• শিরোনাম

    জাপানে কর্মী নিয়োগে কিছু সাবধানতা

    | ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 1056 বার

    জাপানে কর্মী নিয়োগে কিছু সাবধানতা

    জাপানে কর্মী নিয়োগের সংবাদে ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) ও তাদের সিন্ডিকেট, বাইরের দালাল-প্রতারক চক্র যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠেতে পারে এবং  বাংলাদেশিদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জাপানে বাংলাদেশিদের চাকরির কথা বলে এমন প্রচুর বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে ইন্টারনেটে। আগ্রহী ব্যক্তিদের টানতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করছে প্রতারকরা। শুধু শ্রমিক প্রেরণই নয়, উচ্চশিক্ষা এবং ছাত্রাবস্থায় পার্টটাইম চাকরি করার সুযোগ উল্লেখ করে বাংলাদেশি তরুণদের আকৃষ্ট করতে নানা লোভনীয় অফারও দেয়া হচ্ছে। এমন কোন অফার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্প্রতি জাপানের সাথে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ক একটি চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাপানে শ্রমিক পাঠিয়ে থাকে বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি। এছাড়া জাপান সরকারের সাথে হওয়া নতুন জনশক্তি রপ্তানি চুক্তির আওতায় এরইমধ্যে ১১টি সংস্থাকে অনুমোদন দেয়া হয় এবং একটি সংস্থাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থার যোগ্যতা হলো বাংলাদেশ ছাড়াও জাপানে তাদের অফিস রয়েছে।  এদের অনেকেই এরই মধ্যে ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে অভিজ্ঞ মহল মনে করে এ দায়িত্ব শুধু কয়েকটি নিদিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়ার সাথে সাথে যাদের যথাযথ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে সে এমন ধরনের আরো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যেন লোক নিয়োগের সুযোগ পায় তার অনুমতি থাকতে হবে। কারণ কোন ক্ষমতা বা দাতিত্ব এক জায়গায় বা কোন সংস্থার কাছে আটকে থাকলে সেখানে ক্ষমতার অপব্যহারের আশংকা থাকে। তাই সকল দক্ষ ও অভিজ্ঞ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যে লোক নিয়োগ প্রক্রিয়িা অংশ নিতে পারে তার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণায়লয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পেশার দক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে ভাষা শেখার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। তবে কেউ দলাল ও দুর্নীতিবাজচক্রের প্রতারণার ফাঁদে পা দিলে সেটি ভিন্ন কথা। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসাব বলছে, গত বছর মাত্র ১৬৩ জন শ্রমিক জাপানে পাঠাতে পেরেছে বাংলাদেশ।  চলতি বছর ৪০০ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও জুলাই পর্যন্ত গিয়েছেন ১১৯ জন। আরও প্রায় এক হাজার কর্মীর ভাষা প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার ২৭টি কেন্দ্রে ৪০ জন করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিএমইটি। চার মাস মেয়াদি জাপানি ভাষা শেখার এসব প্রশিক্ষণের পর পরীক্ষায় বসেন কর্মীরা। এরপর শিক্ষানবিশ হিসেবে তাদের জাপানে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য দেশের মতো জাপানে কর্মী রপ্তানির ক্ষেত্রে যেন অনিয়ম না হয় সে ব্যপারে সকলকে সচেতন থাকার কথা বারবার বলেছেন অভিজ্ঞজনরা। ২০১৫ সালে জাপানে শ্রমের চাহিদা পূরণে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের কঠোর অভিবাসন নীতি শিথিল করে পার্লামেন্টে নতুন আইন পাস করা হয়। যেখানে প্রথম ধাপে বলা হয়, পৃথিবীর ৯টি দেশ থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার শ্রমিক নেয়া হবে। কিন্তু তীব্র শ্রমিক সংকট থাকায় দ্বিতীয় ধাপে আরো বেশি শ্রমিক নেয়ার সিধান্ত নেয় দেশটি। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকেও শ্রমিক নেয়ার চুক্তি সই হয় দু’দেশের সরকারের মধ্যে। এখনই সরকারের এ ব্যাপারে কঠোর ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া উচিত মনে করছেন অভিজ্ঞজনরা। যথাযথ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই আবেদন করতে হবে। এসব সংস্থার  বাংলাদেশ ছাড়াও জাপানে তাদের অফিস আছে কিনা তাও দেখতে হবে।



    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক