• শিরোনাম

    বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলের ভোট বন্ধ

    ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবি উপেক্ষা করেই ডাকসু ও হল নির্বাচন

    এইচ এম দুলাল | ১১ মার্চ ২০১৯ | ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 196 বার

    ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবি উপেক্ষা করেই  ডাকসু ও হল নির্বাচন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রীদের কুয়েত মৈত্রী হল থেকে বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার উদ্ধারের পর ওই হলের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে হলের গেইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী এবং প্রো-ভিসি মোহাম্মদ সামাদকে ঘিরে ভোট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ হলে ঢোকার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের বাধায় তা পারেনি। ছাত্রীদের বিক্ষোভের মধ্যে প্রো-ভিসি মোহাম্মদ সামাদ বলেন,‘এই হলের নির্বাচন অবশ্যই স্থগিত থাকবে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনব।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের মধ্যে ১৭টিতে সোমবার সকাল ৮টায় ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট শুরু হলেও কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরুই করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

    বিপুল পরিমাণ ব্যালট দেখিয়ে শিক্ষার্থীরা হলের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, আগের রাতেই এসব ব্যালটে ‘ক্রস চিহ্ন’ সিল মেরে ভোটের চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীদের নামে ভোটের সিল মারা হয়েছে।

    কুয়েত মৈত্রী হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সোমবার সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই অন্যান্য হলের মতো এখানেও ছাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সাড়ে সাতটার দিকে নির্বাচনে প্রার্থীরা হল প্রভোস্টের কাছে তাদের সামনে ব্যালট বক্স খোলার দাবি করে। তবে তাদের সামনে বাক্স খোলা হয়নি। সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটের দিকে হলে প্রক্টর আসেন। এরপর প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট মিলে ব্যালট বাক্স হলের রিডিং রুমে নিয়ে যান। এরপর ছাত্রীরা গিয়ে রিডিং রুম থেকে বস্তাভর্তি ব্যালট পান।

    কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের ভিপি পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুন্নাহার পলি অভিযোগ করেন, হলের মিলনায়তনের পাশে রিডিং রুমে বসে ব্যালট পেপারে ভোটের চিহ্ন (সিল মারা) দেয়া হচ্ছিল।

    তিনি অভিযোগ করেন,‘ভেতর থেকে দরজায় ছিটকিনি দিয়ে ভেতরে বসে এগুলো করছিল। ওই রুমে বসে সিল মারছিল। আমরা সাড়ে ৭টার দিকে ম্যামকে বলেছিলাম ‘ম্যাম আমরা দেখব ব্যালট বাক্স খালি কিনা। তিনি কিছুতেই দেখাবেন না। উনি বলেন, প্রক্টর স্যার এসে দেখাবেন।’

    তিনি আরো বলেন,‘প্রক্টর স্যার এসে বললেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সব দেখাব। এটা বলে তিনি ওই রুমে নিয়ে গিয়ে ভিতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে দেন। আমরা দরজা ধাক্কা দিলেও কিছুতেই খুলতে চাননি। যখন দরজা খুললো, আমরা ভেতরে গিয়ে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করি।’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল মিলিয়ে ভোটার রয়েছেন মোট ৪৩ হাজার ২৫৫ জন। এর মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটার ১৯৬৯ জন।

    ডাকসুর জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফুর রহমান অভিযোগ করেন, উদ্ধার হওয়া সবগুলো ব্যালটে ‘একই প্যানেলের’ প্রার্থীর নামে ভোটের চিহ্ন দেয়া। তিনি বলেন,‘সিলগুলো আগের রাতেই মেরে রাখা হয়েছে। আমরা ভোটগ্রহণ স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি।’

    শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে প্রক্টর গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন,‘সিল মারা ব্যালটের সত্যতার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আমরা এখানে আছি। ভোটগ্রহণ বন্ধ আছে। দেখি কি করা যায়।’

    মিডিয়ার অবাধ তথ্যসংগ্রহে কড়াকড়ি আরোপ এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবি উপেক্ষা করে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং হল নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন প্রার্থীরা। শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত চলে প্রচারণা।

    শুরুতেই ছাত্রসংগঠনগুলোর মূল দাবি উপেক্ষা করে আসছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সরকারি দল আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলো থেকে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে হলের বাইরের একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র করার দাবি জানানো হয়। হলগুলোকে ছাত্রলীগের প্রভাব মুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি করে আসছিল ছাত্রদল এবং বামজোটসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। সহাবস্থান নিশ্চিত এবং অবাধ প্রচার-প্রচারণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচনকে কিছুটা পিছিয়ে দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেল ছাত্রসংগঠনগুলো।

    সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিডিয়ার ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তুলনামূলকভাবে ভোট গ্রহণের সময় অনেক কম রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে গতকালও ভিসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রসংগঠনগুলো। গতকাল রাতে ভিসির সাথে দেখা করতে গেছে ছাত্রদল, বামজোট, কোটা আন্দোলনকারী এবং স্বতন্ত্র জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত (রাত ৮ টা) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে সদিচ্ছা পোষণ করতে দেখেনি ছাত্রসংগঠনগুলো। তাই সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ জিইয়ে রেখেই নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দুপুরে সংবাদিকদেরকে প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের কথাই ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যারা যত অভিযোগ করেন ততোটা সহযোগিতা করলেই নির্বাচন ভাল হবে।

    জানা গেছে, ভোট কারচুপির শঙ্কা থেকে ডাকসু নির্বাচনের সকালে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট ও বাক্স পাঠানোর দাবি উঠলেও আগের দিনই হলগুলোতে সেগুলো পাঠিয়ে দিয়েছে ঢাবি প্রশাসন। নির্বাচন সামনে রেখে রোববার বিকালেই সিনেট ভবন থেকে হলগুলোতে ব্যালট বাক্স পাঠানো শুরু হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন দাবি নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবনে যান প্রগতিশীল ছাত্রঐক্যসহ কয়েকটি প্যানেলের প্রার্থীরা। স্টিলের ব্যালট বাক্স নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করার পাশাপাশি সকালে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স পাঠানোর দাবি জানায় তারা।

    এ সময় বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট প্রগতশীল ছাত্রঐক্যের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী লিটন বলেন, রাতের আঁধারে হলগুলোতে ব্যালট বাক্স পাঠানো যাবে না। সকালে গণমাধ্যম ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যালট বাক্স উন্মুক্ত করে দেখিয়ে তা স্থাপন করতে হবে।

    এদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৮ হলে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫০৮টি বুথ। ৪২ হাজার ৯২৩ ভোটারের জন্য এসব বুথ তৈরি করা হয়েছে। হল প্রাধ্যক্ষ ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    প্রাপ্ত তথ্যমতে, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে বুথ ৩৫টি, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ২০টি, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫টি, অমর একুশে হলে ২০টি, জগন্নাথ হলে ২৫টি, কবি জসীম উদ্দীন হলে ২০টি, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৩২টি, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে ৩০টি, রোকেয়া হলে ৫০টি, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৪৫টি, শামসুন্নাহার হলে ৩৫টি, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ২০টি, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ১৯টি, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ২১টি, স্যার এ এফ রহমান হলে ১৬টি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ২৪টি, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ২০টি এবং বিজয় একাত্তর হলে ৪০টি বুথ থাকবে।

    কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫টি ও হল সংসদের ১৩টিসহ মোট ৩৮টি পদের জন্য ভোট দেবে শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫টি পদের বিপরীতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ২২৯ জন। আর প্রতিটি হল সংসদে ১৩টি পদের জন্য ১৮টি হলে ৫০৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবার মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৬ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৬ হাজার ৯৪৪ যা মোট ভোটারের ৬২ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং নারী ১৬ হাজার ৩১২ জন; যা মোট ভোটারের ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ।

    ডাকসুর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি পদে ২১ জন এবং জিএস পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া এজিএস পদে ১৩ জন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম-ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন এবং ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে ৮৬ জন নির্বাচন করবেন।

    অন্যদিকে হল সংসদে ১৮টি হলে ১৩টি করে পদের বিপরীতে প্রার্থী রয়েছেন মোট ৫০৯ জন। এর মধ্যে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ২৭ জন, জগন্নাথ হলে ২৮ জন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বলে ১৭ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ২৬ জন, অমর একুশে হলে ২৯ জন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ২৭ জন, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে ৩৪ জন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৩৩ জন, রোকেয়া হলে ৩০ জন, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৩০ জন, শামসুন্নাহার হলে ২৫ জন, কবি জসীম উদ্দীন হলে ২৫ জন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ২২ জন, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৬ জন, বিজয় একাত্তর হলে ৩০ জন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ২৭ জন, স্যার এ এফ রহমান হলে ৩৭ জন এবং সূর্যসেন হলে ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দশদিক