• শিরোনাম

    জাপানে‘মে ডে’ ২০১৯ পালন উপলক্ষে অভিবাসীদের নিয়ে এপিএফএস এর সমাবেশ

    | ০৭ মে ২০১৯ | ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 2127 বার

    জাপানে‘মে ডে’ ২০১৯ পালন উপলক্ষে অভিবাসীদের নিয়ে এপিএফএস এর সমাবেশ

    জাপানে বসবাসরত বিদেশী শ্রমিকদের নিয়ে এশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি (এপিএফএস) জাপান ‘মে ডে’ ২০১৯ পালন উপলক্ষে   এক সমাবেশ এর আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এপিএফএস’র এবারের আয়োজনটি ছিল বিশতম । বিশতম আয়োজন উপলক্ষে  ২৮ এপ্রিল ২০১৯ রোববার টোকিওর ইতাবাশি জেলার ইতাবাশি ওয়ার্ড গ্রীন হল’এ আয়োজিত সমাবেশে সর্বস্তরের অভিবাসীরা অংশ নিয়ে থাকেন। বলাবাহুল্য এপিএফএস এশিয়ান ভুক্ত দেশগুলো নিয়ে হলেও  প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রয়েছে।  তার কারন, ১৯৮৭ সালে অভিবাসীদের প্রতি মানবিক দায়িত্ব পালনে মানবতাবাদী, অভিবাসীদের অত্যন্ত কাছের মানুষ ইয়োশিনারি কাতসুও’র হাত ধরে এপিএফএস-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল টোকিওর ইতাবাশি নামক জেলাটি থেকে ।  প্রতিষ্ঠালগ্নে ইয়োশিনারি সংগঠনটির সম্মুখভাগে থাকলেও এর পেছনের কুশীলবদের সবাই ছিলেন মূলত বাংলাদেশি। যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন একজন বাংলাদেশি। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাসান ও একজন বাংলাদেশি, ইয়োশিনারি কাতসুও তাই সবসময় বলে থাকেন এপিএফএস হলো বাংলাদেশিদের সংগঠন। সমাবেশে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন, এপিএফএস’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইয়োশিনারি কাতসুও। স্বাগতিক বক্তব্যে ইয়োশিনারি কাতসুও বলেন, কর্মক্ষেত্রে জাপান আইনে বিদেশী এবং জাপানীদের সম অধিকার। অনেকেই তা জানেন না। নিজেদের অধিকার নিজেদের ছিনিয়ে আনতে হয়।  শুধুমাত্র ভিসাহীনদের জন্যই এপিএফএস কাজ করেনা, ভিসাধারী যারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিতদের দাবী আদায়েও কাজ করে থাকে। সুবিধা বঞ্চিত জাপানীজদের জন্যও এপিএফএস কাজ করে থাকে।
    ইয়োশিনারি আরো  বলেন , জাপান আইনে কোন কোম্পানিতে ছয় মাস কাজ করার পর মজুরী সহ ১০ দিনের ছুটি পাওয়া যায় । খন্ডকালীন এবং বিদেশীদের বেলাতেও একই আইন প্রযোজ্য । এমন কি অভিবাসী শিক্ষার্থী বেলায় সম অধিকার । কিন্তু অভিবাসীরা আইনটি জানে না বলে ভোগ করতে পারেনা । তিনি বলেন, জাপানে অভিবাসীদের প্রয়োজনীতা রয়েছে।
    বর্তমান আইনে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
    জাপান সরকারকে অভিবাসীদের ব্যাপারে আরও নমনীয় হতে হবে এবং নিয়মকানুনও শিথিল করতে হবে, জাপানের স্বার্থেই তা করতে হবে। নতুবা জাপানের অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব পড়বে, কারণ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা হ্রাস এবং কাজের প্রতি অনীহা জাপানের অর্থনীতিকে হুমকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।
    মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন বর্তমান সভানেত্রী  মায়ুমি ইয়োশিদা।
    মুল প্রবন্ধে  মায়ুমি ইয়োশিদা এপ্রিল ২০১৯ থেকে জাপানে বিদেশী নাগরিকদের জন্য আইন পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক বিশদভাবে তুলে ধরেন।
    তিনি বলেন, এপ্রিল ২০১৯ থেকে জাপানে পরিবর্তিত অভিবাসী আইন শুরু হয়েছে ।  সার্বিক বিবেচনায় এই পরিবর্তন হয়তোবা বড় কিছুই নয়। তবু জাপানী বিবেচনায় অনেক বড় একটা পরিবর্তন বলতে হবে। হয়তো আগামীতে আরো পরিবর্তন হবে বলে আমরা আশা করি।
    তিনি আগামী ৫ বছরে জাপানে ৯টি দেশ থেকে ৩,৫০,০০০ বিদেশী শ্রমিক আসার কথার উল্লেখ করেন। এই নয়টি দেশ হচ্ছে, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, চায়না, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, নেপাল এবং মঙ্গোলিয়া। আগামীতে হয়তো শ্রমিক এর সংখ্যা এবং অন্তর্ভুক্ত দেশের সংখ্যা হয়তো বৃদ্ধি পাবে এবং সেখানে বাংলাদেশের নামটি অন্তর্ভুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
    সমাবেশে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সাথে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন, মুকুল মুস্তাফিজ, এমডি নাসিরুল হাকিম, আনোয়ার হোসেন, জুয়েল আহসান কাম্রুল, রাহমান মনি এবং এমডি সহিদুল ইসলাম নান্নু।
    এছাড়াও আনোয়ার হোসেন ‘মে দিবস’ এর শ্লোগানের নেতৃত্ব দেন এবং এমডি এস ইসলাম নান্নু ‘চিয়ার্স’-এর মাধ্যমে নৈশ আপ্যায়নের সূচনা করেন।
    সমাবেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিজস্ব দেশীয় সংস্কৃতি পরিবেশন করে মিয়ানমারের আরাকান সাংস্কৃতিক দল এবং বাংলাদেশের উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ ও স্বরলিপি কালচারার একাডেমী টোকিও।
    উল্লেখ্য, জাপানে ‘মে ডে’উপলক্ষে সরকারী ভাবে কোন সাধারন ছুটি  না থাকলেও বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে থাকে । এপিএফএস তাদের অন্যতম ।

    rahmanmoni@gmail.com



    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০২ এপ্রিল ২০১৯

  • ফেসবুকে দশদিক