• শিরোনাম

    ছেলেকে বাঁচাতে আইসিইউ ছেড়ে মারা গেলেন মা

    | ২৯ জুলাই ২০২১ | ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 324 বার

    ছেলেকে বাঁচাতে আইসিইউ ছেড়ে মারা গেলেন মা

    স্থান, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। মা- ছেলে দুজনেই করোনায় আক্রান্ত। পুরো পরিবার উদ্বেগে কাতর। দুজনের কারো অবস্থা তেমন ভাল নয়। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। দুজনেরই আইসিইউ প্রয়োজন। মায়ের শারীরিক অবস্থা আগে থেকে শোচনীয়। বৃদ্ধা মা আইসিইউতে-ই ছিলেন। এদিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে ছেলেরও আইসিইউ’র সেবা প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালে আর আইসিইউ বেড খালি নেই। এমন পরিস্থিতিতেও বৃদ্ধা মা ছেলের জন্য আইসিইউ ছেড়ে দিলেন। আইসিইউ থেকে বের করার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই শ্বাসকষ্টে মা মারা গেলেন। মা’র পরশ লেগে থাকা আইসিইউ’র সেই বেডে ছেলে এখনো অন্তত নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছেলের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন।

    আইসিইউ সঙ্কটে বুধবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।



    চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের মা-ও ছেলে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন মায়ের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে হাসপাতালে তাৎক্ষনিক খালি থাকা একটি আইসিইউ বেডে তাকে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে বুধবার (২৮ এপ্রিল) সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠে ছেলের শারীরিক অবস্থাও। চিকিৎসকরা ছেলেকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরামর্শ দিলেও জেনারেল হাসপাতালসহ চট্টগ্রামের কোন হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি পাওয়া যায়নি। আইসিইউ বেডে থাকা মা তখন ছেলের জন্য নিজের আইসিইউ বেড ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান চিকিৎসকদের। পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে মাকে সাধারণ বেডে নামিয়ে ছেলেকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে সাধারণ বেডে আনার এক ঘন্টার মধ্যেই মারা যান মা।

    ছেলেকে বাঁচাতে এমন আত্মত্যাগ মা ছাড়া আর কে করতে পারে!

    চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিট প্রধান ডা. আব্দুর রব এই প্রতিবেদককে জানান, বুধবার এই হাসপাতালে আরেকটি হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মাত্র ১২ ঘন্টার ব্যবধানে বাবা ও ছেলে মারা গেছেন এই হাসপাতালে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ জুন ২০১৯

  • ফেসবুকে দশদিক