• শিরোনাম

    ভাষার দক্ষতাই জাপানে চাকরি ও শিক্ষার প্রধান যোগ্যতা

    | ০৪ মার্চ ২০১৯ | ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 435 বার

    ভাষার দক্ষতাই জাপানে চাকরি ও শিক্ষার  প্রধান যোগ্যতা

    গত একদশক ধরে ক্রমাগত হারে জনসংখ্যার নিন্মগতি জাপানের অর্থনীতির জন্য মারাত্বক হুমকি হিসেবে দাড়িয়েছে। বিশ্ব জনসংখ্যা রিভিউইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১০ সালে জাপানের জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৫ লক্ষ যা ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৫ লক্ষতে। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে কতটা মারাত্বক হয়ে দাড়িয়েছে এই জনসংখ্যা সমস্যাটি। ভবিষ্যতে জনসংখ্যার বাড়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকার পাশাপাশি কেবল কমে চলেছে জাপানের জনসংখ্যা।  ২০৬০ সাল নাগাদ আরো এক-তৃতীয়াংশ কমে দাঁড়াবে মাত্র ৮৭ মিলিয়ন। আর তখন ৪০ শতাংশেরও বেশি লোকের বয়স থাকবে ৬৫ বছরের বেশি। অস্বাভাবিক হারে জনসংখ্যা কমে যাওয়াতে নানাবিধ সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে জাপানে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে ‘কদোকুশি’ বা একাকী মৃত্যু। এই চলমান পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে জাপান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে সম্ভাবনাময় দক্ষ জনশক্তি কে জাপানে চাকরি ও শিক্ষা অর্জনে উত্সাহিত করতে। এই দেশগুলোর তালিকার মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফিলিপাইনের নাম। জাপানের গ্লোবাল ৩০ ভিশন অনুযায়ী জাপান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেবে। এই সুযোগ বাংলাদেশের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। জাপানে বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানি ভাষা জানা ও কারিগরি দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছেন টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। সম্প্রতি টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে জনশক্তি নিয়োগ ও সরবরাহ খাতসংশ্লিষ্ট বেসরকারি কর্মী প্রেরণ সংস্থার প্রতিনিধি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ওই দুটি বিষয়ের ওপর জোর দেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপানে জনসংখ্যা ও জনবল দিন দিন কমছে। কিন্তু বাংলাদেশে জনশক্তির প্রাচুর্য রয়েছে। তাই জাপানে বাংলাদেশের দক্ষ জনবল পাঠানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কার্যকর নীতি, কৌশল, সুদক্ষ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জাপানে কাজ করার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাপানি ভাষা ও নিয়ম-শৃঙ্খলার জ্ঞান এবং কর্মঠ হতে হবে। জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বাংলাদেশের সুনাম বজায় রেখে, স্বল্প খরচে এবং সরকারি বিধি-বিধান মেনে এ দেশ থেকে জাপানে আরো বেশি জনশক্তি নেওয়ার ওপর জোর দেন। এ বিষয়ে তিনি জাপান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই এবং সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর জাপান সফরের কথাও উল্লেখ করেন। সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, জাপানে তথ্য-প্রযুক্তি, সেবা প্রদানকারী, নির্মাণশিল্প, কৃষি, জাহাজ নির্মাণ, ওয়েল্ডিং, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হোটেল সেবা ইত্যাদি খাতে জনবলের চাহিদা রয়েছে। তাঁরা বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি পর্যায়ে লোক নিয়োগ উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা, ধারণা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত তাঁদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    Facebook Comments



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৬ জানুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক