• শিরোনাম

    নাগরিক দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

    | ০৭ জুন ২০২১ | ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 251 বার

    নাগরিক দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

    দেশের প্রধান দুই নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ফি বছর বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিপাকে পড়তে হয় জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষজনকে। একদা নিষ্কাশন নালা, খাল ও নদী দিয়ে আক্ষরিক অর্থেই অপসারিত হতো পানি। কিন্তু এসব প্রাকৃতিক প্রবাহ মুমূর্ষু হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এখন জলাবদ্ধতায় ভরপুর। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। আগে যেখানে আষাঢ়-শ্রাবণে এমন চিত্র দেখা যেত, এখন সেখানে জ্যৈষ্ঠেই এমন বিড়ম্বনায় পড়ছেন এই দুই নগরীর বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সর্বসাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা হলো তাদের। বর্তমান সময়ে একটু বেশি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা যেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীর অধিবাসীদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য মতে, গত মঙ্গলবার ঢাকায় সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্য দিকে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় ১০৩ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদদের মতে, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে ভারী, ১১ থেকে ২২ হলে মাঝারি, আর ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত বলা হয়।
    স্বল্পসময়ে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় এদিন ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় জনজীবন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এটি এড়ানো যেত, যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত থাকত। কিন্তু ঢাকা ও বন্দরনগরীর বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রগুলো ভরাট হয়ে গেছে। বেশির ভাগ খাল মরে গেছে; পুকুর, ডোবা ও জলাশয় দখল হয়ে গেছে। যে ক’টি এখনো টিকে আছে, তা-ও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। ফলে বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না।
    ভারীবর্ষণে সাময়িকভাবে পানি জমতেই পারে; কিন্তু তার জের ধরে দিনভর সড়কে প্রায় কোমরপানি জমে থাকবে কেন? প্রশ্ন হচ্ছে- দুই নগরীর অধিবাসীরা এ ভোগান্তি আর কতদিন সইবেন? গত বছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেও একাধিকবার এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন তারা। এবার জ্যৈষ্ঠেই সেই চিত্র শঙ্কা জাগিয়েছে- বর্ষা মওসুমের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। অথচ গত বছর জলাবদ্ধতার সময় বলা হয়েছিল, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে পানি নেমে যেতে পারছে না। কিন্তু এক বছর পরও সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতিহীনতা স্পষ্ট।
    শহর দু’টিতে নানা উন্নয়নকাজ চলছে। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। খালগুলো দখল ও দূষণের শিকার। জলাবদ্ধতার আরো একটি কারণ, পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার। যত্রতত্র পলিথিন ফেলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করা হয়েছে। এ থেকে উত্তরণের উপায় হলো পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করা। সেই সাথে সব খাল, পুকুর, ডোবা, জলাশয় দখলমুক্ত করা। নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করে পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা। একই সাথে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জনসম্পৃক্ত পরিকল্পিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ। টেকসই ও সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে এগোতে হবে।
    ঢাকা এবং চট্টগ্রাম প্রাকৃতিকভাবেই ছিল জলাবদ্ধতাবিহীন নগরী। এর চার পাশে ও অভ্যন্তরে প্রবাহিত একাধিক নদী এবং খালগুলো তো ছিলই; উপকণ্ঠজুড়ে ছিল বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। ফলে নগরী দু’টিতে জলাবদ্ধতা সহজ ছিল না। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী দখল, খাল ও নিম্নভূমি ভরাট সেই জলাবদ্ধতাকেই যেন নিয়তি করে তুলেছে।
    ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীর মানুষজন জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চায়। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ও সিটি করপোরেশনগুলোকে দৃঢ়সঙ্কল্পবদ্ধ হয়ে কার্যকর কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিদারুণ ব্যর্থতায় জনদুর্ভোগ দিন দিন অসহনীয় হয়ে পড়েছে। অথচ প্রতি বছরই জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি মেলে। কিন্তু পানি নেমে গেলে তা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। বরং বাড়তে থাকে জলাবদ্ধতার পরিধি ও স্থায়িত্ব। এখনো টিকে থাকা খালগুলো যদি সচল রাখা যায়, তাহলে জলাবদ্ধতা সহনীয় হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

    Facebook Comments Box



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

  • ফেসবুকে দশদিক