• শিরোনাম

    করোনা ভাইরাস: আতঙ্ক নয়, সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি

    | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 213 বার

    করোনা ভাইরাস: আতঙ্ক নয়, সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি

    বর্তমানে সারাবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চীনে উদ্ভূত হওয়া নতুন রহস্যময় করোনা ভাইরাস। বলা হচ্ছে, এটি একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপরই এ প্রাণঘাতী ভাইরাস দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। যা চীনে এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে।ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসে চীনে মৃত্যু হয়েছে ২০০ জনের। আমরা এরই মধ্যে জেনেছি চীনে এখন পর্যন্ত তিন হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি।

    ফলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর বৈঠকে বলেছেন, দেশ ‘গুরুতর পরিস্থিতির’ মোকাবিলা করছে। চীন ছাড়াও কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ ১৪টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে সারাবিশ্বে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমাদের দেশেও এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।



    এখনও পর্যন্ত এই করোনা ভাইরাসের  তেমন কোনও ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি বলেই জানা গেছে।  তাছাড়া এই ভাইরাস এর আগে কখনো মানুষের শরীরে ছড়ায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন তাতে এ ভাইরাস একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে ছড়াতে পারে।

    এই ভাইরাসটির আরেক নাম ‘২০১৯-এনসিওভি’ বলে অভিহিত করেছেন বিজ্ঞানীরা । ভাইরাসটির আবার অনেক রকম প্রজাতিও রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এর ওষুধ তৈরির চেষ্টা করছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ করোনা ভাইরাস ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এই ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে আমদেরকেও সজাগ হতে হবে।  আতঙ্কিত না হয়ে এ নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা বাড়াতে হবে। এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ গুলো, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর এবং কাশি।

     এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। তবে এর প্রথম লক্ষণ জ্বর বলেছেন চিকিৎসকরা। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে যদি শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তবে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

    চিকিৎসকদের মতে এই ভাইরাস থেকে সাবধান হতে আমাদের হাত সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে নাক বা মুখ ঘষবেন না, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরতে হবে।

    বাংলাদেশে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে খুব দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানিং শুরু করেছে। বিদেশ থেকে আসা প্রতিদিনের যাত্রীদের বিশেষ গুরুত্বের সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে চিকিৎসার জন্য ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। সরকারের এমন পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। এমন পরিস্থিতে মানুষ যেন আন্তঙ্কিত হয়ে না পড়ে সে জন্য আমাদের সতর্কতা অবলম্বন খুবই জরুরী।

    সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য সবসময় পরিচ্ছন থাকুন। দশদিক এনপিও, জাপান।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯  
  • ফেসবুকে দশদিক