• শিরোনাম

    কোরবানি কে কেন ও কিভাবে দেবেন?

    | ২৩ জুলাই ২০২০ | ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 309 বার

    কোরবানি কে কেন ও কিভাবে দেবেন?

    কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান ও বিশেষ ইবাদত। সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য এটি আদায় করা ওয়াজিব। (সূরা কাউসার-২)
    সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করে না, তার ব্যাপারে হাদিস শরিফে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। ইরশাদ হয়েছেÑ ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’(মুসনাদে আহমাদ-৮২৭৩, ইবনে মাজাহ-২১২৩)

    শরিয়তের প্রত্যেকটি ইবাদত নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকে। এখানে কোরবানি সংক্রান্ত মৌলিক তিনটি আলোচনা পেশ করা হলোÑ
    ১. যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব : প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। নগদ অর্থ, সোনা-রুপার অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে লাগে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।



    আর নেসাব হলো স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি, রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি, টাকাপয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নেসাব হলোÑ এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রুপা কিংবা টাকাপয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলেও তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। (আলমুহিতুল বুরহানি ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫)
    ২. যে জন্য কোরবানি করবেন : কোরবানি শাআইরে ইসলাম তথা ইসলামের প্রতীকী বিধানাবলির অন্যতম। তাই এর মাধ্যমে শাআইরে ইসলামের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ ছাড়া গরিব-দুঃখী ও পাড়া-প্রতিবেশীর আপ্যায়নের ব্যবস্থা হয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা:-এর শর্তহীন আনুগত্যের নজরানা পেশ হয়। কেননা, কোরবানি হয় একমাত্র আল্লাহর জন্য। তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। ইরশাদ হয়েছেÑ ‘হে রাসূল! আপনি বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য উৎসর্গিত।’ (সূরা আনআম : ১৬২)

    কোরবানিতে তাকওয়ার অনুশীলন হয়। যেহেতু তাকওয়া হলো কোরবানির প্রাণ। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘মনে রেখো, কোরবানির জন্তুর গোশত অথবা রক্ত আল্লাহর কাছে কখনোই পৌঁছে না; বরং তাঁর কাছে কেবল তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে।’ (সূরা হজ : ৩৭)
    উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত, নবীজী ইরশাদ করেছেন, ‘কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্য থেকে পশু কোরবানি করার চেয়ে কোনো আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশি প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন এই কোরবানিকে তার শিং, পশম ও ক্ষুরসহ উপস্থিত করা হবে। আর কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লøাহ তায়ালার কাছে কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে কোরবানি করো।’ (তিরমিজি : ১৪৯৩)
    ৩. যেভাবে কোরবানি করবেন : যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব তিনি ১০ জিলহজ ঈদের সালাতের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় নিজের পক্ষ থেকে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কোনো একটা পশু আল্লাহর নামে কোরবানি করবেন। অথবা শরিকযোগ্য একটি পশুতে কারো সাথে কমপক্ষে এক বা একাধিক অংশ নিয়ে শরিক হতে পারেন।

    ‘শরিয়তে কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু হলো ছয়টি। যথাÑ উট, গরু, মহিষ, ভেড়া, দুম্বা, ছাগল। একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কোরবানি দিতে পারবেন। দুই বা ততধিক ব্যক্তি মিলে কোরবানি করলে কারোটাই হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবেন। সাতের অধিক শরিক হলে কারো কোরবানি হবে না।’ (মুসলিম-১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক-১/৩১৯, ফতোয়া কাজি খান-৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে-৪/২০৭,২০৮) সাত শরিকে মিলে কোরবানি করতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা, হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছেÑ জাবির রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূল সা: আমাদের নির্দেশ করেছেন যে, আমরা যেন একটি গরু এবং একটি উটে সাতজন করে শরিক হয়ে যাই।’ (মুসলিম : ১২১৮)

    কোরবানির পশুর বয়সের ব্যাপারে আমাদের খুব সচেতন থাকতে হবে। কেননা, শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বয়সের কম বয়সী পশু দিয়ে কোরবানি হবে না। শরিয়ত কর্তৃক কোরবানির পশুর বয়স হলোÑ উট কমপক্ষে পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। আর ছাগল-ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে এক বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি এক বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয়, যা দেখতে এক বছরের মতো মনে হয় তাহলে সেটি দিয়েও কোরবানি করা জায়েজ। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাস বয়সের হতে হবে।
    উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স এক বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দিয়ে কোরবানি জায়েজ হবে না।

    হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছেÑ ‘তোমরা (কোরবানির জন্য) মুসিন্নাহ ছাড়া জবাই করো না। যদি সম্ভব না হয় তবে ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা।’ (মুসলিম : ১৯৬৩) মুসিন্নাহ হলোÑ পাঁচ বছর বয়সী উট, দুই বছরের গরু ও ছাগলের ক্ষেত্রে এক বছর।’ (শরহে নববি, কাজিখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬)
    আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক নিয়মে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
    লেখক : মুহাদ্দিস, জামেয়া রাহমানিয়া দারুল ইসলাম, দক্ষিণ কাজলা, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ এপ্রিল ২০২০

    ০৩ এপ্রিল ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক