• শিরোনাম

    নৌকা ভ্রমণ: আনন্দের নামে অশ্লীলতা

    | ২৬ আগস্ট ২০২১ | ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 414 বার

    নৌকা ভ্রমণ: আনন্দের নামে অশ্লীলতা

    দৃশ্যটা সুন্দর! আকাশে রোদ্র-ছায়ার খেলা। মেঘের ভেলা। নদীর পানিতে সুর্য কিরণের আলো-ছায়া। দুপাশে গাছের সারি। নদীর বুকে ভেসে যাচ্ছে নৌকা। ইঞ্জিনচালিত। গানে-আনন্দে উচ্ছ্বসিত নৌকার যাত্রীরা। আপাত দৃষ্টিতে এটি নিরীহ দর্শন নৌকাভ্রমণ মনে হলেও ভেতরের দৃশ্যটা মোটেও শ্লীল নয়, কুৎসিত কাণ্ডে ভরপুর।

    গাজীপুরের তুরাগ নদ, মকস বিলসহ আশপাশের নদীগুলোতে নৌকা ভ্রমণের নামে চলছে এমন অশ্লীলতা। বিনোদনের নামে উচ্চ শব্দে গান বাজানো থেকে শুরু করে মেয়েদের নিয়ে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। নৌকায় মধ্যেই অবাধে চলে মাদক সেবন ও অশ্লীল নৃত্য। এসব নিয়ে প্রায়ই এলাকাবাসীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদের ঘটনাও ঘটছে।



    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কড্ডা, মজলিশপুর, ভাওয়াল মির্জাপুর, সাকাশ্বর, চা-বাগান এলাকার তুরাগ নদের অংশ ও কালিয়াকৈর বাজারের চাপাইর ব্রিজ এবং বরইবাড়ি ও মকস বিলের বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন নৌকা ভ্রমণে আসছে ভ্রমণ পিয়াসীরা।

    ইঞ্জিন চালিত নৌকায় বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সী তরুণদের আড্ডাই বেশি। নৌকাগুলি মাঝ নদীতে পৌঁছলে শুরু হয় মাদকসেবন আর অশ্লীল নৃত্য। এসব নৌকায় উচ্চস্বরে গান বা বাজনার সঙ্গে মেয়েরা নেচে মাতিয়ে তুলছে। বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে বাক বিতণ্ডা ও ঝগড়া বিবাদের সৃষ্টি হচ্ছে।

    নদী পাড়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকা ভ্রমণে ও পিকনিকের নামে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও ট্রলারে ৪-৫ জন অশ্লীল পোশাক পরা মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করে। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি ট্রলারে উচ্চশব্দে গান বাজানো ও আতসবাজি ফুটিয়ে নষ্ট করছে নদী এলাকার পরিবেশ।

    কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘নৌকা ভ্রমণ বা পিকনিক বিনোদনের অংশ। তবে এখন পিকনিকের নামে যেসব অসামাজিক কার্যকলাপ দেখছি তা আমাদের সমাজের নতুন প্রজন্মের ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিলে এসব থামবে।’

    কড্ডা এলাকার আবুল হাসান বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে সন্ধ‌্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও ট্রলারে উঠতি বয়সের ছেলেরা আসে। তারা উচ্চশব্দে গান বাজায়। মেয়ে নিয়ে নাচানাচি করে। এছাড়াও নৌকার মধ্যে চলে মাদক বেচাকেনা। এসব বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।’

    কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কয়েকবার অভিযানও চালানো হয়েছে। অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৯ এপ্রিল ২০২০

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ১৪ জুলাই ২০১৯

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

  • ফেসবুকে দশদিক