• শিরোনাম

    ধর্ষণ ও নারী সহিংসতা: আর কতকাল?

    | ১১ অক্টোবর ২০২০ | ৫:২৩ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 87 বার

    ধর্ষণ ও নারী সহিংসতা: আর কতকাল?

    নারীর প্রতি ভয়াবহ সহিংসতা অব্যাহত গতিতে চলছে বাংলাদেশে। প্রতিদিন বর্ধিত হারে এসব ঘটনার খবর প্রকাশ পাচ্ছে। এর সাথে হত্যা বা খুনের খবরও প্রতিদিন বর্ধিত হারে পাওয়া যাচ্ছে। কেন এমন ভয়াবহ বিপর্যয়, তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধ আড়াল করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। অপরাধীরা বিশেষ কোটায় জামিনে মুক্তি পাচ্ছে। শেষে একবারে অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যাচ্ছে। অপরাধগুলো যারা করছে তাদের বড় গলা রয়েই যায়। ফলে বর্ধিত হারে এমন বর্বরতা চালাতে উৎসাহ পাচ্ছে দুষ্কৃৃতকারী, ধর্ষক, নিপীড়করা। অপরপক্ষে ভুক্তভোগীরা বিচার না পেয়ে অপমান বঞ্চনায় হীনবল হয়ে লাঞ্ছিত জীবন যাপন করছে। এ অবস্থায় ধর্ষণসহ বাংলাদেশে নারীর প্রতি নানাবিধ সহিংসতায় জাতিসঙ্ঘ উদ্বেগ জানিয়েছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, দ্রুত একের পর এক ভয়াবহ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই।

    সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের সদস্যরা স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করার পর সারা দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদের মধ্যে খবর পাওয়া যায়, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আশ্রয়ে থাকা আরেকটি চক্র বিবস্ত্র করে নোয়াখালীতে এক নারীকে বর্বর কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার নাম করে ওই নারীর ওপর ধর্ষণের উপর্যুপরি চেষ্টা চালায়। এক মাস ধরে এই দুর্বৃত্তরা তার ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে এলেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। সেটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হলে সারা দেশের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। এসব ঘটনার প্রতিকার ভুক্তভোগীরা পাবেন কি না তার নিশ্চয়তা নেই। সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি বিচ্ছিন্নভাবে এর প্রতিকার হবে বলে আশ্বাস দিলেও অতীত অভিজ্ঞতা এ কথা বলে না। এর মধ্যে প্রত্যেক দিন নতুন নতুন সহিংসতার খবর প্রকাশ পাচ্ছে। অর্থাৎ মানুষের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ অপরাধীদের অপরাধ দমনে কোনো কাজে আসছে না। এর জন্য দরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের ওপর থেকে ক্ষমতার ছাতা প্রত্যাহার করে নেয়া।



    সরকারের আশ্বাসের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ২০০১ থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে করা মামলার মাত্র ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ ক্ষেত্রে আদালতের রায় ঘোষিত হয়েছে। অপরাধীদের দণ্ডাদেশ ঘোষিত হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ মামলায়। হিসাবে দেখা গেছে, ৯৯ শতাংশের বেশি মামলায় অপরাধীরা কোনো শাস্তি পাচ্ছে না। এসব মামলা নিয়ে গবেষণা করলে দেখা যাবে, বিচারব্যবস্থার গতি কিভাবে রোধ করা হচ্ছে। সাদা চোখে দেখা যায় রাজনৈতিক প্রভাব। অপরাধী যদি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর কেউ হয় তাহলে সেই বিচার নিয়ে আর আশা থাকে না। সামান্য ক্ষেত্রে বিচারের যে নজির দেখা যাচ্ছে সেখানে আমরা দেখেছি রাষ্ট্রপতির কোটায় অপরাধীর গুরুদণ্ডের অপরাধ লঘু হয়ে যায়, কখনো সেটি একেবারে মাফ হয়ে যায়।

    এমন দেশে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতাসহ খুন, ধর্ষণ অপ্রতিহত গতিতে বাড়াটাই স্বাভাবিক। সর্বশেষ জানা গেল, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক নারীকে খুন করে চার টুকরো করা হয়েছে।
    সিলেটে ধর্ষণের ঘটনায় শুরুতে অপরাধীদের পক্ষে একটি রাজনৈতিক পক্ষকে সক্রিয় দেখা গেছে। তারা দুর্বৃত্তদের পালিয়ে যাওয়ার জন্য সুযোগ করে দেয়। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তাদের পক্ষে কাজ করায় হাতের মুঠোর মধ্যে থাকার পরও পুলিশ তাদের ধরতে পারেনি। বিচারের সমসাময়িক প্রবণতা দেখে তাই সবাই হতাশ। এত বড় অপরাধ করেও এরা শাস্তি পাবে না? কিছু দিন হয়তো জেলে থাকবে, সুযোগ মতো চার দিকে যখন নীরবতা নেমে আসবে অপরাধীরা শেষ পর্যন্ত ছাড়া পেয়ে যাবে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিচারের আশ্বাস একটা প্রহসনে পরিণত হয়েছে। যত বড় নেতাই হোন, তার পক্ষ থেকে যদি আশ্বাস দেয়া হয় মানুষ ধরে নেয় এটা কার্যকর হবে না। এই প্রবণতা বাংলাদেশে স্থায়ী রূপ পেয়েছে। মানুষ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যা বুলি ‘বিচার আপন গতিতে’ চলবেÑ একে আসল জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। বিচার বিভাগের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকেও সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক