• শিরোনাম

    বন্যায় নষ্ট হচ্ছে খেতের ফসল, পানিবন্দি লাখো মানুষ

    | ১৫ জুলাই ২০১৯ | ১১:১১ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 89 বার

    বন্যায় নষ্ট হচ্ছে খেতের ফসল, পানিবন্দি লাখো মানুষ

    ভারী বর্ষণে  পাহাড়ধসে স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জন নিহত এবং তীব্র স্রোতে পানিতে ভেসে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

    প্রধান নদীগুলোতে পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও বিরামহীন বৃষ্টিতে নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বেড়ে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা ছাড়া দেশের সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
    গাইবান্ধায় বাগুড়িয়া বাঁধ ভেঙে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, ডুবে গেছে ৩০০ হেক্টর জমির ফসল। বন্যার প্রভাবে কুড়িগামে ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি, কুড়িগ্রামের উলিপুরে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি আর ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধির কারণে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ২০টি গ্রাম প্লাবিত, ভাঙন ধরেছে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে। টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পানিবন্দি হাজারো মানুষ। আমাদের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের সংবাদে এসব তথ্য জানা গেছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া ইত্তেফাককে জানান, দেশের প্রধান নদীর পানি ২৫টি পয়েন্টে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামীতে বন্যা পরিস্থিতি দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরও খারাপ হতে পারে।

    পাহাড়ধসে তিন জনের মৃত্যু, পানিতে ভেসে গেছেন দুই জন

    কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়িতে পাহাড়ধসে স্বামী মোহাম্মদ ছাদেক ও তাঁর স্ত্রী ওয়ালিদা বেগম পুতুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের বমুরকুল এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছাদেক পেশায় একজন দিনমজুর। পার্বত্য বান্দরবানের লামায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ছয়-সাত জন। শনিবার গভীর রাতে ভরী বর্ষণে পাহাড়ধসে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে লামা সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মধু ঝিরিতে পাহাড়ধসে নুরহাজান বেগম নামের এক বিধবা নারী মারা গেছেন।

    অপর দিকে, কক্সবাজারের চকরিয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানির স্রোতে পড়ে রাস্তা দিয়ে পারাপারের সময় মোহাম্মদ রাজু নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। রবিবার সকালের দিকে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের জকরিয়া সড়কের আটারকুম নামক এলাকায় বন্যার পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজের এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ যুবক উপজেলার দিয়ারচর এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। এদিকে, সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে এক পাথর শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে।

    বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তত্সংলগ্ন ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের বিস্তৃত এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি, ভারী ও অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। সেইসঙ্গে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদী সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে। সেইসঙ্গে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রমা, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্য পরিস্থিতির অবনিত হতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের নদীর পানি ২৫টি পয়েন্টে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

    গত কদিনের বৃষ্টি ও পার্শ্ববর্তী দেশের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে জামালপুরে বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, বকসিগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ি এই সাতটি উপজেলার মধ্যে ২৯টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলী, সাপধুরী, পার্থর্শী, নোয়ারপাড়া, ইসলামপুর সদর, পলবান্দা ও ইসলামপুর পৌরসভার সিংহভাগ এলাকা এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী, চিকাজানী, বাহাদুরাবাদ, চরআমখাওয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

    নেত্রকোনার তিন উপজেলা প্লাবিত

    টানা চারদিনের ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার দুর্গাপুর, বারহাট্টা ও কলমাকান্দার প্রায় ১৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় সবকয়টি ইউনিয়নই প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় তিন উপজেলায় অন্তত তিন শতাধিক গ্রামে প্রায় ৫০ হাজারের মতো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে।

    গাইবান্ধায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

    গাইবান্ধায় রবিবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া এলাকায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট ধসে গেছে। এতে বাগুড়িয়া গ্রামের সাত শতাধিক বাড়িঘর এবং ঐসব এলাকার বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রবিবার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ফলে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধার সদর উপজেলার ১১৩টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৪ জুলাই ২০১৯

    ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক