• শিরোনাম

    ফাঁকা বাসায় নাড়িভুঁড়ি বের করে খুন করা হয়েছে মুন্নাকে

    | ২৫ জুলাই ২০১৯ | ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 1195 বার

    ফাঁকা বাসায় নাড়িভুঁড়ি বের করে খুন করা হয়েছে মুন্নাকে

    টঙ্গীতে বুধবার সকালে ফ্ল্যাট বাসায় ঢুকে অসুস্থ এক স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিতহের নাম তসিফুল ইসলাম মুন্না (১৫)। সে রাজধানীর উত্তরায় শাহীন ক্যাডেট একাডেমীর ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। অসুস্থ থাকায় স্কুল হোস্টেল থেকে তাকে বাসায় এনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

    নিহত মুন্নার মা মুকুল আক্তার জানান, তিনি সকাল পৌনে ৮টায় মুন্নাকে একা বাসায় রেখে ছোট ছেলেকে নিয়ে পাশের আবু তালেব মডেল একাডেমীতে যান। সকাল ১০টায় স্কুল ছুটি শেষে ছোট ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফিরে দেখতে পান, ফ্ল্যাটের বাহির দিক থেকে দরজায় সিটকিনি আটকানো। তিনি দরজা খুলে ভেতরে ঢুকেই মুন্নার নিথর দেহ খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বিছানায় ছেলে মুন্নার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আছে এবং কণ্ঠনালী কাটা অবস্থায় দেখতে পান। এ অবস্থা দেখে তিনি আত্মচিৎকার শুরু করেন। পরে তিনি দেখতে পান রুমের সুকেজ ভাঙ্গা। দুবৃত্তরা ২টি মোবাইল সেট ও সুকেজে রক্ষিত মুন্নার অত্যাধুনিক ডিএসএলআর ক্যামেরাটিও লুটে নিয়েছে। এদিকে মুন্নার মায়ের আত্মচিৎকার শুনে পাশের ফ্ল্যাট ও অন্যান্য প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়।

    মুন্নার বাবা মিজানুর রহমান জানান, তার তিন ছেলের মধ্যে মুন্না মেজো। বড় ছেলে ডিপ্লোমা পাস করে ইন্টার্নি করছে। ছোট ছেলে স্থানীয় গাজীপুরা আবু তালেব মডেল একাডেমীতে নার্সারিতে পড়ে। মুন্নার শরীরে জ্বর উঠায় গত ১৮ জুলাই তাকে স্কুল হোস্টেল থেকে বাসায় আনা হয়। বাসায় তার চিকিৎসা চলছিল। ঘটনার সময়ও মুন্নার শরীরে জ্বর ছিল।

    এদিকে এ হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পুলিশ লাশের পাশ থেকে রক্তমাখা একটি বটি দা ও ক্রিকেট খেলার ব্যাট উদ্ধার করেছে। ময়না তদন্তের জন্য মুন্নার লাশ গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এবং কি কারণে মুন্নাকে হত্যা করেছে এব্যাপারে তাৎক্ষনিকভাবে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবে ডাকাত দল অথবা সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে আইন শৃংখলা বাহিনীর ধারণা।

    এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় গলা কাটা বা মাথা কাটার গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। শত শত উৎসুক জনতা বাড়িটির চারপাশে ভীড় করছে। নিহত মুন্নার বাবা রাজধানীর বনানীতে একটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিসে চাকরি করেন। তাদের বাড়ি পটুয়াখালি জেলার বাউফল থানার ধানদি গ্রামে। তারা টঙ্গীর গাজীপুরা জনৈক হাবীবুর রহমানের পাঁচ তলা চন্দ্রিমা হাউজের ৪র্থ তলায় ভাড়া থাকেন। ওই এলাকায় তারা প্রায় পনের বছর ধরে বসবাস করেন।

    এ হত্যাকন্ডের ঘটনায় মুন্নার বাবা মিজানুর রহমান (জাহাঙ্গীর) বাদী হয়ে জিএমপির টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, আমরা ঘাতকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক