• শিরোনাম

    ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কি কমিয়ে দেখানো হচ্ছে?

    | ২৯ জুলাই ২০১৯ | ৭:৩০ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 62 বার

    ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কি কমিয়ে দেখানো হচ্ছে?

    এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর পান্থপথের শমরিতা হাসপাতাল, ধানমন্ডির কমফোর্ট নার্সিং হোম, ল্যাব এইড হাসপাতাল এবং গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ২৭শে জুলাই থেকে ২৮শে জুলাইয়ের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা সময়ে ডেঙ্গু রোগী বিষয়ে একটি রিপোর্ট দেয়া হয়েছে।

    সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ওই সময়ের মধ্যে ওই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কোন রোগী ভর্তি হননি ।

    রিপোর্টে মোট ৩৬টি হাসপাতালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যেগুলোর মধ্যে ২৩টি হাসপাতালে ওই সময়ে কোন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়নি বলে উল্লেখ করা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই রিপোর্টে।

    শমরিতা হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, ২৭শে জুলাই বিকেল থেকে ২৮শে জুলাই বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

    গত মাসে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩ জন মারা গেছে বলেও জানান তিনি।

    মিস্টার ইসলাম বলেন, “গত মাসে আমাদের এখানে ৩ জন মারা গেছে ডেঙ্গুতে। তবে ডেঙ্গু ছাড়াও তাদের আরো কিছু জটিলতা ছিলো।”

    হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্ট সম্পর্কে মিস্টার ইসলাম বলেন, “ওই রিপোর্ট নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। ডিজি হেলথ কোথা থেকে এ তথ্য পেয়েছেন তা আমার জানা নেই।”

    কমফোর্ট নার্সিং হোমের সহকারী ব্যবস্থাপক মোঃ. মাসুম পাটোয়ারি জানান, “আমার কাছে যে তথ্য ছিলো সেখানে ২৭-২৮ তারিখে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।”

    তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্টের কথা উল্লেখ করলে তিনি তার বক্তব্য পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন।

    তিনি বলেন, তাদের কাছে ৪৩ জন রোগী থাকলেও আসলে ওই সময়ে কেউ ভর্তি হননি।

    গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, “২৭ থেকে ২৮ তারিখে মেল ওয়ার্ডে ছিলো ১১ জন আর ফিমেল ওয়ার্ডে আছে ৭ আট জনের মতো।”

    “একটু পর পরই ডেঙ্গু রোগী আসতেছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আমাদের ওয়ার্ডে কোন বেড ফাঁকা নাই” – বলেন তিনি ।

    শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. কণা জানান, ২৭ তারিখ দুপুর দুটো থেকে ২৮ তারিখ দুপুর দুটো পর্যন্ত দুই শিশুকে ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

    তবে হাসপাতালটির পরিচালক মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, ২৭-২৮ তারিখে হাসপাতালটিতে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। যার হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওই রিপোর্ট পায়নি উল্লেখ করলে তিনি বলেন, “একজন পুরুষ ও একজন মহিলা এসে রিপোর্ট নিয়ে গেছেন। তবে রিপোর্ট দেয়ার পরও কেন এন্ট্রি হচ্ছে না সে বিষয়ে আমরা জিজ্ঞাসা করবো।”

    ল্যাব এইডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ডা. মোঃ: মাহমুদুল হাসান জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উল্লিখিত সময়ে ল্যাব এইডে ছয় জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।

    তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্টে তাদের হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা শূন্য দেখানোর বিষয়ে মিস্টার হাসান অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে।

    মিস্টার হাসান বলেন, “তাদের নিজেদের মধ্যে যদি কোলাবরেশন না থাকে তাহলে হবে না। এখানে কন্ট্রোল, ডিজিএসএইচ ইয়াহু ডট কমে দেয়া হচ্ছে, ডা. সাজ্জাদকে দেয়া হচ্ছে। আইডিসিএফ ডট গভ ডট বিডি তে দেয়া হচ্ছে। উনারা কখনো এসে দেখাও করেননি। শুধু একটা লেটার এসেছিলো। সেটার প্রেক্ষিতেই আমরা তথ্য দিচ্ছি।”

    তবে রিপোর্টে কেন রোগীর সংখ্যা শূন্য দেখানো হচ্ছে – এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এবিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্রশ্ন করতে হবে। তারা উত্তর দিতে পারবেন।”

    বিষয়টি নিয়ে কথা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হলেও ঠিক মতো রিপোর্ট দেয় না তারা।

    তবে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরে এবিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করি আমি।

    এরমধ্যে শমরিতা হাসপাতাল, কমফোর্ট নার্সিং হোম, ল্যাব এইড হাসপাতাল এবং গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠান বলে জানানো হয়।

    এরমধ্যে ল্যাব এইড হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ঠিকানায় যেখানে ছয় জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।

    এ নিয়ে প্রশ্ন করলে মিজ আয়শা আক্তার দাবি করেন, এধরণের কোন মেইল তারা পান নি।

    তিনি বলেন, “ওই হাসপাতালগুলোকে আমরা ডেইলি ফোন করি কিন্তু তারা রিপোর্ট দেন না। ওনারা বলছে কিন্তু ওনারা কোন রিপোর্ট আমাদেরকে মেইল করেনি প্লাস ওনাদেরকে ফোন করার পরও কোন রিপোর্ট তাদের কাছ থেকে নিতে পারছি না। সেকারণে গতকাল বেসরকারি হাসপাতালের সাথে মিটিং করা হয়েছে। সেখানে তারা রাজি হয়েছে যে তারা এখন থেকে নিয়মিত মেইল করে রিপোর্টটা দিবে।”

    ডা. আয়শা আক্তারকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো যে, তার দাবি অনুযায়ী, বেশ কিছু হাসপাতালের তথ্য না পাওয়া সত্বেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বিষয়ে যে রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে দেয়া হচ্ছে – সেটা বাস্তবতার সাথে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ?

    এমন তিনি দাবি করেন, “বাস্তবতার সাথে অবশ্যই মিল আছে। কারণ ফোকাস পয়েন্টে যেগুলো আছে সেরকম হাসপাতালের রিপোর্ট তো আমরা নিচ্ছি। সবগুলো হাসপাতালের হিসাব পেলে হয়তো এই সংখ্যা আরো বাড়বে।”

    “সবাই তো হাসপাতালে ভর্তি হয় না। কেউ কেউ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে। কেউ কেউ আউটডোরে চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছে। এখন আউটডোরের সংখ্যাটা যাতে পাওয়া যায় তার জন্যও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে” – বলেন ডা.আয়েশা আক্তার।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৪ জুলাই ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক