• শিরোনাম

    নৈতিক শিক্ষার বিকাশ জরুরি

    | ১৮ অক্টোবর ২০২০ | ৩:১৫ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 209 বার

    নৈতিক শিক্ষার বিকাশ জরুরি

    দেশে কোথাও কেউ যেন আর নিরাপদ নয়। যে ঘরকে আমরা সবচেয়ে নিরাপদ ভাবি, সেখানেও নির্মম খুনের শিকার হচ্ছেন অনেকে। শুধু তা-ই নয়, সন্তান-সন্ততিসহ হত্যার ঘটনাও ঘটছে। ফলে সমকালে পরিবার কিংবা সমাজে কেউই আর নিরাপদ বোধ করছেন না। পুরো দেশটাই যেন হয়ে উঠছে বিপদসঙ্কুল আর নিরাপত্তাহীন। এ ক্ষেত্রে দায়ী সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় আর আইনশৃঙ্খলার অবনতি। আমাদের সামগ্রিক মূল্যবোধের যে অবক্ষয় ঘটেছে; সে চিহ্ন স্পষ্ট।

    সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণের মতো পাশবিক ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষণীয়। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ধর্ষণ নিয়ে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভালো।
    স্বামীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে নববধূকে কিংবা কন্যাশিশুকেও দলবেঁধে ধর্ষণ করছে নরপশুরা। দুঃখ ও দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এই ভয়াবহ প্রবণতা না কমে বরং বাড়ছে। প্রশ্ন হলো, কেন এমন হচ্ছে? ধারণা করা অমূলক নয় যে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার সাথে এই পরিস্থিতির উদ্ভবের একটি সংযোগ থাকতে পারে। কিন্তু সমাজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং তা বজায় রাখার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তারা নিজেদের দায়িত্ব পালনে উদাসীন। অথবা গোষ্ঠীস্বার্থে মৌনতা অবলম্বন করাকেই শ্রেয় মনে করছেন তারা; যা তাদেরকে নিষ্ক্রিয় থাকতে বাধ্য করছে। এমনটি হয়ে থাকলে তা গোটা জাতির সবার জন্য অমঙ্গল বয়ে আনতে বাধ্য।



    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুধাবনে শুধু গত বৃহস্পতিবার দেশের তিন জেলায় ঘটে যাওয়া তিনটি ঘটনা আমরা নমুনা হিসেবে নিতে পারি। তাতে সবার কাছে স্পষ্ট হবে; আমাদের সমাজে নিষ্ঠুরতা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার কলারোয়ায়। সেখানে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা গ্রামে ভিকটিমের ঘরে ঢুকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই শিশুসন্তান। শুধু বেঁচে আছে হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই দম্পতির দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুটি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, ডাকাতি করার জন্য নয়, এটি ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের আপন ছোট ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে প্রতিবেশীদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধের কথাও আলোচনায় এসেছে।

    দ্বিতীয় ঘটনাস্থল ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল। সেখানে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা লাশ তিনটি মা, ছেলে ও মেয়ের। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যার ঘটনা তা পরিষ্কার নয়। ওই পরিবারে অভাব অনটন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত গৃহবধূর শ্বশুর, ননদ ও স্বামীকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
    তৃতীয় ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর সদর উপজেলার চরাঞ্চলে। চাচাশ্বশুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য চাচাশ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ।
    এসব ঘটনা প্রমাণ করে, আমাদের সামগ্রিক সামাজিক অবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। পুরনো মূল্যবোধগুলো বোধ হয় আর কাজ করছে না। বলা যায়, সামাজিক ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আমরা। পাশাপাশি দেশে আইনের শাসন দুর্বল হওয়ায় অনেকের মধ্যে বেপরোয়া ভাব লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। অপরাধীরা আইন-আদালত বা শাস্তির ভয়ে সংযত থাকছে না। তারা ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করছে। একই সাথে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতার উত্তাপে অপরাধ করে অপরাধীরা ছাড় পাওয়ায় দেশে একধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বলে অনেকের অভিযোগ। ফলে দেশে সামাজিক বিপর্যয় সর্বগ্রাসী হয়ে উঠছে।

    এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় হলো, দেশে কঠোরভাবে আইনের শাসন বলবৎ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। যেসব কর্মকাণ্ড নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে কার্যকর সেগুলোর বিকাশে তৎপর হওয়া। আর নগ্নতা, অশ্লীলতা, অনৈতিকতা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া। তবেই এমন রাহুর কবল থেকে মুক্তি মিলতে পারে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক