয়াদ থেকে থাকে তবে তিনি জাপানে ফিরতে পারবেন। রিএনট্রির মেয়াদ থাকে জাপান থেকে বাইরে আসার এক বছর পর্যন্ত।



    এয়ারলাইন্স বুকিংঃ

    প্রথমত যে কোন এয়ারলাইন্স একটি বুকিং দিতে হবে৷ এখানে টাকা পে করার দরকার নেই৷ শুরুমাত্র বুকিং দিয়ে একটি প্রিন্ট নিতে হবে৷ মাথায় রাখতে হবে বুকিং যেন অবশ্যই ১২-১৫ দিন পরের হয়।

    এম্বাসির কাজঃ

    এই বুকিং এর কাগজ দিয়ে এম্বাসিতে রিএনট্রি পারমিশন সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন করতে হবে৷ এর জন্য এম্বাসিতে ফোন দিয়ে প্রথমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে৷ ফোন দেওয়ার সময় অবশ্যই পাসপোর্ট হাতের কাছে রাখবেন৷ ওরা পাসপোর্ট নম্বর জানতে চাইবে। এম্বাসিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেলে নির্ধারিত দিনে এম্বাসিতে নিচের জিনিসগুলো নিয়ে যেতে হবেঃ
    ১. রিএনট্রি পারমিশন সার্টিফিকেট এর ফর্ম
    ২. পাসপোর্ট ও তার ফটোকপি ( নামের পৃষ্টা ও অ্যারাইভাল কার্ডযুক্ত ও জাপান থেকে শেষবারের Depertaure সিল যুক্ত পৃষ্টা)
    ৩. জাপানিজ রেসিডেন্স কার্ড ও ফটোকপি
    ফর্ম এর লিংক আর এম্বাসির নম্বর নিচে যুক্ত আছে।

    https://www.mofa.go.jp/files/100078392.pdf

    Phone: +880 2-9840010
    এম্বাসিতে আবেদন করার পর থেকে ১০দিন সময় লাগবে সার্টিফিকেটটি পেতে।

    টিকিট কেনাঃ

    রিএনট্রি পারমিশন সার্টিফিকেট হাতে পেলে ফাইনালি টিকিট কেনা ভাল। এখন যেসব এয়ারলাইন্স চলছে তার মধ্যে আছে কাতার এয়ারলাইন্স, এমিরাতস আর শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স৷ এর মধ্যে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইট গুলো স্পেশাল ফ্লাইট। সরাসরি ওয়েবসাইট থেকে কেনা যাচ্ছেনা, এজেন্সির মাধ্যমে কেনা যাবে।
    কাতার আর এমিরাতস দুটোই অনেক ঘুরে নিয়ে আসবে জাপান, জার্নির সময় অনেক দীর্ঘ বলে আমি নিজে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সকে প্রিফার করেছিলাম। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সে ৪৫মিনিট ট্রানজিট অর্থাৎ ওরা নিজেই এক প্লেন থেকে নামিয়ে আরেক প্লেনে তুলে দিবে৷ ট্রানজিট টাইম খুব কম বলে চিন্তার কিছু নেই। সমস্ত কাগজ ঠিকঠাক থাকলেই একমাত্র শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সে টিকিট কাটা যাবে।

    কোভিড ১৯ টেস্টঃ

    পাসপোর্ট ও টিকেটের ২ কপি করে ফটোকপি এবং মূল কপি সাথে নিয়ে সারা দেশে বিদেশযাত্রীদের টেস্টের জন্য নির্ধারিত যেকোন সেন্টারে টেস্টের জন্য যেতে পারবেন। নিচের ফর্ম আগেই পুরন করে নিয়ে আসলে আরো ভাল। নাহলে সেখানেও পাওয়া যাবে।
    লিংকঃ

    https://dghs.gov.bd/images/docs/Notice/2020/corona/Outbound_Covid19_Report_Form_Final.pdf

    ফর্মটি পুরনের নিয়ম –

    https://dghs.gov.bd/images/docs/Notice/2020/corona/Outbound_Covid19_Report_Form_Final_manual.pdf

    অথবা,
    dghs.gov.bd তে যেয়ে বাম পাশে CORONA অপশন এ ক্লিক করলেও পাওয়া যাবে।

    আপনার টিকেট এর তারিখ ও সময় এর ২দিন আগে। (তাহলে ৭২ ঘন্টার মধ্যে না পড়ার রিস্ক থাকবেনা) যেমন – আপনার ফ্লাইট যদি ৩০তারিখে হয়ে থাকে,আপনি স্যাম্পল দিবেন ২৮তারিখে।

    যেদিন স্যাম্পল দিবেন, তার পরদিন দুপুর ২টা-৫টায় পেয়ে যাবেন। রিপোর্ট নিতে আসার দরকার নেই। রিপোর্ট টি পেয়ে যাবেন নীচের লিংক এ ফোন নাম্বার এন্টার করে –

    https://covid19reports.dghs.gov.bd/

    এই লিংক থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিলেই হবে।
    কারো যদি পজিটিভ আসে তবে এয়ারলাইন্সে যোগাযোগ করলেই টিকিট পিছিয়ে দিবে। ১৪ দিন পর আবার পরীক্ষা করতে হবে।

    বাংলাদেশ এয়ারপোর্টঃ
    শুরুতেই বলে রাখি যাত্রী ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দিবেনা। প্রতি ধাপে ধাপে করোনা টেস্টের সার্টিফিকেটি দেখাতে হবে। ২-৩ কপি তাই প্রিন্ট করে রাখাই ভাল।
    বাকি সব নরমাল ভাবেই হবে কোন ঝামেলা ছাড়ায় আশা করা যায়।

    নারিতা এয়ারপোর্টঃ

    একটু তাড়াতাড়ি নেমে আসাই ভাল কারণ ওরা সবার কোভিড টেস্ট করবে, সিরিয়াল আগে পেলে আগে রেসাল্ট পাবেন।
    উল্লেখ্য বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে দেওয়া একটি কাগজ আর প্লেনে দেওয়া একটি Questionnaire আগে থেকে পুরন করে রাখতে হবে। নাহলে সিরিয়াল পিছিয়ে যেতে পারে। Questionnaire এ কোয়ারেন্টিন লোকেশন, কিভাবে লোকেশনে পৌঁছাবেন সব তথ্য দিতে হবে। সাথে উল্লেখ থাকবে ভুল তথ্য দিলে কত জরিমানা বা কি শাস্তি। সেখানে সাক্ষর করতে হবে। কাগজ দুটোই ছবিতে দিলাম।

    এবার এই কাগজ জমা দিলে নমুনা পরীক্ষা হবে। ওরা Saliva দিতে বলবে আপনাকে। খুব সহজ প্রক্রিয়া। তারপর ওয়েটিং এরিয়াতে অপেক্ষা করবেন। মাঝে এক জায়গায় কোয়ারেন্টিন লোকেশন নিয়ে প্রশ্ন করবে আর আপনার ফোন নম্বর নিবে পরবর্তী খোঁজ খবরের জন্য। ওয়েটিং এরিয়াতে ওরা খাবারের ব্যাবস্থাও করে।
    খুব তাড়াতাড়িই ফলাফল পেয়ে যাবেন। আমি একদম শুরুতে নমুনা দেওয়ায় সবার নমুনা কালেকশন শেষ হওয়ার আগেই আমি ফলাফল পেয়ে যায়।

    ইমিগ্রেশনঃ

    ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশ থেকে আনা করোনা টেস্টের কাগজ আর জাপানিজ এম্বাসি থেকে নেওয়া রিএনট্রি পারমিশন এর অরিজিনাল সার্টিফিকেট দেখবে শুধুমাত্র।

    যাতায়াতঃ
    কিভাবে কোয়ারেন্টিন লোকেশনে যাবেন আগেই ব্যাবস্থা করবেন। কারণ পাবলিক ট্রেন বাসে উঠতে পারবেন না। আর ওইখানে বসে কিছু ঠিক করলে অনেক ভাড়া লেগে যেতে পারে।

    আশা করি সবাই সুস্থ ভাবে ফিরে আসতে পারবো।

    Credit: Tahia Taufiq/Writer Facebook Post
    大阪大学

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ জুন ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক