• শিরোনাম

    চার দাবিতে ঢাবি ভিসির কার্যালয়ের সামনে ভিপি নুরের অবস্থান

    | ০৩ এপ্রিল ২০১৯ | ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 81 বার

    চার দাবিতে ঢাবি ভিসির কার্যালয়ের সামনে ভিপি নুরের অবস্থান

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনের সামনে চার দাবিতে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে এখনো বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিছিল নিয়ে এসএম হলে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হওয়া ডাকসুর ভিপি এ ঘটনায় জড়িতদের বহিষ্কারসহ চার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। রাত পেরিয়ে গেলেও এখনো অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আজ সকাল ১১টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল করা হবে বলে জানা গেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে মারধরের শিকার হয়ে অপরাধীদের বিচার, ছাত্রলীগের ‘কবল’ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে মুক্ত করা, অছাত্র ও বহিরাগতদের তাড়াতে হলগুলোতে অভিযান পরিচালনা এবং নিয়মিত ছাত্রদের হলের সিটগুলোতে থাকার ব্যবস্থা করা। বুধবার সকালে ভিপি নুর বলেছেন, হামলায় জড়িত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিচার ও অছাত্র এবং বহিরাগতদের হল থেকে বের করার দাবিতে ভিসি বাসভবনের সামনে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে। না যায়, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার এক আবাসিক শিক্ষার্থীর পক্ষে অভিযোগপত্র জমা দিতে গিয়ে সলিমুলাহ মুসলিম হলে অবরুদ্ধ হন নুরুল হক নুর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শামসুন নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম ইমরোজ ইমি, ডাকসুতে স্বতন্ত্র জোটের পরাজিত ভিপি প্রার্থী অরণী সেমন্তি খান, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান ও ফারুক হাসানসহ কোটা আন্দোলন ও বাম সংগঠনগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। কিন্তু অভিযোগপত্র জমা দিতে গিয়ে হল শাখা ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়েন তারা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, হল সংসদের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগ নেতারা নুরসহ অন্যদের মারধর করেছেন। পরে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম জোয়ার্দারের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে বের হতে গেলেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর ডিম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে হলের আবাসিক ছাত্র ফরিদ হাসানকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। হল শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ফরিদ নিজ সংগঠনের মনোনয়ন না পেয়ে হল সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। উর্দু বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফরিদ হাসানকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হল সংসদের ভিপি-জিএসসহ ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। ফরিদ এসএম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ১৫৯ নম্বর কক্ষে থাকতেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে তিনি চিকিৎসা নেন। মারধরের শিকার ফরিদের অভিযোগ, হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এই ক্ষোভেই তাকে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করেছেন ওই পদে বিজয়ী ছাত্রলীগ নেতা জুলিয়াস সিজার তালুকদার। এ সময় ‘তুই এখনো হলে আছিস কেন’ এমন প্রশ্নও তোলেন ছাত্রলীগ নেতারা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি ফরিদের মাথায় ডান কানের পাশে ও চোখের ওপরে জখম হয়েছে, সেখানে ৩২টি সেলাই পড়েছে। এ হামলায় জড়িতদের বিচার দাবিতে নুরের নেতৃত্বে বিকালে টিএসসির রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল বেরোয়। শতাধিক শিক্ষার্থীসহ মিছিল নিয়ে নুর এসএম হলে ঢুকলে তাদের ওপর হামলা হয়। নুর বলেছেন, ফরিদের ওপর হামলার বিচার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে ডাকসুর ভিপি হিসেবে, ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তিনি এসএম হলের প্রাধ্যক্ষের কাছেও একটি অভিযোগ দিতে বলেন। তার পরামর্শে লিখিত অভিযোগ দিতে ওই হলে গিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগের রাতে হামলায় আহত ফরিদ তার জামা-কাপড় আনতে ভয় পাচ্ছিল। সে জন্য আমি তাকে নিয়ে তার রুমে গিয়েছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং হল সংসদের ভিপি-জিএস তারাও ছাত্রলীগের নেতা, তারা এসে আমার সঙ্গীদের ওপর হামলা করে। ’ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গের কয়েকজনকে বেদম মারধর করে অভিযোগ করে নুর বলেন, তাদের মারধরে আতাউল্লাহ নামের এক ছাত্র খুব বেশি আহত হয়েছেন। এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার বিচার দাবিতে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলে গেলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ শিক্ষার্থীদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করেন হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ওই সময় নুরসহ অন্যরা হল থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেও তাদের আটকে টেনে-হিঁচড়ে হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষের সামনে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন নুরুল হক নুর। এ সময় তাদের উদ্ধারের জন্য বারবার প্রক্টর ও প্রভোস্টকে ফোন করেও কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক