• শিরোনাম

    দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহ হয়তো বাঁচিয়ে রেখেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

    | ২২ আগস্ট ২০২১ | ১:০৫ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 67 বার

    দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহ হয়তো বাঁচিয়ে রেখেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা থেকে তার জীবন রক্ষা পাওয়ার প্রসঙ্গে বলেছেন, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহ হয়তো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
    তিনি শনিবার আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ১৭ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে কথপোকথনভিত্তিক একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।

    ‘ফিরে দেখা : ভয়াল ২১ আগস্ট’ শীর্ষক সাক্ষাতকারটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে আজ রাতে সম্প্রচারিত হয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রীর সম্পূর্ণ সাক্ষাতকারটি নিচে দেয়া হলো-
    প্রশ্ন : প্রধানমন্ত্রী ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আপনাকে হত্যা উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এভেনিউতে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে এক ডজনের ও বেশি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয় এবং এই হামলায় আপনি প্রাণে রক্ষা পেলেও দলের ২২ নেতা-কর্মী সেদিন নিহত হন, আহত হন প্রায় ৫ শ’ মানুষ- এ সম্পর্কে আপনার অনুভূতি ব্যক্ত করুন-
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখুন বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে একটি সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছিল, সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। তখন বাংলা ভাই সৃষ্টি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা প্রভৃতি ঘটনা ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে। যখন সিলেটে হযরত শাহজালাল র:-এর মাজারে গ্রেনেড হামলা করা হয় এবং সেই হামলায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার আহত হন এবং ৩/৪ জন লোক মৃত্যুবরণ করেন তখন এই হামলা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে খুব খারাপ ভাবে নষ্ট করে। তখনই আমরা সন্ত্রাস বিরোধী একটি র‌্যালি করার একটি সিদ্ধান্ত নেই এবং যখন সেই র‌্যালী আমরা করতে চেয়েছিলাম রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে। কিন্তু আমাদের অনুমতি দেয়া হয় নাই। পরে আমরা প্রস্তুতি নিলাম ঠিক আছে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনেই করবো। হঠাৎ তার আগের দিন রাত সাড়ে ১১ টায় তারা আবার পারমিশন দেয়। কিন্তু তখন আমাদের মাইক লাগানো হয়ে গেছে, প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন কাজেই সেখানেই আমরা আমাদের সমাবেশটা করি।



    তিনি বলেন, আমি যাই এবং বক্তব্য রাখি এবং বক্তব্য রেখে মাইকটাও হাত থেকে রাখতে পারিনি এরই মধ্যে বোমার আওয়াজ। শব্দ শুনেই আমাদের নেতা কর্মীরা আমাকে ধরে বসিয়ে দেয়। বিশেষ করে হানিফ ভাইয়ের কথা আমি বলবো (সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ) মামুন, আমার সঙ্গে কাজ করতো, নজীব-সে ছুটে আসে, মায়া-তখন ট্রাকের ভেতরেই ছিল। ট্রাকের ভেতরেই সবাই আমাকে একদম ঘিরে রাখে। প্রথমে ৩টা তারপরে ৩টা এভাবে এক ডজনের কাছাকাছি গ্রেনেড তারা ছুঁড়ে মারে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন সত্যি কথা বলতে কি নিজের কথা চিন্তার চেয়েও বেশি চিন্তা হচ্ছিল এতগুলো মানুষ আমরা ট্রাকের ওপরে তারপর চারদিকে আমাদের নেতা-কর্মীরা সবাই। সে সময় কার যে কি অবস্থা কিছুই বুঝতে পারছি না। একটা পর্যায়ে যখন গ্রেনেড হামলা একটু থামলো। তখন দেখলাম সিটি মেয়র হানিফ ভাই যিনি আমাকে ঘিরে রেখেছিলেন সমস্ত স্পিøন্টারগুলো তার মাথা এবং গায়ে পড়েছে এবং ঐ রক্ত আমার কাপড়ে চলে আসে। সবাই ভেবেছে আমি বোধ হয় আহত তাই আমাকে ধরে ওঠাতে গেল আমি বললাম না আমার কিছু হয়নি। এটা আমার কাছে একটা বিস্ময় যে আমার গায়ে একটা ও স্পিøন্টার লাগেনি। কিন্তু আমার চশমা হারিয়ে যায়।
    তিনি বলেন, সেখান থেকে আমার গাড়িতে ঠিক যখন উঠতে যাব আমার গাড়ির দরজাটা খুলে দাঁড়িয়েছিল আমার সাথেই একজন সেনা কর্মকর্তা মাহবুব ও ছিল আমার ড্রাইভার কাম সিকিউরিটি। ওরা গেটটা খুলে দাঁড়ায় আর ঠিক সে সময়ে সেখানে একটা গুলিও চলে আসে এবং মাহবুব গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানেই মারা যায়। বঙ্গবন্ধু এভেনিউ থেকে সে সময় চলে আসি পুলিশ সেখানে লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস মারে। সেটা আমি আবার পরে জানতে পেরেছি, সে সময় জানতে পারিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, এই যে মুত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো, আমি কখনও মৃত্যুর কথা ভাবিনি। আর আমি জানি মৃত্যু যে কোন সময় আসতে পারে। সেখানে আমরা সন্ত্রাসের শিকার হলাম। আর অন্য দিন মিটিং করতে গেলে পুলিশের থেকে যে রকম বাধা আসে, তারা ঘেরাও করে রাখে, নেতা-কর্মীদের আসতে বাধা দেয়। সেরকম কোন প্রস্তুতি নাই। আরেকটা কথা হলো আমাদের পার্টির ভলান্টিয়ার যারা সমাবেশের আগে প্রত্যেকটি ছাদে অবস্থান করে কিন্তু সেদিন কাউকেই ছাদে থাকতে দেয়া হয়নি। পুলিশ বাধা দিয়েছে। অর্থাৎ আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার যে ব্যবস্থাটা নেই সেটাও তারা করতে দেয়নি।

    তিনি বলেন, অনুভূতির কথা আমি এটুকুই বলবো আল্লাহ হয়তো জীবনটা বাঁচিয়ে রেখেছেন, এই ধরনের হামলার শিকার হয়েছি। হয়তো আমার হাত দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের কিছু কল্যাণ করবেন সেজন্যই বাঁচিয়ে রেখেছিলেন,তাছাড়া আরকি!
    প্রশ্ন: এই নৃশংসা হামলা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। যেভাবে এর ছক কষা হয়েছে তাতে মনে হয়েছে পুরো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন্য এই হামলা করা হয়েছিল। এর কারণ কি?

    শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সংগঠনটাকে গড়ে তুলেছিলেন এবং এই সংগঠন করবার জন্য তিনি মন্ত্রীত্ব পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তান হওয়ার পরেই যেটা উপলদ্ধি করেছিলেন- বাঙালির জন্য একটা রাষ্ট্র দরকার, বাঙালি জাতি হিসেবে একটি স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় দরকার। যখনই জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণাটা দিলেন তাকে কিন্তুু গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হলো। কাজেই তাঁকে হত্যার একটা প্রচেষ্টাতো বহুদিন থেকে ছিল। তার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া, আওয়ামী লীগকে নিয়েই তিনি বাংলাদেশের মানুষকে সংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ করেছেন, প্রতিটি আন্দোলন- সংগ্রাম করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে বিজয় অর্জন করেছেন।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৯ এপ্রিল ২০২০

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ১৪ জুলাই ২০১৯

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

  • ফেসবুকে দশদিক