• শিরোনাম

    ত্রাণ নিয়ে অপকর্ম সহ্য করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

    | ১৬ এপ্রিল ২০২০ | ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 316 বার

    ত্রাণ নিয়ে অপকর্ম সহ্য করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ত্রাণ নিয়ে কোনো ধরনের অপকর্ম আমরা বরদাশত করব না। ত্রাণ বিতরণে যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দল-মত বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল বুধবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণকালে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। ৩৩টি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান হিসেবে নগদ অর্থ ও পিপিই প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এসব অনুদান গ্রহণ করেন।

    প্রতিটি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই রিলিফ দেওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেই এর সঙ্গে জড়িত সে যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। কারণ, গরিব মানুষের জন্য আমরা যে সহায়তা দেবো আর কেউ এর অপব্যবহার করবে—এটা আমরা বরদাশত করব না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৬৮ হাজারের মতো নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়। ৪ হাজারের ওপরে ইউনিয়ন, এরপর উপজেলা রয়েছে। সব হিসাব করে দেখা গেল যে হয়তো ৫-৭ জায়গায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা খুব বেশি নয়। আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নিয়েছি।’



    মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে একটা শ্রেণি শুধু সরকারের সমালোচনা করে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেকে অনেক কথা বলে বেড়াচ্ছেন, অনেক দল-মত, সুশীল সমাজ। তারা কিন্তু মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। সমালোচনা করতেই ব্যস্ত। এ ধরনের লোক থাকবেই, সব সমাজেই থাকে। তারা কথা বেচেই যাবে, এটাই তাদের প্রফেশন।’ তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত কথা না বলে কয়েকটা মানুষকে সাহায্য করেন। এই দুঃখের সময়ে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। মানুষকে নিজে কতটুকু দিলেন সে হিসাবটা করুন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন এবং সেটা আমরা কার্যকর করে যাচ্ছি। চিকিত্সা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। চিকিত্সক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী আমাদের যে নেতাকর্মী তাদেরকেও আমরা নির্দেশ দিয়েছি। তারাও মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সরকারিভাবে যা দেওয়া হচ্ছে পাশাপাশি বেসরকারিভাবে যে যতটুকু পারছেন সাহায্য করে যাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে যেমন বিনামূল্যে খাদ্যসহায়তা দিচ্ছি তেমনি ১০ টাকা কিলো মূল্যে ওএমএসের মাধ্যমে চাল সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। যারা তালিকার বাইরে রয়েছে, তাদের জন্য আমরা কার্ড তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিটি মানুষ যেন সহায়তাটা পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। যাতে প্রত্যেকের ঘরে এই ত্রাণ সহযোগিতাটা পৌঁছে যায়। তিনি বলেন, ‘রাতে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে কেউ ভিড় না করে। নতুন কেউ যাতে সংক্রমিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ ত্রাণ সহযোগিতায় এগিয়ে আসা ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিটি এলাকায় কমিটি করে দিয়েছি, স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করলে সবাই পাবে। কেউ বাদ যাবে না। আজকের যে দুঃসময়, সেটা একদিন কেটে যাবে এবং বাংলাদেশ আবারও এগিয়ে যাবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই ইনশাল্লাহ আমরা দেশটাকে গড়ে তুলব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই করোনা ভাইরাস আসার পর অর্থনৈতিক গতিধারা কিছুটা শ্লথ হয়ে গেছে। শুধু বাংলাদেশ না, বিশ্বব্যাপীই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। করোনা ভাইরাসে সমগ্র বিশ্ব বলতে গেলে স্থবির হয়ে আছে। সবাইকে সচেতন থাকতে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেকে সুরক্ষিত করার সঙ্গে সঙ্গে অপরকেও সুরক্ষিত করতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার জনগণ ও দেশের অর্থনীতিকে করোনা ভাইরাস মহামারি সৃষ্ট সংকট থেকে বাঁচাতেই প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রণোদনা প্যাকেজ শুধু আজকের জন্য নয়, আমাদের এখনকার যে সমস্যা সেটা সমাধান করা এবং আগামী তিন অর্থবছর পর্যন্ত যে পরিকল্পনা সেটা বাস্তবায়ন করা। যাতে এই করোনা ভাইরাসের সময়টা পার করে আপনারা আপনাদের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছু আবার চালাতে পারেন। যেটা সব শ্রেণির মানুষ পাবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষ—আমাদের দিনমজুর, কামার-কুমার, রিকশাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা থেকে শুরু করে ছোটো ছোটো দোকানদাররা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—প্রত্যেকের কথাই আমরা চিন্তা করেছি এবং প্রত্যেকের দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছি। সব শিল্প- কলকারখানা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও যাতে চালু থাকে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এই প্রণোদনার খাতে আমরা ব্যয় করব বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, আজকের যে অর্থনৈতিক মন্দা সেটা বিশ্বব্যাপীই দেখা দেবে। সেজন্য বাংলাদেশকে সুরক্ষিত করার জন্যই আমরা খাদ্য উত্পাদনে বিশেষভাবে জোর দিচ্ছি।

    এই করোনা ভাইরাস আসার পরই অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা কিছুটা শ্লথ হয়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্বেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সমগ্র বিশ্বই বলতে গেলে স্থবির হয়ে পড়েছে।’

    ভিডিও কলে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়

    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করে তার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। মঙ্গলবার বিকালে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কল করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এ কথা জানিয়ে বলেন, নেত্রী আমাদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সচেতন থাকতে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ০৯ এপ্রিল ২০২০

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ১৪ জুলাই ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক