• শিরোনাম

    করোনা সঙ্গী করেই আমাদের সামনে চলতে হবে!

    | ০১ জুলাই ২০২০ | ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 161 বার

    করোনা সঙ্গী করেই আমাদের সামনে চলতে হবে!

    কোভিড-১৯ মহামারীতে সংক্রমণ আরো ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে। পরীক্ষার হার বৃদ্ধির সাথে সাথে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন যে, যত বেশি পরীক্ষা, তত বেশি সংক্রমণ। এর কারণ, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে যেসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা ছিল, তার কোনোটিই যথাযথভাবে নেয়া হয়নি। ফলে রোগটি সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে এবং সম্ভবত এই রোগকে সঙ্গী করেই আমাদের চলতে হবে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা (ডব্লিউএইচও) এই মহামারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ছয়টি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি। সুপারিশের মধ্যে ছিলÑ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, জনবলসহ সেবাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা, জনসমাবেশ কমানো, কর্মস্থলে প্রতিরোধব্যবস্থা নেয়া, বিদেশে আসা-যাওয়া করে এমন ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা। এসব কাজের কোনটি শতভাগ সুষ্ঠুভাবে করা হয়েছে সাধারণ মানুষের তা অজানা। তবে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজগুলোর কোনোটিই ঠিকমতো হয়নি এ দেশে। এসব পদক্ষেপের সাথে গোটা সরকার যুক্ত থাকার কথা; কিন্তু কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। সেই মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাও কতটা ফলপ্রসূ, তা বোঝা যায় সংক্রমণের ক্রমাগত বিস্তার এবং দৈনিক ৩০-৪০ জনের মৃত্যুর মধ্যদিয়েই। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সম্পৃক্ততা বাড়ানো দরকার। মহামারী মোকাবেলায় গোটা সরকারব্যবস্থাই যুক্ত থাকার কথা বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাস্তবে পুরো সরকারকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। মন্ত্রী, এমপিদের মাঠে দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক একটি দৈনিককে বলেন, ‘মহামারী মোকাবেলার বিষয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং দেখছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত। সুতরাং গোটা সরকারব্যবস্থাই এখন এই কাজে জড়িত। এটা শুধু স্বাস্থ্য অধিদফতর বা মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।’ কথাটা একজন ডিজির অবস্থান থেকে বর্তমানে হয়তো যথার্থ, কারণ এর বাইরে কিছু বললে পরিণতি কী হবে কে জানে!



    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দু’টি উপায় বলেছিল। একটি হলোÑ করোনার সন্দেহভাজন লোকদের চিহ্নিত করা, পরীক্ষা করা, আইসোলেট (বিচ্ছিন্ন করা) করা, চিকিৎসা দেয়া এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ) করে সংক্রমণের পথ বন্ধ করা। দ্বিতীয় উপায় বলেছিলÑ পর্যবেক্ষণ, জরিপ ও রোগতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া। করোনা পরীক্ষার দুর্বলতা শুরু থেকেই আছে এবং তা আজ পর্যন্ত কাটিয়ে ওঠা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনিক কমপক্ষে ২০ হাজার পরীক্ষা দরকার। ৬০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চললেও আমরা ১৩ থেকে ১৪ হাজারের বেশি পরীক্ষা করতে পারছি না। দেশের ৬৪টির মধ্যে ৪৩ জেলায় পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের বেশি নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে হয়। তারা রোগটি ছড়াচ্ছে কি না, তা কেউ মনিটর করছে না।

    হাসপাতালে সুষ্ঠুু চিকিৎসা না পাওয়ার অজস্র অভিযোগ আছেই। আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজও বন্ধ ছিল, এখন সীমিত পর্যায়ে হচ্ছে। আর রোগতাত্ত্বিক কোনো গবেষণা বা জরিপ আদৌ চালানো হয়নি। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর’বি) সহায়তায় দেশব্যাপী একটি জরিপ এত দিনে করছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সব দেশের প্রতি কোভিড-১৯ মোকাবেলার পদক্ষেপ দ্বিগুণ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। গত সোমবার সংস্থার মহাপরিচালক সন্দেহভাজন রোগীদের খুঁজে বের করে পরীক্ষা করা, রোগী ও সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও কোয়ারেন্টিন করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এই সুপারিশও আমাদের পক্ষে কার্যকরভাবে অনুসরণ করা সম্ভব হবে, তার নিশ্চয়তা কী? ফলে কোভিড-১৯-এর তাণ্ডব দেখার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের সম্ভবত বেশি কিছু করার নেই।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দশদিক