• শিরোনাম

    ঢাকা ছাড়ছে মানুষ ফিরছেও অনেকে

    | ২৭ জুন ২০২১ | ১০:০২ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 216 বার

    ঢাকা ছাড়ছে মানুষ ফিরছেও অনেকে

    দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন শুরু হতে পারে এমন ঘোষণা আসায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ। একইভাবে গ্রাম থেকে ফিরছেনও অনেকে। আগে থেকেই দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প উপায়ে আসা-যাওয়া করছেন তারা। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকি, রাস্তার ভোগান্তি, বাড়তি খরচের বোঝা মাথায় নিয়েই বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ গাবতলী ও সায়েদাবাদ এলাকা দিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। দূরপাল্লার বাস না থাকলেও বরাবরের মতোই মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, পিকআপ ভ্যান ও ছোট বড় ট্রাক করেই ছুটছেন তারা। এর আগে গাবতলী সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে এসব গাড়ি পাওয়া গেলেও এবারের চলমান লকডাউনের কারণে যাত্রীকে কিছুটা হেটে আমিনবাজার ও কাঁচপুরে গিয়ে গাড়িতে উঠতে হচ্ছে। আবার একইভাবে ঢাকায় ফিরছেন কেউ কেউ। এসব বাহনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ঠাসাঠাসি করে বসে বাড়ি ফিরছেন তারা। এ দিকে পদ্মা নদীর পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া এলাকায় ঘরমুখো মানুষের তীব্র স্রোত শুরু হয়েছে। যানবাহন তোলার আগেই ফেরি পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে মানুষে। অনেক সময় মানুষের ভিড়ে ফেরিতে যানবাহন তুলতেও অসুবিধায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল শনিবার গাবতলী ব্রিজের অপর প্রান্ত আমিনবাজারে দেখা যায় দূরপাল্লার যাত্রী নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও ছোট বড় ট্রাক। সেখানে গিয়ে একই রুটের কয়েকজন মিলে এসব গাড়ি ভাড়া করে তাতে বাড়ি ফিরছেন। তবে কোনো গাড়িতেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। গায়ের সাথে ঠাসাঠাসি করে যাত্রা করতে হচ্ছে তাদের।



    নয়ন নামে একজন যাত্রী বলেন, তিনি একটি দোকানের কর্মচারী। কঠোর লকডাউনে মার্কেট দোকান বন্ধ থাকবে এ সময় কাজ না থাকলে মালিক তাদের বেতন দিতে পারবেন না। তাহলে ঢাকায় বসে কি খাবো। তাই বাধ্য হয়েই গ্রামে ফিরতে হচ্ছে তাকে। তিনি বলেন, এভাবে বাড়ি যাওয়া চরমঝুঁকিপূর্ণ জানি, কিন্তু কি করব। না খেয়ে তো মরতে পারব না।

    রাজশাহীগামী আক্তার হোসেন বলেন, পরিবারের তিন সদস্য নিয়ে গ্রামে যাচ্ছেন। তিনজনের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া করার মতো পয়সা নেই তার। তাই জনপ্রতি ১৪০০ টাকা করে একটি মাইক্রোবাসে উঠেছেন তারা। ১০ সিটের মাইক্রোবাসে গাদাগাদি করে ১৪ জন যাত্রী উঠানো হয়েছে। কষ্ট হবে, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে আবার খরচও হচ্ছে কয়েকগুণ। তারপরও বাধ্য হয়ে রাজধানী ছাড়তে হচ্ছে। কারণ সামান্য বেতনে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন তিনি। এমনিতেই করোনার কারণে তার বেতন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার লকডাউন আসলে তার অফিসও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে অফিসের আয় না থাকলে মালিক বেতন দিতে পারবেন না। তাই থাকা খাওয়ার অনিশ্চয়তায় গ্রামে যেতে হচ্ছে তাকে।
    ঢাকায় ফেরত আসা আল আমিন বলেন,, এখনো রাস্তায় কিছু যানবাহন পাওয়া যায়। তবে কঠোর লকডাউনে যদি সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। তাহলে আর ঢাকায় ফিরতে পারব না।

    মাওয়া শিমুলিয়া-বাংলাবাজার যানবাহনের চেয়ে যাত্রীর চাপ বেশি
    মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে কঠোর শাটডাউনের ঘোষণার দ্বিতীয় দিনেও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। ফেরি পারাপার হচ্ছে হাজারও মানুষ। ফেরিতে পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি যানবাহন থেকে যাত্রীর সংখ্যাই বেশি। তবে কাউকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। অনেকে মুখে মাস্কও পরেননি। গতকাল শনিবার সকালে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা বেশি। শুধু পণ্যবাহী ও জরুরি যানবাহন পারাপারের কথা থাকলেও ফেরিতে ব্যক্তিগত গাড়িও পারাপার হতে দেখা যায়। এ দিকে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি পয়েন্টে ও শিমুলিয়া ঘাটের প্রবেশ মুখে রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। চেকপোস্টে যাত্রী চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পুলিশ।

    বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়াঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘নৌরুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। সকাল থেকে যাত্রীদের কিছুটা ভিড় রয়েছে। তবে গাড়ির চাপ নেই। লকডাউনের আওতামুক্ত গাড়ি পারাপারের কথা থাকলেও যাত্রীরা ঘাটে আসছে। যাত্রী নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আমাদের নয়।’
    মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ জাকির হোসেন জানান, লকডাউনের নির্দেশনা মানার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীরা বিভিন্নভাবে ঢাকা থেকে ঘাটে আসছে। আবার বাংলাবাজার ঘাট থেকে আসা যাত্রীরা ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করছে।
    কাজিরহাট-আরিচা ফেরিঘাটে ঈদের ভিড়!

    পাবনা সংবাদদাতা জানান, সোমবার থেকে সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য কড়াকড়ি লগডাউন ঘোষণার পরেই কাজিরহাট-আরিচা ঘাটে মানুষের চরম ভিড় দেখা গেছে। শনিবার সারা দিন ফেরিতে ছিল মানুষের ঠাসা ভিড়। রাজধানী ঢাকার সাথে বাস ও রেল যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই আরিচা-কাজীরহাট নৌপথ ব্যবহার শুরু করছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি মানাতো দূরের কথা ধাক্কাধাক্কি করে ফেরিতে ওঠার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছে সবাই। ফেরি আসার পর বানের পানির মতো মানুষ ফেরিতে উঠতে থাকেন।

    সুজানগরের মনির নামের এক যাত্রী জানান, এমনিতেই শুক্র ও শনিবার ছুটি থাকায় এই দুই দিন ফেরিতে ভিড় হয়। এর পর সরকারের কঠোর লগডাউনের খবরে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। আবু সাঈদ নামের অন্য যাত্রী জানান, লগডাউনের খবর পেয়ে সজনদের সাথে সময় কাটানোর জন্য বাড়ি যাচ্ছি। রোজার ঈদ বাড়িতে করতে পারিনি। কোরবানির ঈদও যদি করতে না পারি সেই ভেবে এই সপ্তাহ বাড়িতে কাটাতে চাই। এজন্য বাড়ি ফেরা। কিন্তু গাবতলী থেকে কোনো মতো ফেরিতে এসেছি। কিন্তু ফেরিতে প্রচুর ভিড়। দাঁড়ানোর জায়গা নেই।

    পাবনা জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল আহসান খান রেওন বলেন, সারা দেশে ঢাকার সাথে বাস চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্তের পর আর কোনো দূরপাল্লার গাড়ি চলছে না। ফলে মানুষ এখন নদী পথে বাড়ি আসার কারণে ভিড় হচ্ছে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৯ এপ্রিল ২০২০

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ১৪ জুলাই ২০১৯

  • ফেসবুকে দশদিক