• শিরোনাম

    গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বছরে ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে

    | ১৯ মার্চ ২০১৯ | ৬:২২ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 233 বার

    গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বছরে ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে

    গ্যাসের দাম ফের বাড়ানোর পথে সরকার। এ লক্ষ্যে গণশুনানির মাধ্যমে আইনি বাধ্যবাধকতা পালনও করেছে। মুনাফায় থাকা সরকারি কোম্পানিগুলো গ্যাসের গড় দাম বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। তাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম গড়ে ১৪ টাকা ৯২ পয়সা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। ফলে গ্যাসের দাম গড়ে ১০৩ শতাংশ বাড়াতে হবে। আগামী জুন মাস থেকে নতুন মূল্যহার অনুযায়ী গ্রাহকদের গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হতে পারে। ফলে আগামী অর্থবছরে গ্যাসের মূল্য বাবদ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

    পেট্রোবাংলার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ৩২ কোটি ঘনফুট। আগামী এপ্রিল থেকে আরো ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানির কথা রয়েছে। মূলত: এলএনজি আমদানি দৈনিক ৫০ কোটি থেকে বেড়ে ১০০ কোটি ঘনফুটে বেড়ে যাওয়ার ব্যয় সামাল দিতেই গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে। তবে এই কর্মকর্তা জানান, নতুন এলএনজি আনার সব প্রস্তুতি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ভাসমান টার্মিনাল থেকে এলএনজি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও স্থাপন করা হয়নি। সব মিলিয়ে এই এলএনজি গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করতে আগস্ট মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    গত ১১ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিইআরসির গণশুনানিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে এলএনজি যাচ্ছে গ্রাহকদের কাছে। আগামী এপ্রিলে নতুন করে ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আগামী অর্থবছরে দৈনিক ৮০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হবে ধরে গ্যাসের দাম প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রতি হাজার ঘনফুট এলএনজি ১০ মার্কিন ডলার দরে দেশীয় গ্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় সরবরাহ মূল্য পড়বে ১২ টাকা ১৯ পয়সা। এর সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ মার্জিন এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ গ্যাসের নতুন দর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে গ্যাস সরবরাহ করা হবে তিন হাজার ৫৫ কোটি ৭০ লাখ ঘনমিটার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে হবে তিন হাজার ৪৭৪ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার। বর্তমান দর সাত টাকা ৩৫ পয়সা হিসাবে আগামী অর্থবছর গ্রাহকদের ব্যয় দাঁড়াত ২৫ হাজার ৫৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। তবে প্রস্তাবিত দর ১৪ টাকা ৯২ পয়সা হিসাবে সরবরাহকৃত গ্যাস বাবদ গ্রাহকদের গুনতে হবে ৫১ হাজার ৮৩৮ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। অর্থাত্ প্রস্তাবিত হারে গ্যাসের দাম বাড়লে জনগণের ব্যয় বেড়ে যাবে ২৬ হাজার ৩০১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

    পেট্রোবাংলার এক পরিচালক বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণে গ্যাস আমদানি হচ্ছে তাতে ইতোমধ্যে ৯ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিতরণ কোম্পানিসহ অন্যান্য সিস্টেমকে সচল রাখার জন্য দামবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। আর দেশের শিল্প উত্পাদন বাড়াতে এলএনজি আমদানির চেয়ে ভালো বিকল্প আপাতত আমাদের হাতে নেই। এ প্রেক্ষাপটে দাম কিছুটা বাড়বে। শিল্পখাতকে এ ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি মেনে নিতে হবে। আর আবাসিকে এলপিজি ও পরিবহনে অটোগ্যাস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

    তবে শুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, পোশাক খাত যে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে তার পেছনে তাদের ১৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। বার বার গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে কিন্তু তারা দুই তিন বছর থেকে যে ইভিসি (ইলেকট্রিক ভলিউম কারেকটর) মিটার চাইছেন তা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গ্যাসের নিম্নচাপ, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের পরও অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে। এতে উত্পাদন খরচ বাড়ছে। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়লে কলকারখানা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

    কনজ্যুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, আগামী এপ্রিলে এলএনজি পাইপলাইনে আসবে না, এটি সবাই জানে। যে গ্যাস আসেনি তার ওপর ভিত্তি করে দাম বাড়ানো অযৌক্তিক ও অন্যায়। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকা অলস পড়ে রয়েছে। সরকার যতদিন অর্থ না দেয় ততদিন সে তহবিল থেকে ঋণ দিয়ে এলএনজির ব্যয় নির্বাহ করা যায়। দেশের ভেতরে গ্যাস অনুসন্ধান-উত্পাদনে জোর না দিয়ে আমদানির জন্য তত্পর একটি পক্ষ। যার ফলে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা জনগণের কাঁধে চেপে বসছে।

    বিইআরসি’র প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের এক চুলায় মাসিক বিল ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে এক হাজার ৩৫০ টাকা। জোড়া চুলায় মাসিক বিল ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৪৪০ টাকা হবে। মিটারযুক্ত আবাসিক সংযোগে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৪১ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহার করা সিএনজির দাম প্রতি ঘন মিটার ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬ টাকা ১০ পয়সা এবং সার কারখানায় ব্যবহার করা গ্যাসের দাম ইউনিট প্রতি দুই টাকা ৭১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে আট টাকা ৪৪ পয়সা করার দাবি করা হয়েছে। শিল্প-কলকারখানায় প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম সাত টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৪ টাকা পাঁচ পয়সা, বিদ্যুেকন্দ্রের গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিট তিন টাকা ১৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৭৪ পয়সা এবং ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ১৮ টাকা চার পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাবনা দিয়েছে বিতরণ কোম্পানি।

    বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, শুনানি শেষ হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে দাম নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর বিধি রয়েছে। এর মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে কোম্পানিগুলো তাদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দামবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বলে কমিশনও মনে করে। দাম পুনর্নির্ধারণে ও মূল্যায়নে এটিও বিবেচনায় থাকবে।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক